Home / আন্তর্জাতিক / সাদা কলারেই যত দাগ,প্রত্যেক ফ্লাইটে চোরাচালান হচ্ছে বৈধ উপায়ে-জাহাঙ্গীর বাবু

সাদা কলারেই যত দাগ,প্রত্যেক ফ্লাইটে চোরাচালান হচ্ছে বৈধ উপায়ে-জাহাঙ্গীর বাবু

সাদা কলারেই যত দাগ, প্রত্যেক ফ্লাইটে চোরাচালান হচ্ছে বৈধ উপায়ে

IMG_2547 (2)
জাহাঙ্গীর বাবু,সিঙ্গাপুর থেকেঃ- সাম্প্রতিক সংবাদে   উল্লসিত হইয়া কোন লাভ নাই। কোটি পতি কোটি পতি থাকিয়া যায়। কোটি টাকার সুগন্ধে  মিডিয়া মুখে কুলুপ আটে। যতক্ষণ যে মিডিয়ায় ভাগ না পায়  ততক্ষন সাধু সেজে গলা ফাঁটায়। বলছিলাম স্বর্ণ চোরাচালানের কথা। রিজেন্ট এয়ার ওয়েজে সাত কেজি স্বর্ণ ধরা পড়ার সংবাদে সিঙ্গাপুরের অনেকেই উল্লসিত ,উচ্ছসিত। কারণ ,শেষের দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছি। খবরে প্রকাশ ,এক মাসের ব্যবধানে আবারো সোনার চালান ধরা পড়েছে রিজেন্ট এয়ারওয়েজে। মঙ্গলবার দুপুরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করা রিজেন্ট এয়ারওয়েজের ওই ফ্লাইটে অভিযান চালায় ঢাকা কাস্টমস হাউস।কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি রহস্য জনক ।কেন ইহা কি নতুন! ঢাকা কাস্টম হাউস আরো  জানিয়েছে, রিজেন্ট এয়ারওয়েজের আরএক্স ৭২৪ ফ্লাইটের টয়লেটে তল্লাশি চালিয়ে ৬০টি স্বর্ণের বার পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।পরিত্যক্ত ! আশ্চর্য্য ! উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের আনুমানিক ওজন ৬ কেজি ৯৬০ গ্রাম যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
ওরে বাবা ! কম না.আমাদের মতো আঠারো বিষ ডলারের শ্রমিকদের চোখ কপালে উঠলেই কি লাভ? সংবাদে আরো জানানো হয় ,চোরাচালানের কাজে রিজেন্ট এয়ারওয়েজকে ক্যারিয়ার হিসেবে কাজে লাগানো হচ্ছে। এছাড়া এয়ারলাইন্সের কতিপয় অসাধু ক্রু ও ইঞ্জিনিয়ার এই চোরাচালানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
 আচ্ছা কোন এয়ার ওয়েজে সংশ্লিষ্টতা ছাড়া গোল্ডবার কেজি কেজি স্মাগলিং হয় !
 আরো জানা গেছে, এয়ারক্রাফট ঢাকায় অবতরণে করার পর এয়ারক্রাফট ক্লিনারদের মাধ্যমে চোরাকারবারীরা শাহজালালের হ্যাঙ্গার গেট দিয়ে সোনার চালানগুলো বের করে নিয়ে যায়।
আমরা ছোটবেলায় শুনেছি শুধু ক্লিনার না ,সাহেব মেডামরাও পার করে নিয়ে যায়।
এবার সিঙ্গাপুরে কেন মুখ রোচক আর লাইক ,কমেন্টস শেয়ারের হিড়িক ,
কারণ অনেকে বলাবলি করলেও পত্রিকান্তরে নাম ঠুকে কেউ আগে লিখেছে বলে জানা নেই.কারণ বাংলাদেশের এমন কোন দলের নেতা ,প্রধান,ছোট ,বড় সব সাইজের নেতাগণ এমনি সরকারী দলের নেতা মন্ত্রীগণের সেবা প্রধান করেন যিনি তাকে সবাই চেনেন। বাংলাদেশ হাই কমিশন থেকে শুরু করে সোসাইটিতে তিনি বিশাল বড়ো নেতা ,সম্মানী ব্যক্তি,হুন্ডি  বিরুধী প্রচারণায় হাইকমিশন,ব্যাংক সহ  সবার পাশেই থাকেন।আবার তিনিই নাকি হুন্ডির মূল।
এবার পত্রিকায় প্রকাশিত কোট -আনকোট “জানা গেছে, শাহেদ নামে সিঙ্গাপুরে রিজেন্ট এয়ারওয়েজের একজন কর্মকর্তা আছেন। এই শাহেদ বাংলাদেশে সোনা চোরাচালানের মূল গডফাদার বলে গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে” .
 দেখেন তার ক্ষমতা অনুযায়ী শুধু “শাহেদ নামে “এইটুকু লিখলেই তার অসম্মান করা হয়।  তিনি অত্যন্ত সজ্জন ব্যক্তি ,হাসি মুখে সবার সাথে কথা বলেন।হাই কমিশন,সোসাইটির বিভিন্ন প্রোগ্রাম উপস্থাপন করেন, খরচের যোগান দেন।তাকে নিয়ে এই ধরনের সংবাদ অনেকেই তালি দিচ্ছেন,অনেকেই বিশ্বাস করতে পারছেন না।
অবশ্য এই সব খবর এক দুই সপ্তাহ চলবে পরে ঠান্ডা।এই সব নিয়ে মাথা ঘামানো বোকামি ছাড়া আর কিছুই না। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের কয়েকটি বিমান বন্দরে যে পরিমান স্বরণ আটক হয়েছে তা কোথায়, কি হচ্ছে একশ্যান ,দিন শেষে যারা মুজুরীর আশায় বসে থাকে তারা এই সংবাদে দেশ প্রেম দেখিয়ে কি লাভ?
 সরকারের পালা বদলে কে কার প্রিয়ভাজন কখন বলা মুশকিল।কে কখন শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব ,শ্রেষ্ঠ ব্যাবসায়ী শ্রেষ্ঠ দেশপ্রেমিক এর সম্মাননাপেয়ে যান  বলাতো  যায়না।ক্রেস্ট সন্মান গুলিও তাদের জন্যই।
স্বর্ণ চোরাচালানের তবে মাফিয়া টাইপের নয় , ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গুলো। যুগান্তরে পড়লাম নিউজটা তাই ক্ষদ্র চালানের বিষয়টা তুলে ধরতে কিছুটা প্রাসঙ্গিক আলোচনা করলাম আর কি? বিষয়টি দৃষ্টি গোচরে আনার ইচ্ছে ছিলো অনেক দিন ধরে ,সেটি হলো সিঙ্গাপুর থেকে প্রত্যেক ফ্লাইটে চোরাচালান হচ্ছে বৈধ উপায়ে। প্রশ্ন কেমন করে ? বৈধ এ জন্য  একশ গ্রাম জন প্রতি বৈধ।  ব্যবসায়ীরা ডেসকার রোড ,রবার্ট লেন ,মোস্তফা এলাকায় লাগেজ কিংবা মালামাল ক্রয় করার সময় টার্গেট করে কাছে ডাকে.একশ গ্রাম বহনের জন্য একশত ডলার লেনদেনের প্রতিশ্রুতিতে নাম্বার আদান প্রদান। একটি ফ্লাইটে প্রায় লোকই একশ গ্রাম করে  স্বর্ণ বহন করে থাকেন যার মাঝে নব্বই শতাংশ ব্যবসায়ীদের। বাংলাদেশে  এজেন্টরা  বিমান বন্দরের বাইরে অথবা যাত্রীর বাড়ি থেকে কালেকশন করে থাকে, এবার হিসেবে করে দেখুন বৈধ ভাবে কি ভাবে চালান হচ্ছে স্বর্ণ।
এটা শুভ লক্ষণ নয় ক্ষুদ্র থেকে বড় ছড়াকারবাড়ি হতে উৎসাহ দিচ্ছে শ্রমিকদের।শ্রমিকদের একটা অংশ কাজ কর্ম ছেড়ে এই কাজে লিপ্ত হচ্ছে।অনেকের ভিসা হচ্ছেনা ,টুরিস্ট এ এসে বৈধ উপায়ের অবৈধ স্বর্ণ ব্যবসায় জড়িত হচ্ছেন,দেশে যাবার সময় অনেক দেশিকে দেখা যায় ভাই মাল নিবেন ,আবার কোন ভাই বলেন ভাই মাল দিবেন,রমাজন মাস বা বিভিন্ন সময় মসজিদ মাদ্রাসার চাঁদা নিতে আসেন টুরিস্ট ভিসা নিয়ে ,তাদের মধ্যে অনেকেই একশ গ্রাম সিস্টেমের স্বর্ণ ব্যাবসা করেন। প্রতি দশজন যাত্রীর মাধ্যমে একহাজার গ্রাম পাচার হচ্ছে স্বর্ণ।এই সব চোরা কারবারির জন্য, যারা  পরিবারের জন্য নিতে চান তারাও বিপদে পড়েন অনেক সময়. সেরাঙ্গুন বা বিভিন্ন এলাকায় অনেকে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। যারা কোন কাজে যান না মানে অন্যান্যদের মত সকাল সন্ধ্যা রাত  অবধি কাজ করতে হয় না। আইপি স্বর্ণ ব্যাবসার সাথে জড়িয়ে পড়ছেন। শ্রমজীবী প্রবাসীদের এই স্বর্ণ ,আইপি,হুন্ডি ব্যবসা থেকে সরে আসা উচিত।দেশের ভাবমূর্তির পাশা পাশি নিজেরদের অবৈধ পথে পরিচালিত করছে তারা।
সিঙ্গাপুর ব্যবসায়ী মহল কতিপয়   বা শ্রমিক ,ব্যাবসায়ী ফোন করে উচ্ছাস দেখাচ্ছেন ,(কারণ  সিঙ্গাপুর বাংলাদেশিদের ব্যবসায়িক সংগঠন বিডি চ্যাম এর চিফ অফ কমান্ড সহ-সভাপতি তিনি  )অনেকের পদ প্রাপ্তির রাস্তা পরিষ্কার,অনেকের জমানো ক্ষোভ,অনেকে সত্যি বলতে না পারার ,প্রতিবাদ করতে না পারার কষ্টটা ঝেড়ে দিচ্ছেন এই সুযোগে।অনেকে বলছেন,টুক টাক করতেন হয়তো ,তিনি এতো বড় চোরা কারবারী জানা ছিলো না,বুঝতেই পারিনি।
এবার ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া , হুন্ডির কথা শুনিছিলাম,সোনা চরাচালানের কথা বিশ্বাস হচ্ছে না।কি, ভাবছেন আমাকে ক্যামেরা কিনে দিয়েছে,চাকরির লোভ, হাই কমিশনের বিশেষ সুবিধা কিছু দেবে, নারে ভাই বিডি চ্যামের প্রোগ্রামে দুই এক বেলা খাওয়া ছাড়া তেমন কিছু জানতাম না। আসলে কার ভিতরে কি আছে কে জানে? এইখানে যারা ব্যাবসায়ী তাদের নিয়ে আমাদের না ভাবলেও চলে.কিন্তু যেহেতু লেখালেখি আর সংবাদ পত্রের সাথে জড়িত কিছু দায়বদ্ধতা তো থেকেই যায় ।
 আফসোস একদিকে নিউজ  করে সত্য প্রকাশ,দেশাত্ববোধের হোক আদায় করতে হয় , অন্যদিকে তাদের পাশের চেয়ারে বসে তালি  বাজাতে  হয় তাদের বক্তৃতায়।এয়ার টিকিট কাটতে গেলে পাঁচ ডলার  কমিশনের সুযোগ খুঁজতে হয় তাদের কাছেই। ক্লাব  ট্রাভেলস  কার্গো  এক্সপোর্ট -ইম্পোর্ট  এর আড়ালে মূল ব্যাবসা আইপি হুন্ডি স্বর্ণ, তাহলে ব্যবসার সাথে যারা, তারা সবাই ধনী। এলিট হোয়াইট কালার। অনেকেই উঠে এসেছে ,ঘৃণ্য কিংবা অবৈধ পথে।সাদা কলারেই যত দাগ ! কে করবে সাফ ? সার্ফ এক্সেল !
শ্রমিক শুধু  শ্রমিক তবে কেন জানি মনে হয় তাদের অনুপ্রেরণায় ভিন্ন পথে শর্ট কার্ট  মারতে চায়  স্বল্প আয়ের শ্রমিক ভাইয়েরা।ফিরাবে কে তাদের ?
২৫-১-২০১৭ ইং

About এম মোস্তাকিম বিল্লাহ্

আরও দেখুন

50299899_589956284750796_920428091581399040_n

আরব আমিরাতে দৈনিক যুগান্তরের ২০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত।

আরব আমিরাতে দৈনিক যুগান্তরের ২০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত। মোহাম্মদ মনির উদ্দিন মান্না:- সাহসী অভিযাত্রা দুই …

Leave a Reply