Home / শিল্প-সাহিত্য / কবিতা / শামস্ রুবেলের গুচ্ছ কবিতা

শামস্ রুবেলের গুচ্ছ কবিতা

44387789_317681305486296_558832741936791552_n

জন্মান্তর

সারা পৃথিবীর গাছ এক ভাষায় কথা বলে

পার্থক্য এখানেই মানুষের সাথে

গাছের মতো বাঁচবো বলে মৌন হলাম

এখন আবার শুনতে পাই কাঠঠোকরা


কোনো কোনো ছাদে দেখা যায় গাছপালা শহরের
ফুল ফোটেকেউ কেউ ভোগ করে ফল।
দম্ভের গাছ ভাবেআকাশ খুব কাছেকটাক্ষ করে মাটিকে
অথচ সন্ধান করেও পাইনি শেকড়বাকড়
যেমন মাটির পৃথিবী পায় না
কারা ওইসব দালানে বসবাস করে।
নানা বাড়ির ট্রেন

ট্রেন বড় সুবোধ ছেলেএকপথে যায়

তবু ট্রেন আমার চেয়ে দুঃখী

সেই পথ আটকালে যাওয়ার জায়গা নাই

মুসম্মত কান্তা

যেভাবে থাকে নীলগাইটেরপেয়ে বাঘ

থাকি অন্তর-বাড়ি

মুসম্মত কান্তার কথা মনে হয়

উড়াল পক্ষীর দিকে তাকিয়ে থাকে গাছ!


ভালোবাসি যারে তার ছায়াকেও বাসি
এমনকি কোনো মূর্তির দিকেও তাকাতাম না
যদি কেউ তোমার দিকে তাকায়!

জেরিন

পেরেকঠোকে জেরিন। ঝকঝকে। বিউটিফুল। সাদা দেয়ালে। নতুন নতুন

পেরেকে চেষ্টা করেএখনও সে স্কুলে। দুই একটা আঘাত তার কপালেও

আসেছিটকে যায় কোনো কোনো টা হাতে। এভাবে হয়তো একদিন সে

হাতুড়ি দেবে জীবনের নিকটস্থ দেয়ালে। বুঝবে জেরিন কেনো মানুষ

সমালোচনা করে বড় হলে।

জেরিন গাছে জল ঢালে। সে বাড়েপাল্লা দিয়ে গাছও। জেরিনের খোপা সাদা হয়ে যায় বকের মতো ফুলে। গাছ ও মানুষের বন্ধুত্ব দেখে বাবা মা হাসে।পাড়া-পড়শি সেই গাছের নাম একদিন পালটে রাখে।

বলতে ভুলে গেছিজেরিনের একটি ছোটবোনও আছে।

লীথী

পান করলে পানিভুলে থাকা যায় সব— সেই নদীর নাম লীথী

মাঝে মাঝে ভাবিএমন নদীর দেখা পেলে মুছে দেবো অতীতকাল…

ভয়ে ভয়ে ভাবিতোমাকে মুছতে গিয়ে যদি মুছে যাই আমি,

লোপ পেয়ে স্মৃতিযদি ভুলে যাই নদীটাই

তবে ফের বেদনা জমলে কোথায় যেতাম!

যাতায়াত

(কবিতা দ্যা রোড নোট টেকেন‘ পড়ে)

কোন দিকে যাইএক কবি লিখেছেনসব পথ গেছে কবিতার দিকে। 

কোন দিকে যাওসব পথ গেছে সব দিকেচলার মানুষ তুমি একা!

থাকে পথ মাথার উপরেওপাখি হলেআমি সেই পাখির পায়ে বেঁধে

দিয়েছি আমার পথআমি এক হরিণের পায়ে গোপন করেছি আমার পথ

এবং আমি লিখেছি—’বাঘ দৌড়ায়কারন হরিণ অবিষ্কার করে পথ

এর আগে।

দরজা

দরজা ছিল বুকের ভেতর দরজা ডানে বামে

দরজা ছিল বন্ধ করার দরজা খোলার কামে।

দরজা ছিল চোখের ভেতর অবিশ্বাসের ঘাসে

দরজা ছিল দরজা দিয়ে আষাঢ় শ্রাবণ মাসে।

দরজা ছিল দশ-পনেরো ঘর ছিল না তাতে

দরজা ছিল টাটকা খড়ের দরজা প্রতিক্ষাতে।

দরজা ছিল প্র-তি-দি-নে-র কিটিমিটি দাঁতে

দরজা ছিল উদোম হয়ে ছিটকি টানা রাতে।

আয়ুর্বেদ

কোনো কবিতাই লেখা হয়ে ওঠে নাকোনো চিন্তা দিতে পারছিনা

আপনাকে। রোজ রাতে দুটো আপশন থাকে আমার কাছেকবিতা

না হয় স্লিপিং পিলএর থেকে বোঝা যায় কবিতাও ঘুমের সরঞ্জাম

হিসেবে ব্যবহার্য। কবিতা-পিল আমি কোথাও কিনি না- এই বিশ্বের

কোনও দোকানেকেউ কেনে না আমার কাছে। আমি শুধু ঘুরে

বেড়াইগান গেয়ে পান খেয়ে কবিতা লিখেআমি শুধু বেঁচে

থাকি সেইসব কবিতা খেয়ে— কেহ জানে না কি অসুখ আমার।

About এম মোস্তাকিম বিল্লাহ্

আরও দেখুন

22788791_290912191402175_8949463939259069467_n

বাংলাদেশ কবি পরিষদ (বাকপ)-এর সাক্ষাতকার পর্ব-১৩ কবি দীলিপ দাশ

আজকের কবিঃ কবি দীলিপ দাশ, সাক্ষাতকার গ্রহণেঃকবি সাজিব চৌধুরী ।    আজকের কবিঃ কবি দীলিপ দাশ, …

One comment

  1. ইউসুফ আরেফিন মাসুদ

    অভিনন্দন রুবেল ভাই।
    সবই নন্দন হোক আপনার।

Leave a Reply