Home / শিল্প-সাহিত্য / কবি টিপু রহমানঃএকজন শক্তিমন্ত কবি

কবি টিপু রহমানঃএকজন শক্তিমন্ত কবি

14344703_1851884261741339_3731998921621698350_n

ধূমকেতু অনলাইন প্রতিবেদকঃ নজরুলের গুটি কয়েক কবিতা,- “খেয়াপারের তরনী” পড়ে, – কবিকে না দেখেই প্রখ্যাত সমালোচক মোহিতলাল মজুমদার নজরুলকে চিহ্নিত করেছিলেন এক অনন্য সাধারণ কবি হিসেবে। স্বীকার করতেই হয়, সেটা ছিল ঔদার্যের যুগ। কিন্তু আজ সেই ওমর ফারুকও নেই,- নেই আগের সেই মদিনাও।
এখন তো আত্মচর্চা আত্মরতির রূপ নিয়েছে। শিল্পচর্চার বদলে পরচর্চা এখন শেকড় গেড়েছে,- সবখানে। তাছাড়া, গোষ্টিপ্রীতি, আদর্শীক লড়াই আর দলাদলি তো আছেই। ইদানিং আরো একটা ব্যাধির প্রাদুর্ভাব ঘটেছে আমাদের শিল্পসংস্কৃতি তথা মননিক অঙ্গনে। আমরা যারা রাজধানীতে বসবাস করি, তাদের মধ্যে অনেকেই ভুলে যাই ঃ রাজধানীর বাইরে, মফস্বল শহরে, এমন কি, নিভৃত পল্লীতেও সৃজনশীল প্রতিভা থাকতে পারে; এবং বস্তুত আছেও।
আরো একটা সমস্যা সম্প্রতি প্রকট আকার ধারন করেছে। আর তা হলো ঃ অগ্রজরা অনুজদের সম্পর্কে কিছু লেখাতো দুরের কথা, এতোটুকু স্বীকৃতিদানেও কুন্ঠাবোধ করেন। সেই সঙ্গে “দাও এবং নাও” নীতি তো রয়েছেই। এতসব সত্তেও, প্রকৃত সত্য এবং বাস্তবতা হলো- ফুল ফুলই। অনুভূতিহীনেরা না পেলেও, অন্যেরা তার সৌরভ পাবেই।
টিপু রহমানের মধ্যে লুকিয়ে আছে উত্তরকালের এক শক্তিমন্ত কবি। জীবন ও যুগযন্ত্রনার অনবদ্য শৈল্পিক প্রকাশ টিপু রহমানের কবিতাকর্মে আমরা প্রত্যক্ষ করি। স্বাধীনতাউত্তর কালে জন্ম তাঁর ; কিন্তু অবিশ্বাস্য রকম ভাবে তিনি কবিতার আঁধারে ধারন করেন তাঁর পায়ের তলার মাটি এবং চারপাশের গণমানুষকে। দেশ-সমাজ-কাল তাঁর কবিতায় হয়ে ওঠে রক্তাক্ত দ্রোহের ধ্রুপদী প্রতীক। ব্যক্তিচৈতন্যের বহুবর্ণিল ভাবনাকে তিনি পরিবেশেন করেন নৈব্যক্তিকতার আবহে ; তাই, টিপু রহমানের কবিতা বিশেষ হয়েও নির্বিশেষ এবং কালিক হয়েও চিরন্ততার রূপ পরিগ্রহ করে। টিপু রহমানের কবিতা প্রেম ও প্রতিবাদী চেতনার শাশ্বত দীপাবলি।
বলাবাহুল্য, এসব বৈশিষ্টই হলো একজন মহৎ কবির।
“ যে বুলেটবিদ্ধ হয়ে আমি আমার
—— পা টি হারিয়েছি, যে
উম্মুক্ত রাইফেলের সামনে আমার
বোনের ইজ্জত লুটেছে ঘাতকেরা, যে
ককটেলের আঘাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের
হাত ঘুরে বাবাকে বধ করেছে——
‌যে মর্টারের গোলায় ভাই মরেছে আমার এবং
এমনি অস্ত্রের পর পর বিধ্বংসী জয়োল্লাস দেখে
মা মরেছে স্ট্রোক করে হঠাৎ——
তারপর অস্ত্রকে ভয় করতে ভুলে গেছি, অস্ত্রের ঝনঝনানি
এখন নূপুরের ধ্বনির মতোই ঠেকে ! ইদানিং
প্রেয়সীকে ফুল ফেলে কিছু কিছু বিস্ফোরক উপহার দিয়েছি
আর মা-বাবা, ভাই-বোনের কবরে অশ্রুর বদ‌লে দিয়েছি কিছু তাজা বুলেট
অার অস্ত্রের প্রতিশ্রুতিশীল আশির্বাদ কিছু—–”
– ( চারপাশে আমার অস্ত্র ঃ টিপু রহমান দৈ‌নিক অাজাদ)
উত্তরকালের এক মহৎ কবিপ্রতিভার স্বর্ণালী স্বাক্ষর টিপু রহমান এরই মধ্যে রেখেছেন। সংশপ্তক কবি টিপু রহমান,- যিনি মানব প্রেমে উৎসর্গিত অনিকেত,- তিনিই বলতে পারেন ঃ “ অস্ত্রের ঝনঝনানি এখন নূপুরের মতই ঠেকে।” বিশেষ করে, “ ইদানিং প্রেয়সীকে ফুল ফেলে কিছু কিছু বিস্ফোরক উপহার দিয়েছি ;- এই উচ্চারণ অবশ্যই একজন রক্তাক্ত কবির এবং তা আশ্চর্য সুন্দর। কবি অন্যত্র বলেন ঃ
“চির ফেরারি কাকও তো যখোন গোধুলি আসে
সামনে রেখে রাত ঘরে ফিরে প্রতিনিয়ত
অথচ আমার ঘর নেই, ঠিকানা নেই
নেই কোন পড়শী-প্রতিবেশী চেনামুখ
চলে গেছে সবাই যে যার পথে
কোথায় যাবো ? ———–
সম্প্রতি ‌যেখা‌নে নিলামে ইজ্জত বিকায় বোন—–”
(ফেরারী আমি)
এসব চরনগুচ্ছে আমরা যে একটি ক্ষতবিক্ষত, আহত ব্যক্তিসত্তার ছবি সুস্পষ্ট হতে দেখি, তিনি ব্যক্তি টিপু রহমান নন অবশ্যি। মূলত বর্তমান প্রজন্মের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাজাত চৈতন্যের শোনিতে স্নাত বলেই এসব কবিতা হয়ে ওঠেছে মর্মভেদী, একই সঙ্গে লক্ষ্যভেদীও। এ সব শুধু একজন “গুলিবিদ্ধ যুবকের আর্তনাদ “ নয়। এ যেনো শোষিত বিশ্বের মাটি ভেদ করে গর্জে ওঠা আগ্নেয়গিরি। “আগামী কোন এক সকালে” মানুষের বাস যোগ্য একটি
পৃথিবীর দেখা পাবে মানুষ,- এমন স্বপ্নই শুধু লালন করেন না টিপু রহমান, বরং সেই – পৃথিবী বিনির্মাণের জন্যে তিনি চেতনার প্রতিটি রক্তবিন্দু দিয়ে তৈরী করে চলেছেন শব্দসিঁড়ি, কবির নিজস্ব ভাষায় “তাজা বুলেট”।
অবশ্য একজন ক‌বি যি‌নি জন্মগত ভা‌বেই গোলাপ‌ের পূজারী, তি‌নি কেন অস্ত্র হা‌তে তু‌লে নেন, তা স্পষ্ট হয় উ‌ঠে‌ছে এখা‌নে। টিপু রহমান তাঁর “ভাত চাই” ক‌বিতায় ব‌লেনঃ
“অব‌শে‌ষে এই সভ্যতা ও স্বাধীনতার মুখে ক‌ষ্টের থু_ থু ছিটিয়ে
উদ্যত অা‌মি না হয়
বজ্র হা‌তের থাবায় অাজরাইল থে‌কেই
ছি‌নি‌য়ে নে‌বো একমু‌ঠো …. ভাত।”
‘গাঁজার ধূসর ধোঁয়ায় বিধ্বস্ত মানুষ’ _ এর অন্তদাহ টিপ‌ু রহমানকে প্র‌তিবাদী ক‌রে‌ছে। নিরন্ন ক্ষুধার্ত, শো‌ষিত মানু‌ষের অাত্মার রক্তাক্ত গানই হ‌লো টিপু রহমা‌নের ক‌বিতা।
জীবন বিস্ময় ও জীবন জিজ্ঞাসা, মানুষ ও মৃত্তিকা, নাগ‌রিক জ‌টিলতা, প্রেম ও প্রকৃতি, কান্না ও দ্রোহ টিপু রহমানের কবিতায় বাঙময় হয়ে ওঠে,- হয়ে ওঠে গীতিচিত্র রূপকল্পময় এক একটি সুচারু বাকপ্রতিমা। শিল্পের জন্য শিল্প নয়, বরং মানুষের জন্যেই তিনি শিল্প সাধনা করেন ; মানুষই তাঁর প্রেম, মানুষই তাঁর ধ্রুব ও সাধনা। সত্যিকার অর্থেই,- টিপু রহমান এক বিরলপ্রজ কবি। তাঁর ক‌বিতাব‌লি ব্যক্তিক হ‌য়েও নৈক্ত‌িক আব‌হে লা‌লিত হ‌য়ে শৈল্প‌িক অবয়ব লাভ ক‌রে, বি‌শেষ হ‌য়েও তা নি‌র্বি‌শেষ এবং কা‌লিক হ‌য়েও মহাকালের খোরাক।
টিপু রহমান কোন দশ‌কের ক‌বি, এ পর্যন্ত তাঁর ক’টি ক‌বিতা কিংবা । কাব্য গ্রন্থ প্রকা‌শিত হ‌য়ে‌ছে, অথবা অা‌দৌ কোন গ্রন্থ প্রকা‌শিত হ‌য়ে‌ছে কি না, অন্য যে কোন মহৎ মেধাবী ও সৃ‌ষ্টিশীল ক‌বির ম‌তো, _‌টিপু রহমানের ক্ষে‌ত্রেও সেই সব জিজ্ঞাসার তেমন কোন মূল্য নেই অামার কা‌ছে। কারন স‌ত্যিকা‌রের ক‌বি‌দের ক‌বিতাক‌র্মের মূল্যায়‌নে স্বরূপ অ‌ন্বেষায়, তাঁর, শ‌ক্তি ও সম্ভাবনা অা‌বিষ্কা‌রে, সমকা‌লের প্রেক্ষাপ‌টে তাঁ‌কে শনাক্তকর‌নে, তাঁর বোধ ও বো‌ধির অন্ত‌র্লোক সমীক্ষ‌নে, তাঁর ব্য‌ক্তি ও শিল্পমানস বিচার এবং সর্বপ‌রি, তাঁর কাব্যকৃ‌তির নন্দনতা‌ত্ত্বিক বি‌শ্লেষ‌ণে ক‌বিতা কিংবা কাব্যগ্রন্থ প্রকাশনার সংখ্যাতা‌ত্ত্বিক জ‌রিপ সমা‌লোচক‌দের কা‌ছে কোনোকা‌লেই অপরিহার্য বি‌বে‌চিত হয়‌নি।‌টিপু রহমা‌নের ক্ষে‌ত্রেও অামরা তা অপ‌রিহার্য ম‌নে ক‌রিনা।জীবনানন্দ দাশ যে _অ‌র্থে ব‌লেন ঃ ক‌বিতা অ‌নে‌কেই লে‌খে, কেউ কেউ ক‌বি, সেই অর্থেই, টিপু রহমান ক‌বি। এবং টিপু রহমান অাপাদমস্তক ক‌বি।
‌মেধা ও প্রজ্ঞা মনন ও প্র‌তিভা এবং সহজাত শিল্পীমনস্কতার এক শৈ‌ল্পিক সমন্বয় র‌য়ে‌ছে টিপু রহমানে। টিপু রহমানে অামরা প্রত্যক্ষ ক‌রি বোধ ও বো‌ধির শি‌ল্পিত সঙ্গ‌মের পাশাপা‌শি অপ‌রি‌মেয় সৌন্দর্য‌পিপাসা এবং ম‌নো‌দৈ‌হিক অানন্দ _ বেদনা_ মিলন_‌বিরহের বহু‌বি‌চিত্র ও বহুব‌র্নিল অ‌ভিব্যঞ্জনা,_ দ্যো‌তি‌বিভূ‌তি। কবি তাঁর অন্তগত চৈত‌ন্যের গভী‌রে সয‌ত্নে লালন ক‌রেন প্রেম ও দ্রোহ। অন্যভা‌বে, বলা যায়, মানুষ ও মৃ‌ত্তিকা টিপু রহমা‌নের শিল্পীসত্তারই নামান্তর। শব্দ চয়‌নে বাকভ‌ঙ্গি ও অ‌ঙ্গিকশৈ‌লি এবং গী‌তিচিত্র রুপকল্প বি‌নির্মা‌নে টিপু রহমান ইর্ষনীয় ভাবে কুশলী; এবং তাঁর কা‌লের ক‌বি‌দের থে‌কে তাঁ‌কে সহজেই অালাদা করা যায়, শনাক্ত করা যায়,
য‌দিও এক‌টি নিজস্ব ক‌বিভাষা এবং স্বতন্ত্র ক‌বিতা‌লোক তৈরির জন্য, ‌টিপু রহমান‌কে এখন থে‌কেই রক্তক্ষয়ী শ্রম দি‌তে হ‌বে, কর‌তে হ‌বে অাত্মমগ্ন দুর্মর সাধনা।
ই‌তিহাস ও ঐ‌তিহ্য‌চেতনা, _ যা‌কে অামরা শেকড় মনস্কতাও বল‌তে পা‌রি,_ টিপু রহমা‌নে তা শুরু জন্মসূ‌ত্রেই অা‌সে‌নি,_ বরং মননচর্চায় ঋদ্ধ হ‌য়েই ইতিহাস ও ঐ‌তিহ্যকে তি‌নি ক‌রেন তাঁর ক‌বিতার অনুষঙ্গ।
ভা‌লোবাসা, টিপু রহমানের এক‌টি অসম সাহসী উচ্চারণ। ক‌বি যখন ব‌লেনঃ
“ভা‌লোবাসা সে এম‌নি এক বলয় যেখা‌নে নেই‌ প্রশ্নের অবকাশ নেই কোনো অস্পৃশ্যতা কিংবা কোন গ‌ন্ডি; ভা‌লোবাসা সে এক সীমাহীন মেঠোপথ।
গা‌ছে_ ঘা‌সে ঢাকা পাখিদের মৌতাত…
ভা‌লোবাসা লাগামহীন কোন ঘু‌ড়ির ম‌তো, ভা‌লোবাসা উদার এক অাকাশ ভা‌লোবাসা য‌তো অশ্লীলতার মা‌ঝে প‌বিত্রতার নিশান।
ভা‌লোবাসা সমু‌দ্রের উদাত্ততা, … ভা‌লোবাসা …. সৃ‌ষ্টির বর্ষণ …. ভা‌লোবাসা নর‌কের মা‌ঝে সু‌খের পদ‌চিহ্ন….”
_ ( ‘ভা‌লোবাসা, সাপ্তাহিক সমাজকন্ঠ, ১০ বর্ষ ৫ সংখ্যা )
_তখন অামরা শাশ্বত স‌ত্যের স্বর্না‌লি দ্বী‌পে ক‌বির নবজন্ম প্রত্যক্ষ ক‌রি। হা, অব‌শ্যি নবজন্ম, উত্তরণ নয়। কারন, রক্ষণশীল এ সমাজে নি‌র্ভেজাল রৌদ্রা‌লোকে অবগাহন নবজন্ম বৈ‌কি।
নজরুল‌প্রিয়া সৈয়দা না‌র্গিস অাসার বেগম বিদ্যা‌বি‌নো‌দিনী‌কে টিপু রহমান নি‌য়ে এ‌সে‌ছেন তাঁর ‘ভা‌লোবাসার ছোঁয়া’র সমগ্র অবয়‌বেঃ
” এক তৃষ্ণার্ত ক‌বি
দুর্মর ভা‌লোবাসার ছোঁয়ায় তোমা‌কে সিক্ত ক‌রে‌ছি‌লো_ প্রেমের অশরী‌রি নির্যাসে তোমা‌কে অান্দ‌লিত ক‌রে‌ছিল _ দূর্ভাগ্যের হাত ধ‌রে, সৃ‌ষ্টির মশাল হা‌তে ফেরা‌রি বেদুঈ‌নের ম‌তো ইরানী গুল্মফুল তোমা‌কে কুড়াতে চে‌য়ে‌ছি‌লো অাপন ক‌রে, কিন্তু সহসা বি‌চ্ছিন্নতার কা‌লোছায়া দি‌লো হাতছা‌নি…
য‌তো অস্পৃশ্যতার অা‌লো_ অাঁধারি‌তে হৃদয় বিরুদ্ধ বল‌য়ে কে‌টে গে‌লো একটানা স্বর্নালী অধ্যায়; তারপর অ‌পেক্ষার অখন্ড ক‌ষ্টের মা‌ঝে কে‌টে গে‌লো সুদীর্ঘ স‌তে‌রো‌টি বছর তোমার যখন যৌবনের উত্তাল তরঙ্গ…
এর ব্যথা এর কষ্ট ক‌তো যে ব্যাপ্ত ক‌তো যে গভীর, তা ওই পিশাচরা কিভা‌বে বুঝ‌বে
যারা বাসর রা‌তে_ ফুলশয্যা হ‌তে ছি‌নি‌য়ে নি‌য়ে‌ছে তোমার স্ব‌প্নের পুরুষ‌কে…”
না‌র্গিস_নজরু‌লের হিরন্ময় অমর প্রেমই নয় শুধু, না‌র্গিস_নজরুল ট্রা‌জে‌ডির পাশাপা‌শি যারা ‘বাসর রাতে_ফুলশয্যা হ‌তে, না‌র্গিসের ‘স্ব‌প্নের পুরুষ’ নজরুলকে ছি‌নি‌য়ে নিয়ে‌ছি‌লো, তা‌দের প্র‌তি উত্তরপ্রজ‌ন্মের একজন ক‌বির প্রচন্ডতম ঘৃণা কাব্যসুষমা পে‌য়ে‌ছে এ_ ক‌বিতায়। অার তা শুধু ই‌তিহাস_ঐ‌তিহ্যস‌চেতনতার কার‌নেই সম্ভব হয়‌নি, বরং শু‌চিশুভ্র সংবেদনশীলতার সুবাতাসে টিপু রহমা‌নের ব্য‌ক্তিমানস লা‌লিত ও ব‌র্ধিত ব‌লেই তা কুসু‌মিত হ‌য়ে উ‌ঠে‌ছে।
টিপু রহমা‌নের প্রকৃত নাম_‌মোঃ অাতাউর রহমান ( টিপু )। ১৯৭২_ এর ১৩ অক্টোবর ময়মন‌সিংহ হাসপাতা‌লে জন্মগ্রহণ কর‌লেও ব্রাক্ষনবা‌ড়িয়া জেলার নবীনগর উপ‌জেলার নোয়াগাঁও হ‌লো টিপু রহমা‌নের পিতৃ ও পিতাম‌হের অাবাসভূ‌মি। তাঁর পিতা ডাক্তার মু‌জিবুর রহমান (এম. বি. বি. এস) একজন খ্যা‌তিমান চি‌কিৎসক, সু‌লেখক ও সমাজ‌সেবী। মা একজন রত্নগর্ভা অাদর্শ ম‌হিলা। ছয় ভাইয়ের ম‌ধ্যে তৃ‌তীয় ‌টিপু রহমান নবীনগর পাইলট হাইস্কুল থে‌কে বিজ্ঞান বিভা‌গে এস এস সি পাশ ক‌রেন। চট্টগ্রাম এম. ই. এস. সরকারি ক‌লেজ থে‌কে বা‌নিজ্য বিভা‌গে এইচ এস সি পাশ ক‌রেন। এবং খিলগাঁও ম‌ডেল ক‌লেজ থে‌কে স্ন‌তোক ডি‌র্গ্রী লাভ ক‌রেন। টিপু রহমান একজন কৃ‌তি ক্রি‌কেটারও ছি‌লেন। মাত্র অষ্টম শ্রেণী‌তে অধ্যায়নরত অবস্থায় চট্টগ্রাম প্রথম বিভা‌গে তিনি ক্রি‌কেট খে‌লেন।
সম্ভবত ১৯৮৮_‌তে সাপ্তা‌হিক অা‌মোদ _ এ প্রকা‌শিত ‘ ফেরারী শূন্যতা ‘ ই টিপু রহমা‌নের প্রথম প্রকা‌শিত ক‌বিতা। তাঁর প্রথম লেখা ক‌বিতার শি‌রোনামঃ ‘তোমার জন্য; র‌চিত হয় ১৯৮৭_ তে। সমসাম‌য়িক সম‌য়ে তাঁর লেখা প্রথম ছড়ার নাম “শিশু ফৌজ” (দৈ‌নিক নব অ‌ভিযান)।
পা‌রিবা‌রিক জীব‌নে মা এবং অগ্রজ স‌হোদর অাহ‌ম্মেদুর রহমান (অপু ) মো: আতিকুর রহমান (দিপু)ছাড়াও টিপু রহমান অন্য এক অগ্রজ ক‌বিবন্ধু ম‌তিন সৈকত এবং তাঁর এক প্রিয় শিক্ষক , বি‌শিষ্ট সাংবা‌দিক ও সুসা‌হি‌ত্যিক অাবু কামাল খন্দকারের কা‌ছে সা‌হিত্য চর্চার প্রেরণা লাভ ক‌রেন। মূলত ক‌বিতা এবং ছড়া রচনা কর‌লেও টিপুরহমান গান, প্রবন্ধ, না‌টক, গল্প এবং উপন্যাস রচনায় সম্প্র‌তি অাত্ম‌নি‌য়োগ ক‌রে‌ছেন । টিপু রহমান সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ ও তাঁর পরিবার নিয়ে শিকড়সন্ধানী গবেষনা করেছেন।নজরুল প্রিয়া নার্গিস প্রসঙ্গেও তাঁর শেকড়সন্ধানী গবেষনা রয়েছে।
অাধু‌নিক বাংলা কা‌ব্যের ভুব‌নে অামরা টিপু রহমান‌কে স্বাগত জানাই এবং সাদরে বরণ ক‌রি।
১৪,০৬, ৯১
(বুলবুল : ইসলাম কবি,গবেষক ও সাংবাদিক-)
পুনলিখন: মোহাম্মদ নোমান ( নির্মাতা ও লেখক) ও মোঃ শাহিন আলম

About Khorshed Alam

আরও দেখুন

22788791_290912191402175_8949463939259069467_n

বাংলাদেশ কবি পরিষদ (বাকপ)-এর সাক্ষাতকার পর্ব-১৩ কবি দীলিপ দাশ

আজকের কবিঃ কবি দীলিপ দাশ, সাক্ষাতকার গ্রহণেঃকবি সাজিব চৌধুরী ।    আজকের কবিঃ কবি দীলিপ দাশ, …

4 comments

  1. মোঃ পিংকু ভূঁইয়া

    লেখালেখি করতে ভালবাসি

Leave a Reply