Home / ছোটগল্প / নদী হত্যার সত্য উন্মোচন –লেখক পুলিশ ইন্সপেক্টর মোঃ সেলিম মিয়া

নদী হত্যার সত্য উন্মোচন –লেখক পুলিশ ইন্সপেক্টর মোঃ সেলিম মিয়া

নদী হত্যার সত্য উন্মোচন –লেখক পুলিশ ইন্সপেক্টর মোঃ সেলিম মিয়া । 

 

সাগর ও নদী এরা পরস্পর ভালো বন্ধু ও একই গ্রামে দুজনের বাড়ি। একই স্কুলে পড়ে। সাগর দশম শ্রেনীর ছাত্র রোল ০২(দুই) নদী নবম শ্রেণীর ছাত্রী রোল ০১(এক)। একই সাথে গ্রামীন কাঁচারাস্তা দিয়ে পায়ে হেঁটে স্কুলে যায়,  মাঝখানে বাংলাসাহিত্যের সেই প্রাণপুরুষ মাইকেল মধুসুধন দত্তের ছোট নদের  খেয়া ঘাটের নৌকায় পার হয়ে চার কিঃ মিঃ দূরে স্কুলে যাতায়াত করে। একই শিক্ষকের কাছে অংক ও ইংরেজি প্রাইভেট পড়ে। স্কুলের নবম দশম শ্রেনীর ছাত্র ছাত্রীরা কেউ কেউ ওদের দুজনকে চাতক-চাতকি বলে জানে ,কেউ কেউ আবার মানিক-জোড় নামে সম্বোধন করে।কিন্তু বেশীদিন এ ঘটনা চাপা থাকে না,এ বিষয়টি স্কুলের শিক্ষক সহ স্কুলের ছাত্র-ছাত্রিদের মধ্যে ছড়িয়ে পরে  মেধাবী ও রূপে-গুনে ভালো থাকায় ওদের নিরবিচ্ছিন্ন ভালবাসাকে টের পেয়েও  প্রধান শিক্ষক সমর্থন করায় স্কুলের অন্যান্য শিক্ষক মন্ডলীও ওদের সম্পর্কের  ক্ষেত্রে নীরব ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। আর এই কারণেই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা  কটুবাক্য করার সাহস পর্যন্ত পায় না।স্কুলে  দৌড়, হাইজাম্প,লংজাম্প ইত্যাদির প্রতিযোগিতায় ওরা প্রথম,দ্বিতীয়,তৃতীয় স্থান অধিকার করে একাধিক পুরুস্কার লাভ করে। কোনো ভিআইপি অতিথি স্কুলে আগমনী উপলক্ষে ওরাই মাল্যদান সহ স্কুল উন্নয়নের দাবি-দাওয়া পেশ করে থাকেন ।  এক কথায় ওরা ঐ স্কুলের সকলের ভালবাসা উপহার। এভাবেই সাগর স্কুল জীবন শেষ করে ভালো রেজাল্ট করে ঢাকায় সরকারি  বাংলা কলেজে ভর্তি হলো। নদী ও পরবর্তী বছরে ভালো রেজাল্ট করে একই কলেজে ভর্তি হয়ে একসাথে লেখা পড়া করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে,সাগর মাসে একবার শুক্রবারে বাড়িতে এসে তার বাবার কাছ  থেকে পড়ালেখার খরচাদি নিয়ে যাওয়ার সময় সুযোগ মতো নদীর সাথে দেখা করে কুশলাদি বিনিময় করে বিদায় নিয়ে যায়।এভাবেই কেটে যাচ্ছে সাগর ও নদীর স্বপ্নময় সোনালীদিন গুলো , সাগর বিহীন নদী একা একা কনকনে শীতের  সকালে ঘন কুয়াশাচ্ছন্ন অস্পষ্ট রাস্তা দিয়ে প্রকৃতির বাঁধা ভেদ করে আপন মনে পায়ে হেঁটে-হেঁটে,চলতে- চলতে হঠাত্ এক পেঁপে ক্ষেত থেকে উঠে আসছে এক বখাটে(স্ত্রী পালানো) ২৬ বছরের যুবক। পেশায় স্কুলের খেয়া ঘাটের মাঝি। নদীকে একা পেয়ে মাঝি বলে কিরে তোর চিরদিনের পথ চলার সাথী সাগর কোথায়? তুই জানিস না সাগর কোথায় ?  না তোর মুখে শুনলে খুশি জাগে মনে । আচ্ছা তাহলে শোন্, সাগর শহরের নামকরা সরকারী বাংলা কলেজে পড়ে।  আমিও এস, এস সি পাশ করার পর সাগরের কলেজে ভর্তি হয়ে একসাথে পড়ালেখা করবো।

সাগর বলেছে আমরা দুজন পড়ালেখা শেষ করে বড় চাকরি করে আমাদের গ্রামে একটা হাইস্কুল তৈরী করবো। তখন চার কিলোমিটার পায়ে হেঁটে আর আমাদের গ্রামের কোনো ছেলে-মেয়ে আপনার খেয়া নৌকায় পারে হয়ে এই স্কুলে আসবেনা।কিন্তু মাঝি নূর-আলম এর দৃষ্টিভঙ্গি নদীর শরীরের প্রতি, মাঝির কুদৃষ্টি দিয়ে একপ্রকার শারীরিক ধর্ষণ করে নিচ্ছে মাঝি নূর-আলম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত চোখের নেশায় তার যৌন কামনা মিটেনি, নদীর এই কথা শেষ হতে না হতেই ঐ মাঝি নদীর হাত ধরে তার ইচ্ছের বহিঃপ্রকাশ ঘটালো,  বলে তোর এই আশা পূর্ণ হবে যদি তুই এখন আমার মনের বাসনা পূর্ণ করিস। নদীর সেই হাস্যউজ্জ্বল বদনখানি নিমেষেই মলিন হয়ে গেলো,এবং ভীত কন্ঠে নদী বলে উঠলো আমি আপনার ছোট বোনের মতো, আমার এ সর্বনাশ করবেন না ভাই,মাঝি নূর-আলম নদীকে জানলো ছোট বোনের মতো ছোট বোনতো’না। এই বলে দুহাত টেনে ধরে জোর পূর্বক পেঁপে ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে ইজ্জত নষ্ট করার চেষ্টা করতে থাকে। বাঁচাও-বাঁচাও চীত্কার করে ইজ্জত রক্ষার নিমিত্ত নদী ধস্তাধস্তি করতে থাকাকালে ঐ মানরূপী  নরপশু মাঝি তার হাতে থাকা ধারালো কাস্তে দিয়ে নদীর গলায় কোপ দিলে নদী গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ।

ঐ নরপিচাশ নদীর আহত কাতর অবস্থায় স্বার্থসিদ্ধি করে নদীর মৃত্যু নিশ্চিত করে এদিকে নদী মৃত্যুর সময় অস্পষ্ট স্বরে সাগর সাগর বলে ঘোরাচ্ছিলো মাঝি তার হাতে থাকা ধারালো কাস্তে  নদীর রক্তের দাগ মুছে ফেলার লক্ষ্যে পেঁপে কেটে-ঘষে ধারালো কাস্তে রান্না  ঘরের খড়ি রাখার মাচায় রেখে নিজের শয়নকক্ষে বিশ্রাম করতে থাকে। মাঝির মা মাঝিকে খাবার দিলে মাঝি না খেয়ে বলে ভালো লাগছেনা। এদিকে নদীর মৃত্যুর খবর পৌছিয়ে গেছে গ্রাম থেকে শহরে ও  জাতীয় দৈনিক ও স্থানীয় বিভিন্নপত্রিকা সহ টিভি মিডিয়ায় । সাগর পত্রিকা পড়ে দ্রুত শহর থেকে গ্রামে এলো। ততক্ষণে নদীর মৃত্যু দেহ থানা পুলিশ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে গেছে। সাগর গ্রামে আসার খবর পেয়ে ঐ নরপিচাশ  গ্রামে মিথ্যা প্রচারণা করলো সাগর নদীর সাথে দেখা করে,এবং যৌনসংগম করতে চায়,নদী সম্মতি না জানালে,সাগর নদীর ইচ্ছের বাহিরে জোরপূর্বক অবস্থান নেয়,এবং একপর্যায় সাগর উত্তেজিত হয়ে নদীকে কুপিয়ে মেরে ফেলে ।   সাগরকে আমি নদীর সাথে রাস্তার মধ্যে হাঁটতে দেখেছি। এই মিথ্যা প্রচারণা জনশ্রুতি এতো বেশি আলোচি হয় যে; সাগরকে ধরার বিষয়ে নদীর পরিবারের সদস্যরা থানার ওসিকে চাপ প্রয়োগ করে । সাগরকে ধরতে ওসি সাহেব পুলিশ পাঠাইলো। সাগর ইহা জানতে পেরে স্বেচ্ছায় থানায় এসে আত্মসমর্পণ করলো। সাগরকে জিজ্ঞাসাবাদের দায়িত্ব আমার উপর অর্পণ করা  হলো। এদিকে গ্রামবাসী ও অবুঝ ছাত্র-ছাত্রীরা সাগরকে ভূল বুঝে সাগরের ফাঁসি  দাবী করে বিক্ষোভ করতে থাকে। আমার জিজ্ঞাসাবাদে সাগর বললো আমার নদীকে যে খুন  করেছে আল্লাহ্ র রহমতে সে ধরা পড়বেই। স্যার নদীকে খুন করার সময় আমি  কলেজে ছিলাম। আমি বলছি না আমাকে ছেড়ে দিন। আমাকে জেলে রেখে আপনারা ভালো করে তদন্ত করেন। নদী আমার প্রাণের চেয়ে ও প্রিয় ।

 

ওর প্রকৃত খুনির বিচার হোক এটাই আমি চাই। আমি একমাস ওকে দেখিনি। ও খুন হয়েছে এটা আমি বিশ্বাস করতে পারছিনা। ওকে আমি এক নজর দেখতে চাই। আমাকে একটু দেখতে দিন। যেহেতু হাসপাতাল হইতে নদীর মৃত্যুদেহ থানার সামনের রাস্তা দিয়ে নদীদের বাড়িতে নিতে হয় তাই নদীর ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুদেহ থানায় এনে সাগরকে দেখালাম। নদীর মৃত্যুদেহ দেখে হাউ-মাউ করে কেঁদে-কেঁদে বলছে ও নদী-ও নদী আমি কি অন্যায় করেছি যে আমাকে ছেড়ে চলে গেলে। আমি বাঁচতে চাইনা। পুলিশদের বলো আমাকে গুলি করে মেরে ফেলুক। তাহলে আমি তোমার সঙ্গী হতে পারবো। দেখো আমাকে তোমার খুনি হিসেবে ভাবছে। আমি এই মিথ্যা অপবাদ থেকে কিভাবে রেহাই পাবো। হে আল্লাহ্! তুমি পথ দেখাও।

এরপর ও মাটিতে লুটিয়ে পড়ে অজ্ঞানের মতো হয়ে গেলো। আমি পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থেকে ভাবছিলাম। এখন কি সিদ্ধান্ত নিবো,একদিকে জনতার বিক্ষোভকারীরা অন্যদিকে আমার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের চাপ। শেষপর্যন্ত রিক্স নিলাম। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে সাগরকে কোর্টে প্রেরণ না করে আমার হেফাজতে রাখলাম। সাগরকে বললাম তুই বলতো কাকে তোর সন্দেহ হয়। নদীকে কে খুন করতে পারে। সাগর বললো আমি খুন করেছি এই স্বাক্ষীটাকেই আমার সন্দেহ। কারণ আমাকে সে কিভাবে নদীর সাথে দেখলো। আমাকে যদি দেখতো তাহলে’তো খুনের সাথে সাথে আপনাদের  বলতো। একদিন পরে,আমি আসার পর বললো কেনো। তাছাড়া ঘাটে যখন  মানুষ কম থাকে তখন মাঝি পেঁপে বাগান দেখার জন্য রাস্তার উপর আসে। পেঁপে বাগানটা মাঝি দেখাশুনা করে। আমার মন বলছে ও ই হয়তো খুন করেছে ,তবুও বলবো আপনি ভালো করে ওকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ও যদি খুন নাও করে থাকে আমি যে খুনি নই এটা পরিস্কার হবে ।

 

সাগরের কথায় গুরত্ব দিয়ে মাঝরাতে মাঝির বাড়িতে গেলাম।দেখি মাঝি শুয়ে আছে কিন্তু ঘুমানো না এক বিষণ্ণ বেদনা তাকে ছুঁয়েছে এ বুঝতে অসুবিধা হয়নি । মাঝির মা ঘুমানো,মাঝির মা’কে ঘুম থেকে ডেকে উঠালাম ও জিজ্ঞাসা করলাম আপনার ছেলে খুব ভালো । নদী খুনের একমাত্র স্বাক্ষী। ওর কারনেই খুনি ধরা পড়ছে। মাঝির মা বললো বাবা ঐ মেয়ে খুন হওয়ার পর থেকে নদীর ঘাটে নৌকায় যায়না। ঠিকমতো খাবার খেতে পারেনা। ঠিকমতো ঘুমায় না। খালি শুয়ে থাকে। এরকম হলে তো আমার সংসার চালাতে কষ্ট হবে। কি হয়েছে বললেই বলে ভালো লাগছে না। ডাক্তারের কাছে যেতে বললেই বলে ডাক্তার লাগবেনা এমনেই ঠিক হয়ে যাবে। তখন আমি বললাম আপনার ছেলে সরকারি পুরুস্কার পাবে। নদী খুনের একমাত্র স্বাক্ষীর কারনে। বড় অফিসার এসেছে ওকে পুরুষকার দেওয়ার জন্য। আমার সাথে যেতে হবে। খুনি সাগর ধরা পড়েছে। সাগরের ফাঁসি হবে। এই কথা শুনে মাঝি নূর-আলম একটু তরতাজা হলো।  মাঝির মা  মাঝিকে বলে যাও বাবা ! যাও ! তুমি যে পুরুষকার পাবা শুনে খুব ভালো লাগছে। মাঝিকে পুলিশের সাথে গাড়িতে পাঠালাম। এরপর আমি স্হানীয় প্রতিবেশি সাথে নিয়ে মাঝির বাড়িঘর তল্লাশি করলাম। রান্না ঘরের লাকড়ি খড়ি রাখার মাচায় ধারালো কাস্তে পেলাম। কাস্তে কাঁচা পেঁপের কস লেগে আছে বুঝতে পারা গেলো এবং অনেকটা নিশ্চিত হলাম মাঝি নূর-আলম এর ব্যাপারে । মামলার ঘটনাস্থল পেঁপে ক্ষেত তাই সন্দেহের তীর  ছুঁড়ে মেরে মাঝির মাকে জিজ্ঞাসা করলাম এটা দিয়ে কি করেন।

মাঝির মা বললো ওটা আমার ছেলে নৌকায় রাখে। মাঝে মধ্যে বাড়িতে নিয়ে আসে। একা চলা ফেরা করে তো তাই সাথে রাখে। তখন আমি ওটাকে জব্দ করলাম। মাঝিকে থানায় নিয়ে গেলাম। সাগর ও মাঝিকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করলাম । মাঝিকে বললাম নদী খুনের সময় সাগর কলেজে ক্লাস করছে তার প্রমাণ পেয়েছি। তোর রান্না ঘরে পেঁপের কসের দাগ লাগা ধারালো কাস্তে পেয়েছি। এ দায়ে সামান্য একটু রক্তের দাগ ও আছে। তোর মা বলেছে খুনের পর তুই যখন বাড়ি এসেছিস তোর হাতে ঐ দা তুই রান্না ঘরে রেখেছিস।

 

আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সময়ের প্রয়োজনে আমাদের অনেক কিছু করতে হয়,সত্য প্রমাণের জন্য মাঝে মাঝে অভিনেতা- অভিনেত্রীদের মতো আমাদেরও অভিনয় করতে হয়। কখনো নিজেকে আড়াল করে,কখনো মিথ্যে অভিনয় ধারণ করে,আমরা যেহেতু সমাজের নানামুখী সমস্যা সমাধান করে থাকি,সে জন্য সত্য-মিথ্যে প্রমানের দায়িত্বভার আমাদের। আমরা চাই সমাজের শান্তি প্রতিষ্ঠা হোক,মানুষ মুক্তিপাক অশান্তির কবল থেকে,ঠিক তেমনি আমরা এগিয়ে যাই নদী খুনের সত্যতানির্ণয় করতে। যদিও প্রকৃত অপরাধী আমাদের হাতে নেই,আমরা সন্দেহের চোখে,

এক বৃদ্ধ দাঁড়িওয়ালা পুলিশকে টুপি মাথায় দিয়ে, লুঙ্গি পরিয়ে ছেন্ডেল পায়ে দেওয়াইয়া অন্য গ্রামের বাসিন্দা খুনের সময় পথচারী ছিল মর্মে মিথ্যা সাক্ষী সাজাইয়া মাঝিকে বললাম এই লোক তোমাকে নদীর সাথে কথা বলতে দেখেছে। কুয়াশা গভীর থাকার কারনে তুমি খেয়াল করতে পারোনি। ওনার ও কাজের চাপ বেশি থাকায় উনি তড়িগড়ি করে চলে গেছেন। তুমি এখন মিথ্যা সাক্ষী দিয়ে সাগরকে ফাঁসাইতে পারবে না । আমরা সব জেনে গেছি নদীর প্রকৃত খুনি তুমি,তুমি নদীকে নির্মম ভাবে হত্যা করেছো, তুমি সত্য স্বীকার করে ক্ষমা চাও, আমরা তোমাকে কিছু বলবো না। এসব সহ আরো অনেক কথা বলার পর মাঝি কাঁপাকাঁপা কণ্ঠে বলে উঠলো স্যার পানি খাবো । এক এক করে চার গ্লাস পানি খেয়ে তারপরও শুকনো শুকনো গলায় নিজের দোষ স্বীকার করে আমার কাছে এবং পরে বিজ্ঞ আদালত 164 ধারায় স্বেচ্ছায় নদী খুনের স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। সাগরকে তার পিতার জিম্মায় ছঁড়ে দেয়া হয় । সাগর যাবার সময় আমার গলা জড়িয়ে ধরে ভাইয়া বলে কাঁদে আর বলে আমি তো বেঁচে গেলাম কিন্তু আমার নদীকে তো কোনও দিন পাবোনা। আমি তখন ওকে সান্ত্বনা দেই নদী মরে নাই। সে তোমার অন্তরে ধারণ হয়ে আছে । আজ তার ভালোবাসার জোরে আল্লাহ্ র রহমত পেয়ে বেচে গেলে। আমি তো শুধুই অসিলা। ভালোবাসা ও সত্য কখনো মরে না,সময়ের অনিশ্চয়তায় শুধু আমরাই দূরে থাকি সত্য ও ভালোবাসা থেকে।

About এম মোস্তাকিম বিল্লাহ্

আরও দেখুন

fb_img_1483187584942

একাকীত্ব : নলিনী চৌধুরী

আমার প্রেমিকের নাম একাকীত্ব। ও আমাকে প্রতিনিয়ত ভালবেসে যায়। এতটাই ভালবাসে যে আমি তার মধ্যেই …

Leave a Reply