Home / শিল্প-সাহিত্য / কবিতা / শামস্ রুবেলের গুচ্ছ কবিতা

শামস্ রুবেলের গুচ্ছ কবিতা

শামস্ রুবেলের গুচ্ছ কবিতা

50016829_376521956491367_5435763077138087936_n

যন্ত্র ২

সুজন আমাদের রান্নাঘর দ্যাখে
কেউ নুন কম খান, কেউ বেশি
কেউ অধিক ঝাল, পরিমাণ মতো
আনাজপাতি।
তার রান্না থেকে বিধিনিষেধের
বাষ্প ওঠে
গালে হাত দিয়ে সেই ধোঁয়ার সাথে
সুজন—নাই।
তরকারিতে ঝাল কম
অথচ,
গোপনে সুজনের চোখ জ্বালাকরে
লবণ নাই—
তার মুখ যথাযথ বিষ্ঠা লাগে।
এমনি করে ঠিকঠাক মসলাপাতি
বুঝিয়ে দেয়া হয় সুজন কে।

যন্ত্র ৩

একত্রেই আছে—ঘুমাতে যায়
আলো ফোটার আগমুহূর্তে;
রোজ পঁচটা লাশ ডিঙিয়ে
সুজনের কবর।

যন্ত্র ৪

আকাশদেয়াল—
সুজন এখন
বসে আছে
পা
তুলে,
কেউ
পারে না
বসতে
সম্রাটসুলভ
যেখানে সেখানে।

যন্ত্র ৫

দুপুরের সাহায্যে সে বেড়ে ওঠে
সন্ধ্যায় পরিণত হয় বৃদ্ধে
গভীররাতে মারা যায়
এ-ভাবেই দেখে আসছি সুজনকে
আগামীকালের সূর্য উদিত হয়
তার পেছনে
হয়তো সুজনও আমাদের
দেখেটেকে থাকবে
নইলে কেন সে তার ঘর
অন্ধকার করে রাখে!

দূরাগত

তবু আছি একসাথে ঘুমে
মাঝখানে তুলে দাও আল
ধাপে ধাপে নেমে আসি নিচে
দুই ধারে খড়ের দজ্জাল।
বৃক্ষ তার খেয়ে নেয় ছায়া
এরুপ ভালোবাসা নিষ্পাপ?
এমনকি আকস্মিকভাবে
মহিষেরা ছড়ায় উত্তাপ।
অস্বচ্ছ আকাশের ওপর
ফুটে রয় তীর্থজল চোখ
যাই আফিম বৃক্ষের দিকে
জুনের গোলাপ ঝরা শোক।
ছায়ার পর প্রচ্ছায়া আসে
সাগরে নোনতা বালির ঝড়
আমরা বয়ে যাই পাশাপাশি
এতো কাছে তবু নিরুত্তর।

সাধ্য

যত বড় হও তুমি দীর্ঘশ্বাস থেকে কম
ঘড়ি যত করুকগে টিকটিক
হৃদয়ের চেয়ে বাজে না অধিক
যত মরে যাও তুমি ছাড়তে লাগে উদ্যম।
যত ঝড় বৃষ্টি হোক কান্নার বেশি হয়?
রাত যত নামাকগে অাঁধার
অন্ধ-হৃদয় অধিক ধাঁধার
যত কথা বলো তুমি বোবার অধিক নয়।

ড্রাকনেস

সেভাবেই বেঁচে আছি—
সভ্যতা থেকে উঠে আসা
প্রাচীন মুদ্রা;
বুকে ছাপা ও সীলমোহর
সময়ের কাছে নিষ্প্রভ যেন।
শামুকের মতো বসবাসহীন জায়গা—
সেখানে মুক্তাখচিত সুরাপাত্রের মধ্যে
ঝরে পড়ছে শিশির দানা।
কবর থেকে গজিয়ে ওঠা রহস্যবৃক্ষে
ডুব দিয়ে দেখি—
সূর্যালোকে পুড়ে যায়
স্বর্গীয় শিশু।
আমি ভুলে যাই—
বেঁচে থাকাই কর্মভার প্রাপ্তি
নদীর স্রোত যেমন বয়ে চলে—
তার উৎস থেকে বের হয়ে।
আমি ভুলে যাই—
সেইসব মহান আত্মা-
অর্জন করে শক্তি
তার ভাবনা থেকেই।
আমি ভুলে যাই—
প্রকৃতির ব্যাকরণ,
যার একটি ফুল অন্যটি পাতা।
আমার খেয়াল
ধ্যানের স্তবক
বাগ্মীর মন্ত্র নিয়ে বসে আছে
নির্জন পাহাড়।
প্রতিদিনের সূর্যোদয়
সূর্যাস্ত
রাত্রি ও তারার আকাশ-
দৃষ্টিবিনিময়ে খুলে যায়।
মনে হয়, আমি কোনও চারণ কবি
গায়ক
অথবা বৈশ্বিক আত্মা।
যখন মিশে যেতে চাই
হাতে কফির মগ
দেখি—
সিসিলির আগ্নেয়গিরি
টেনে দিয়েছে বৃত্ত।
তার ভেতরে হাঁটতেই
ফাটল ধরে নিজের তৈরি বিশ্বাস।
মন-ব্রত-পাঠে পাওয়া যায় না ঈশ্বর।
যখন শেওলানো স্তর
ছোঁবে আমাদের ওষ্ঠ
তার আগেই পানপাত্র ফেলে
উড়ে যায় প্রজাপতিরা।
যখন শক্ত করি রেশম গুঁটি
রাঙাই মন,
তামার ফলকে
বরফের ঘুণ
খেয়ে নেয় আমার কঙ্কাল।
ধ্যানস্থ মানুষ উঠে গেলে
বোধিবৃক্ষ
একা হয়ে যায়,
তখন সাদাপাখা হংসের মতো
চিৎকার করি।
অপ্রতিরোদ্ধ জলের ফোঁটার মতো
ছড়িয়ে গেলে একবার
একত্রিত হওয়া যায় না

জ্যামিতি

চারপাশে দাগটেনে বসে থাকি
কাঁটা স্থির থাকার দরুন বৃত্ত হয়
পৃথিবী হয়,
জীবনের কক্ষপথ মেপে নিয়েছি
মানুষের তাড়াহুড়া দেখে এই ধারণা
পোষণ করি,
নদীর চেয়ে বড় কোনও দৌড় নাই।

About এম মোস্তাকিম বিল্লাহ্

আরও দেখুন

48420720_2328356860719027_2408076536667176960_n

শামস্ রুবেলের গুচ্ছ কবিতা

আবিষ্কার চোখের জল ধরে রাখার কৌশল রপ্ত করে দেখি, ডুবে গেছি। যেভাবে ভেসে যাওয়ার আগে …

Leave a Reply