Home / শিল্প-সাহিত্য / কবিতা / শামস্ রুবেলের গুচ্ছ কবিতা

শামস্ রুবেলের গুচ্ছ কবিতা

48420720_2328356860719027_2408076536667176960_n

আবিষ্কার

চোখের জল ধরে রাখার কৌশল
রপ্ত করে দেখি, ডুবে গেছি।
যেভাবে ভেসে যাওয়ার আগে
বোঝা যায়, পৃথিবী খড়কুটা।
কোনো আক্ষেপ নেই, নেই কোনও খেদ;
ভেসে গেলেই বন্দর
অতল জলেই সূর্য।
একটি বৃক্ষকে ঘিরে এখনও আমার
বাবুইপাখির ছদ্মবেশ।
চোখের জল ধরে রেখেছি,
অথচ, আমার চোখ খোলাে।

জেরিন ৪

জেরিন—তোমার মৃত্যুর দশদিন আগে
ক্যালিডোস্কোপে উলঙ্গ কিশোর বৃষ্টি দেখেছিলো
সৃষ্টি হলো বিবর্ণ ধূপছায়ার…
পূর্ণিমা রাতে রেলের খালাসীরা
গোঙানির আওয়াজ পেলো
তুমি যেদিন উড়াল দিলে, ইন্দিরা রোডের বাড়িতে;
সাড়ে দশটায় ঘড়ির কলিং বেজে উঠেছিলো
অথচ দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর ঠিক সকাল ছয়টায় এটি
তোমার ঘুম ভাঙাতো

জেরিন ৫

একদিন ঠিকি জায়গা নেবে বাজপাখি—সূর্যে,
পৌঁছে যাবো আমি
তারও আগে
তোমার নিকটে
এই বিশ্বাসে।
সূর্যের প্রতিদিন বলতে পাখিই—
পাখি ওড়ে জন্যই, সূর্যওঠে ভোরবেলা
আলোফোটে।
জেরিন—তুমি একটা স্বচ্ছ আয়না
বহুদিন আগে তোমার ভেতর দিয়ে
অস্তগেছে সূর্য;
আর ওঠেনি, একটা পাখি ওড়ার অভাবে।

জেরিন ৬

বই খুলে পড়তে বসেছি তোমাকে
সমাহীত তোমার চোখ
চোখও একপ্রকার ফুল
কিছুটা পদ্ম
যার পাপড়ি খোলে বন্ধও হয়
আমার জানামতে।

পরিপূরক

আমি আমার মৃতের কফিন
বেরিয়ে আসে মমির ভেতর
দুই হাত
অশ্রুপাত ও মানুষের শব্দ অনুরুপ
আমি আমার মৃতের শব্দ শুনি
অনুমান করি
ওটা একটা পাথর
ছিন্নভিন্ন করে দেখেছি—
পাথর যতটুকরো ততো স্বাধীন
আমি আমার মৃতের কফিন
আকাশে তাকিয়ে থাকি
কখনো ক্লান্ত হয় না তারকাপুঞ্জ

পরাগায়ন

সম্মুখে তার আকাশ মেলে ধরি
যে অন্ধ ঘোড়ার পিঠে মানুষ স্বাধীন।
উতরে যেতে গলা কাঁটা
হরিণের পেছনে দিছি ছুট…
লোকে বলে আসতেছে, বাঘবাবাজি।
বারবার একটি ফুলের কাছেই গেছি
সেই অর্থে বলতে পারো না—মধুকর
বারবার একটি ফুল থেকেই উঠে এসেছি
নারীর ওষ্ঠ কখনো বাসি হয় না।
২.
ঘুড়ি দেখবে দেখবেনা আকাশ তা হয় না
আকাশে তাকিয়ে দেখি, মেঘ—নকল মেঘ ওড়ে না
বহুবার প্রশ্ন করে উত্তর না পাওয়া মানুষটি আমি
দূর থেকে ভালো লাগে আযানের ধ্বনি
চোখের ভেতর আমার ছিঁড়ে গেছে ঘুড়ি—
চোখ বন্ধ করলে আমাকে কেউ পায় না!

খাটিয়া

কেউ সাড়া দেয় না আমার ডাকে
নিজের ছায়া মাথা ঘুরে রাখে,
একঢোকে
গিলেফেলি
প্রাণ
দৌড়ের সাথে
‘হে আমার পা, আমাকে মিলিয়ে দাও
সড়কে সড়কে’
কেউ সাড়া দেয় না আমার ডাকে
একটা তালগাছ যেভাবে দাঁড়িয়ে থাকে
মাঠের শেষে।

পাপ

কখনো চেপে নখে ঠোঁট দিয়ে কামড়ে ঝাপটে পাখার তৈজস দেহের ওমে বুকের ধনকে লুকিয়ে রাখতে চায়—আর অথই
অন্ধকারের পাশে নিমজ্জিত ওর ডানা, ক্রমশ জেল্লা ছড়ায়…
কাকের একটা সাদা কন্যা ছিলো

ক্ষয়

জামার থেকে পকেট তোমার বড়
পেছন দিকে সিলমোহরের ছাপ
জামার ভেতর তুমি জড়সড়
ক্ষুধার পকেট কার্যত উত্তাপ।
জলের নিচে ওয়ুত ছুরির আঁক
ছলকে ওঠে হঠাৎ মৃত চোখ
মাথার উপর আকাশ দুর্বিপাক
পকেট ভরা তোমার হরেক লোক।
বাউরি বাতাস ফুল ফোটালে রাত
হাঁটলে পায়ে যায় জড়িয়ে জাল
হোঁচট খেয়ে কতেক তারা কাত
লিঙ্গভেদে পকেট উন্মাতাল।

গান্ধীর পা

হারানো বলতে একপাটি জুতো
তাই ফেলে দিতে হলো, অপর পা-ও
মাথার উপরে চঁাদ
যতদূর হাঁটি
জুতোহীন
পৃথিবীটা
আজ—
মনেহয়
উপাসনালয়।

About এম মোস্তাকিম বিল্লাহ্

আরও দেখুন

47291974_390504401688803_6816509807701262336_n

বিজয় দিনের শপথ-কায়সার উদ্দিন জালাল

বিজয় দিনের শপথ কায়সার উদ্দিন জালাল বড় আবেগের সময় এ মাস ডিসেম্বর অনুতাপের এ মাস …

Leave a Reply