Home / শিল্প-সাহিত্য / বাংলাদেশ কবি পরিষদ (বাকপ)-এর সাক্ষাতকার পর্ব-১৩ কবি দীলিপ দাশ

বাংলাদেশ কবি পরিষদ (বাকপ)-এর সাক্ষাতকার পর্ব-১৩ কবি দীলিপ দাশ

আজকের কবিঃ কবি দীলিপ দাশ, সাক্ষাতকার গ্রহণেঃকবি সাজিব চৌধুরী । 

 

আজকের কবিঃ কবি দীলিপ দাশ,
সভাপতি, ভারত বাংলাসাহিত্য বাকপ পরিবার।
সাবেক আন্তর্জাতিক কবি পরিষদ থেকে কাব্যসারথি খেতাবপ্রাপ্ত কবি।
সাক্ষাতকার গ্রহণেঃ সাজিব চৌধুরী,
স্থায়ী/আজীবন সদস্য, বাংলাদেশ কবি পরিষদ(গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত)।
প্রধান সমন্বয়ক, ভারত বাংলাসাহিত্য বাকপ পরিবার।

কবি পরিচিতিঃ

কবি দীলিপ দাশ ১৯৫৫ সালের ৩১ আগষ্ট বুধবার সদ্যযৌবনা রাতে এক শুভ মুহুর্তে এই সুন্দর পৃথিবীর আলো বাতাসে আগমন।
পিতা স্বর্গীয় চিত্তরঞ্জন দাশ এবং মাতা মহামায়া দাশের স্নেহপরশে শৈশব, কৈশোর অতিক্রম করেন,যৌবনের সাথে পরিচয়ের আগেই তাঁর পিতৃবিয়োগ ঘটে।নানা প্রতিকুল পরিস্থিতির সঙ্গে যুদ্ধ করে মা মহামায়া দাশ দুই ভাই ও এক বোনকে লালন পালন করে মানুষ করেছেন। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি পড়ালেখা চালিয়ে গেছেন। স্নাতক পর্যন্তই তাঁর একাডেমিক শিক্ষা।বাংলার ছাত্র হিসাবে বাংলা কবিতার প্রতি রয়েছে অফুরান প্রেম। তিনি বলেন, “অভাবের তাড়নায় চাকুরীতে যোগদান।যদিও পরে সম্মান জনক পদে সম্মানের সহিত বহাল ছিলাম।এখন অবসর নিয়েছি মাস ছয়েক হবে। দারাপুত্র পরিবার নিয়ে আমি সুখী,
এখন একমাত্র কাজ কাব্য সাধনা।”
কবি দিলীপ দাশকে আমরা সনেট-কবি হিসাবেই বেশি চিনি যদিও তিনি বিভিন্ন ছন্দে অসংখ্য কবিতা লিখেছেন। তিনি বিভিন্ন সাহিত্য সংগঠন থেকে অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন।

বাকপঃ লেখালেখি কখন থেকে শুরু?

দীলিপ দাশঃ আমার লেখালেখি শুরু ছাত্রজীবন থেকেই যদিও মূল্যায়ন পাইনি।স্কুল ,কলেজের ম্যাগাজিনে কিছু কবিতা প্রকাশিত হয়েছিল।

বাকপঃ লেখালেখির প্রেরণা কোথায় থেকে পেয়েছেন? 

দীলিপ দাশঃ
আমি মায়ের কাছ থেকে প্রেরণা পেয়েছি।আমাদের বাড়িতে শ্রাবণ মাসে মা মনসামঙ্গল পাঠ করতেন ,তখন কাছে বসে শুনতাম, তখন থেকেই ছন্দময়তার উপর আমার আকর্ষণ ছিল। মা সুর করে পয়ার , ত্রিপদী, লাছাড়ী পড়তেন আর আমি মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনতাম। তার পর মায়ের সাথে সহযোগ করা শুরু হলো, আমিও গাইতে শুরু করি।এই পদ্মপূরাণ থেকেই আমার ছন্দময় আকর্ষণ, আর ছন্দ থেকে পদ্য লেখার উৎসাহ।

বাকপঃ আপনার প্রথম লেখা সম্পর্কে বলুন।

দীলিপ দাশঃ
আমার জীবন প্রখম লেখার সাহস করি যখন ক্লাস সেভেনে পড়ি।তখন আমার স্কুলে রজতজয়ন্তী উপলক্ষে স্মরণিকা বের হয়। সাহস করে একখানা পদ্য লিখে জমা দিয়েছিলাম।তা প্রকাশিত দেখে যা আনন্দ হয়েছিল ভাষা নেই ব্যক্ত করার মত।তারপর অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা শুরু করি, কোনটা প্রকাশিত হতো, কোনোটা হত না।লিখা কিন্তু বন্ধ করিনি আমি। ভুল শুদ্ধ যাহোক প্রবণতা বেড়ে গেলো। চলছে এখনো।

বাকপঃ আপনার প্রিয় কবি/লেখক কারা?

দীলিপ দাশঃ
অন্তরে তো রবীন্দ্র, নজরুল, সুকান্ত, আর প্রিয়কবি বলতে গেলে মাইকেল মধুসুদন,জীবনানন্দ প্রমুখ।

বাকপঃ কবিতা সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?

দীলিপ দাশঃ
কবিতা সম্বন্ধে আমার অভিমত
কবিমননের প্রতিবিম্বের প্রতিফলনে যে চিত্র অঙ্কিত হবে কবির ক্যানভাসে তাহাই কবিতা।কবিতা শেখার কোনো ইউনিভার্সিটি নেই, কবিতা নির্মাণ ঈশ্বর প্রদত্ত বলে আমার বিশ্বস।
আজকাল মানুষের জীবনশৈলীর যেমন বিবর্তন হয়েছে কবিতার ক্ষেত্রেও রুচিবোধের বিবর্তন ঘটেছে ফলে রবীন্দ্রযুগ থেকে ক্রমবর্ধমান আধূনিক নির্মাণশৈলীর প্রবর্তনে কবিতার পরিবর্তনশৈলী লক্ষ্যনীয়।তবুও আমি ছন্দময়তার উপর গুরুত্ব আরোপে বিশ্বাসী।
কবিতা পাঠে পাঠক হৃদয়ে ছন্দময়তার দোলা যদি অনুভূত না হয় সেটাকে কাব্যগুণে ধনী কবিতা আমি মনে করি না।
যদিও আধূনিক কবিতা আজ বিশ্বমানের মহিমায় সুপ্রতিষ্ঠিত।

বাকপঃ আপনার ভাললাগা বা মন্দলাগা বিষয় সম্পর্কে কি একটু বলবেন?

দীলিপ দাশঃ
দিনে চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে সিংহভাগ সময় যদি কাব্যসাধনায় অতিবাহিত হয় তখন অবশ্যই বলবো কবিতা নির্মাণ আমার সব চেয়ে ভালো লাগে।
আর সব চেয়ে ঘৃণা করি পরনিন্দা, পরচর্চা, ঈর্ষা, আর তুষ্টিকরণ। এই আমার ভালো মন্দের এপিট ওপিট।

বাকপঃ গ্রুপ সাহিত্য নিয়ে আপনার ধারণা কী?

দীলিপ দাশঃ
গ্রুপ সাহিত্য তো ঈশ্বরের অনন্য বরদান মনে করি আমি।
তুষ্টিকরণের বদান্যতায় অনেক ভাল লেখকও ডাষ্টবিন দেখে।
অনলাইন গ্রুপ সাহিত্য অনেক কবি লেখক আবিস্কারে যে অবদান রেখেছে তা ঈর্শনীয়।নিন্দুকেরা যে যা বলুক
গ্রুপের বদান্যতায় এখন অনেক কবি স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত। বিশ্বমানের কাব্যচর্চার পথ প্রসস্থ করে সাহিত্য আকাশের পরিধি প্রসারিত করার লক্ষ্যে ব্রতী এই গ্রুপ সাহিত্যচর্চা, তা অস্বীকার করার কথা নয়।

বাকপঃ আপনি তো ভারত বাংলাসাহিত্য বাকপ পরিবারের সম্মানিত সভাপতি। এই সাহিত্যসংগঠন আপনার কাছে কেমন লাগে?

দীলিপ দাশঃ
ভারত বাংলাসাহিত্য বাকপ পরিবারের সভাপতি হিসেবে আমি অত্যন্ত গর্বিত।
এই সংগঠন আমার অন্তরে প্রতিষ্ঠিত সে বিষয়ে দ্বিমত থাকার কথা নয়। এটি অন্য যেকোন সংগঠন থেকে ভিন্ন।

বাকপঃ সাহিত্য নিয়ে আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী?

দীলিপ দাশঃ
বাংলা সাহিত্যে প্রচার ও প্রসারে মনোনিবেশ করাই লক্ষ্য।পাশাপাশি আমি এখন সনেট সাধনায় মগ্ন, আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো ১০০ সনেটের অর্ঘ্য সাজিয়ে সনেট শতক,, কাব্যগ্রন্থ উন্মোচন করা এবং এটাই একমাত্র লক্ষ্য।

বাকপঃ বর্তমান প্রজন্মের উদ্দেশ্যে আপনার কি কিছু বলার আছে, প্রিয় কবি?

দীলিপ দাশঃ
আমি বর্তমান প্রজন্মের উদ্দ্যেশ্যে একটি কথাই বলবো, তারা যেন যে কোন পরিস্থিতিতে নিজের মাতৃভাষার প্রতি দায়বদ্ধতা ভুলে না যায়।কেন না রক্তের বিনিময়ে এসেছে আমাদের কাঙ্ক্ষিত মাতৃভাষা।
তাই মাতৃভাষার প্রচার ও প্রসারের নৈতিক দায়িত্বও আমাদেরই, সে কথা ভুলে গেলে চলবে না।

বাকপঃ আপনার মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

দীলিপ দাশঃ বাকপ পরিবারের সকলের প্রতি অনিঃশেষ ভালোবাসা।
————————-
তারিখঃ ২৯/০১/১৯ ইং।

About এম মোস্তাকিম বিল্লাহ্

আরও দেখুন

16807761_108883132969378_7659074573731222117_n

আঞ্জুমন আরা’র দু’টি ছড়া

আঞ্জুমন আরা’র দু’টি ছড়া খুকুমনির বই মেলা।   বই মেলাতে যাবে খুকু বায়না ধরেছে, গোমরা …

Leave a Reply