Home / নির্বাচন / আমিরাতে সাহিত্য আড্ডা ও সংগীত পরিবেশন

আমিরাতে সাহিত্য আড্ডা ও সংগীত পরিবেশন

ধূমকেতুভ ডেস্কঃওবাইদুল হক,আমিরাতে সাহিত্য আড্ডা ও সংগীত পরিবেশন ।

received_1407065479307614

হয়ে গেল যুগান্তর স্বজন সমাবেশ ও দেশকাল পত্রিকার সহযোগিতায় সাহিত্য আড্ডা। জাতীয় কবিতা মঞ্চ আরব আমিরাত শাখার ব্যবস্থাপনায় প্রবাসী কবি সাহিত্যিকদের স্বতঃ পূর্ত অংশ গ্রহণে বর্ণিল হল প্রবাসের মাটিতে সফলতার কাব্য কথা। শেকড়কে নিয়ে যারা লেখনি ধারণ করেন তারাই শ্রেষ্ঠ সাহিত্য রচনা করতে পারেন। কালজয়ী লেখক অদ্বৈত মল্লবর্মণ তার প্রমাণ। তিতাস একটি নদীর নাম উপন্যাসে তিনি শেকড়কেই সন্ধান করেছেন। তাই তো এ উপন্যাসটি শ্রেষ্ঠত্বের আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে। যুগান্তর ও দেশ কাল পত্রিকা সমন্বয়ে সাহিত্য আড্ডা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন জাতীয় কবিতা মঞ্চ এর সহ- সভাপতি কবি ওবাইদুল হক, এতে অংশগ্রহণ করেন প্রবাসের কবি সাহিত্যিকেরা এই যেন প্রাণবন্ত হল জাতীর হৃদস্পন্দন। কবি মুহাম্মদ মুসার সভাপতিত্বে দৈনিক যুগান্তর স্বজন সমাবেশ ও দেশ কাল পত্রিকা সাহিত্য আড্ডা অনুষ্টিত হয় জাতীয় কবিতা মঞ্চ আরব আমিরাত শাখার ব্যবস্থাপনায়।সংযুক্ত আরব আমিরাত এর রাজধানী আবুধাবির মিলিনিয়াম কর্নিশ পার্কে অনুষ্টিত সাহিত্য আড্ডায় প্রধান আলোচকের বক্তব্য রাখেন জাতীয় কবিতা মঞ্চ আরব আমিরাত শাখার উপদেষ্টা বিশিষ্ট চিকিৎসক লেখক ও সাহিত্যিক ডাঃ শামসুর রাহমান তিনি অভিমত প্রকাশ করেন আড্ডায় লেখকদের ভাবের বিনিময়ে ঘটে, নতুন চিন্তার সূত্রপাত হয়, লেখার সীমাবদ্ধতাগুলো চিহ্নিত করা যায়।জাতীয় কবিতা মঞ্চ এবং প্রবাসী কবি লেখকদের এমন মহৎ উদ্যোগ সৃজনশীলতাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, সাহিত্যকে করবে সমৃদ্ধ, এদের হাত ধরেই এগিয়ে যাবে বিশ্ব শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতীক অনির্বাণ কবিতা তিনি আরো বলেন প্রবাসে শ্রমের পাশাপাশি তরুণদের সৃজনশীল কাজে বেশি বেশি এগিয়ে আসতে হবে। হতে হবে প্রকৃত মানুষ। এটা সম্ভব হলে তরুণরাই আমাদের সমাজ পরিবর্তন করতে পারবে। আর তরুণদের চলার পথে অগ্রজরা বরাবরই তাদের ছায়াসঙ্গী হিসাবে যুগাবে উৎসাহ উদ্দীপনাকে আরো বাড়িয়ে দিবে। এ ধরনের আয়োজন সব সৃজনশীল মানুষের জন্য করতে পারলেই স্বার্থকতা আসবে বলেও মন্তব্য করেন । খোলা আকাশের নিচে,এক পড়ন্ত বিকেলের রঙ্গিন আলোর আভায় সবুজ ঘাসের সবুজ গালিচার মনোমুগ্ধকর শীতল বৃক্ষরাজির নিচে সাহিত্য আড্ডায় মেতে উঠি এক ঝাঁক প্রবাসী লেখক কবি সাহিত্যপ্রেমী ও সাহিত্য অনুরাগী বন্ধু প্রতিম সাদামনের মানুষ।

আমরা যাঁরা লিখতে চাই,সময় নিয়ে পড়তে হবে,লিখতে হবে,তাহলেই গাঁথুনি দৃঢ় হবে নবীন-প্রবীণ কবি, সাহিত্যিক, সমালোচকদের সাহিত্য আড্ডায়। যুগান্তর ও দেশকাল পত্রিকা সাহিত্য আড্ডায় উপস্থিত ছিলেন লেখক সাহিত্যিক
লেখক সাহিত্যিক, ডাঃ শামসুর রহমান,
কবি এনামুল হক,
কবি মুহাম্মদ মুসা,
কবি ওবাইদুল হক,
কবি নাজিম মাহমুদ ,
কবি আবৃত্তিকার সাখায়াত হোসেন বকুল ,
জাফর উদ্দিন ভুঁইয়া ,
সঙ্গীত শিল্পী নজরুল ইসলাম ,
আবৃত্তিকার এস এম তারেকুল ইসলাম ,
মোঃ জসীম উদ্দিন ,
পার্থ ,
অর্ণব ,
ডি এম লিটন ,
প্রশান্ত ,
নুরনবী ,
কামাল হোসেন ,
৭১ নিউজ টিভি আরব আমিরাত প্রতনিধি মনজুর হোসেন ,
যুমুনা টিভি আরব আমিরাত প্রতিনিধি রফিক উল্লাহ প্রমুখ । আমন্ত্রিত কবিদের কবিতা পাঠের আগেই আড্ডায় জম-জমাট হয়ে ওঠে পরিবেশ। অনুষ্ঠানের শুভেচ্ছা বক্তব্যে রাখেন কবি এনামুল হক, তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ‘ অনেক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাসে সাহিত্যচর্চা ও সাহিত্য নতুন উদ্যোমে এগিয়ে চলেছে। এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে এবং নিয়মিত এমন আড্ডার আয়োজন করা হবে।’নবীন-প্রবীণ কবিদের সঙ্গে কবিতা অনুরাগীরাও প্রাণবন্ত আড্ডায় মেতে ওঠেন। স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন “প্রবাসীর আত্ন কথা” কবি এনামুল হক “তুমি কষ্টের প্রতিচ্ছবি ’কবি ওবাইদুল হক” সম্মান করি সাহিত্যিকদের” কবি মুহাম্মদ মুসা “অপারগতা” কবি নাজিম মাহমুদ “সব ভুলে যাবো একদিন” সাখায়াত হোসেন বকুল “অমল কান্তি” এস এম তারেকুল ইসলাম “প্রবাস কষ্টের খেলাতে” মঞ্জুর হোসেন । আড্ডার বিষয়বস্তু কোনও নির্দিষ্ট না থাকলেও তা বাংলা সাহিত্যের নানা ডালপালা আঁধার করে বেড়ে উঠে। কখনো সমকালীন কবিতা, কবিতার সংকট ও সম্ভাবনা; কখনো কবির দৈন্য ও বাংলা কবিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে নানা আলোচনায় মুখর হয়ে ওঠে। আড্ডায় চায়ের ফাঁকে ফাঁকে চলে জলখাবার। আগত কবিরা নানা বিষয়ে তাদের ধ্যানধারনা ও অভিজ্ঞতা পরস্পরের সঙ্গে ভাগ করেন।লেখকদের আড্ডার ভরকেন্দ্রে থাকে নতুন কিছু সৃষ্টির দুরন্ত আবেগ ও আমেজ । আড্ডায় উঠে আসে এই দিকটি সময়ের অনেক কবির কবিতাই এই দুর্বোধ্যতার দোষে দুষ্ট। বিভিন্ন সময় সাহিত্য চর্চা করতে গিয়ে দেখেছি- ইদানিং সময়কার কবিদের যেসব কবিতা জনপ্রিয় হয়েছে তার সবগুলোই সহজ-সরল ও উপমা সমৃদ্ধ। কোন দুর্বোধ্য কবিতা জনপ্রিয় হয়েছে বলে আমার জানা নেই। তবুও কেন দুর্বোধ্যতার পেছনে এতো ছোটাছুটি? অনেক কবি যুক্তি দেখাতে চান- আমার কবিতা নিয়ে ভবিষ্যতে গবেষণা হবে, আমি যদি সাধারনের মুখের ভাষায় কবিতা লিখে ফেলি তাহলে সাধারণ পাঠক আর আমার মধ্যে পার্থক্য রইলো কি? আমরা কিন্তু এই শ্রেণীর মতামত দেয়া কবির সাথে মোটেও একমত নই।আমাদের যুক্তি হচ্ছে- কবিতা পড়া ও বোঝার জন্য একজন পাঠকের ভালো মন ও আবেগ থাকার প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু আবেগের সেই জায়গা তো এখন ক্রমেই দখল করে নিচ্ছে অস্থিরতা । এসবের মোকাবেলায় কবিতাকে বাচিয়ে রাখতে হলে কবিদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। এক্ষেত্রে প্রথমে প্রয়োজন সহজ-সরল উপমা সমৃদ্ধ মাটি ও মানুষের কবিতা লেখা। আপনার লেখা যদি সব শ্রেণীর পাঠক বুঝতে না পারে তাহলে কি লিখলেন আপনি? লেখক-সাহিত্যিক প্রমথ চৌধুরী বলেছিলেন- মানুষের মুখের ভাষাই কলমের ভাষা হওয়া উচিত। আমরা ও তার সাথে সম্পূর্নরুপে একমত। সাহিত্য আড্ডায় দ্বিতীয় পর্বে আরব আমিরাত বাংলা ব্যান্ড এর আয়োজনে মনো মুগ্ধ সঙ্গীত পরিবেশন করেন সংগীত শিল্পী প্রকোশলী নজরুল ইসলাম। মনজুর হোসেন, ওবাইদুল হক, জাতীয় কবিতা মঞ্চ এবং দেশকাল পত্রিকা ও যুগান্তর স্বজন সমাবেশ এর যৌথ উদ্যোগে ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে বৃহৎ অনুষ্টান গ্রহণ ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো কবিতা পাঠসহ নানা কর্মসূচীর মাধ্যমে জাতীয় কবিতা মঞ্চ সভাপতি কবি মুহাম্মদ মুসা সমাপনী বক্তব

About Khorshed Alam

আরও দেখুন

14479604_1115673381803904_2626236957353208546_n

আবুধাবিতে মোবাইল দোকানে পান বিক্রি পুলিশের সাঁড়াসি অভিযান

ধূমকেতু অনলাইন ডেস্কঃ মোহাম্মদ এনামুল হক সংযুক্ত আরব আমিরাতে পান বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকলেও অনেক পান …

Leave a Reply