Home / জাতীয় / জাতীয় শোক দিবস পালন যথার্থ নয় মোঃ সেলিম মিয়া, ইন্সপেক্টর অব পুলিশ না.গঞ্জঃ

জাতীয় শোক দিবস পালন যথার্থ নয় মোঃ সেলিম মিয়া, ইন্সপেক্টর অব পুলিশ না.গঞ্জঃ

জাতীয় শোক দিবস পালন যথার্থ নয়

1502700563058

মোঃ সেলিম মিয়া, ইন্সপেক্টর অব পুলিশ না.গঞ্জঃ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, যিনি স্বাধীনতার সুর্য সন্তান, মহান পুরুষ, উল্লাসে কাঁপা-বজ্রকণ্ঠস্বরের, মিষ্টি ভাষার অধিকারী, বাঙালি জাতির অহংকার। সে আর কেউ নয়, তিনিই হলেন জন্মসুত্রে গোপালগন্জের টুঙ্গিপাড়ার শেখ মুজিবুর রহমান। অনেক দামিদামি লেখকের ভিড়ে আমি সামান্য অতিথি লেখক হিসেবে সমাজের বাস্তব চিত্র দেখে এবং এক দুজন জ্ঞানী গুনিজনদের সান্নিধ্যে থেকে সামান্য অভিজ্ঞতার আলোকে আমার এ লেখার সাহস পেলাম । হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে আমার আত্মবিশ্বাস আল্লাহর রহমতে বঙ্গবন্ধুর বিচক্ষণতার ফলে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাঙালি জাতি পায় স্বাধীনতার ফসল স্বরূপ সোনার বাংলাদেশ। স্বাধীনতার পর স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে বঙ্গবন্ধু যখন সারা দুনিয়া ঘুরে ঘুরে অর্থনীতি সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে একের পর এক সফলতা অর্জন করতে থাকেন এবং মাত্র তিন বছরের মধ্যেই এশিয়ার সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বহুলাংশের স্বীকৃতি পেলেন আর ঠিক তখনই সংঘবদ্ধ বিদেশি কুচক্রী মহল তাহাদের হিংসার আগুনের জ্বলন্ত স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে অগনিত অর্থের বিনিময়ে বাংলাদেশের মীরজাফর খুনি মোস্তাক আহমেদ এর নেতৃত্বে সেনা বাহিনীর অর্থলোভী নরপিশাচ কর্নেল রশিদ ও মেজর ডালিমের মদতপুষ্ট অফিসার ফোর্সের সমন্বয়ে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এর ভিতর বঙ্গবন্ধুকে তার পরিবারের সদস্যদের সহ হত্যা করার নীল নকশার পরিকল্পনা করলেন। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ভোর অনুমান ০৫ঃ০০ ঘটিকার সময় ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের ফজরের আযান যখন শুরু হয় এবং পার্শ্ববর্তি মসজিদে আসসালাতু খায়রুম মিনান্নাও ধ্বনি উচ্চারণ হতে থাকে, ঠিক তখনই পাষাণ হৃদয়ের হায়নার দল ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে সশস্ত্র অবস্থায় ঝাঁপিয়ে পড়ে। উপস্থিত বঙ্গবন্ধু সহ পরিবারের সকল সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করে। নিষ্পাপ শিশু রাসেল এর আকুতি ছিলো বেঁচে থাকার। সেই অধিকারও সে পায়নি। আর ঐ দিন সৃষ্টি হলো পৃথিবীর জঘন্যতম মানবতাবিরোধী অপরাধের ইতিহাস। উভয় পক্ষের যুদ্ধ ব্যতীত একটি গুলি ছোড়ার অধিকারও সেনাবাহিনীর নেই। অথচ সেই সেনাবাহিনীর অফিসার ফোর্স এই নিষ্ঠুর নির্মম জঘন্যতম হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। নামে মাত্র গুটি কয়েক জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের সহ বিজ্ঞ আদালত বিচার শেষে সাজা মৃত্যুদন্ড দেওয়ার ফলে বঙ্গবন্ধু ভক্তদের মনে সাময়িক শান্তি পেলেও অধিকাংশ বঙ্গবন্ধু ভক্তদের মনের দুঃখ রয়ে গেছে। যারা এই হত্যাকান্ডের ইন্দনে, অর্থায়নে ও নেপথ্য থেকে খুনিদের সহায়তা করেছে তারা কেউ কেউ এখনও বেঁচে থেকে এই দেশে সুকৌশলে বসবাস করছে। তদন্ত স্বাপেক্ষে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনার অনুরোধ করছি। অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আজও এই শোক দিবস পালন উপলক্ষে অধিকাংশ জায়গায় সরকারি বেসরকারি কাঙ্গালি ভোজ নামে শ্রেণী ভেদে তিন চার রকমের খাবার পরিবেশন করা হয় । (এক) উঁচু তলার উঁচু চেয়ারের বিলাশবহুল জীবন যাপনকারীদের জন্য- মাছ মাংস সহ কয়েক প্রকারের খাবার।( দুই) মধ্যম শ্রেণীর চেয়ার প্রাপ্ত লোকজনের জন্য-বেশী মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্না অথবা পৃথক মাংস খিচুড়ি। (তিন) সাধারণ সচেতন শ্রেণীর হাতা ছাড়া চেয়ারে বসার অভ্যস্ত লোকজনের জন্য-মোটামুটি মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্না । (চার) প্রকৃত কাঙ্গালিদের জন্য- নামমাত্র মাংস আছে বা নাই অথবা থাকলেও ব্ড়জোর কেউ এক টুকরো কেউ দু টুকরো পেতে পারে এমন পাতলা খিচুড়ি। অথচ বঙ্গবন্ধু ছিলেন এমন একজন ব্যক্তি শ্রেণী বৈষম্য সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে বিশেষ বিশেষ দিনে কাঙ্গালিদেরকে নিজের বন্ধু মনে করে কাঙ্গালিদের ভালো খাবারের ব্যবস্থা করে তাদের সাথে একই খাবার খেতেন। কোটি বাঙালির হৃদয়ের স্পন্দন স্বাধীনতার স্হপতি মহান দেশপ্রেমের নায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ তার পরিবারের নিহত শহীদদের স্মরন করে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা পূর্বক বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করে ধনী দরিদ্রদের বৈষম্য দূরীকরণের মাধ্যমে একই খাবার কাঙ্গালি ভোজ রান্না করে একসঙ্গে খাবারের ব্যবস্থা করার অভ্যাস গ্রহণ সহ দলমত নির্বিশেষে বঙ্গবন্ধুর সাথে কাউকে তুলনা না করে জাতির পিতার আসন মজবুত করা ও ১৫ই আগষ্ট মিলেমিশে সাদা মনে করা উচিৎ।

About এম মোস্তাকিম বিল্লাহ্

আরও দেখুন

50299899_589956284750796_920428091581399040_n

আরব আমিরাতে দৈনিক যুগান্তরের ২০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত।

আরব আমিরাতে দৈনিক যুগান্তরের ২০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত। মোহাম্মদ মনির উদ্দিন মান্না:- সাহসী অভিযাত্রা দুই …

Leave a Reply