Home / শিল্প-সাহিত্য / কবিতা / ছন্দে ছন্দে শামস্ রুবেল

ছন্দে ছন্দে শামস্ রুবেল

বাঘবন্দি

বৃথায় কি আর ঝুইলা থাকি গগন শিরিষ ছাদে
আটকে গেছে মুখটি তোমার কোস্টারিকার চাঁদে।
এমন তো নেই পানসি কোথাও চান্দে ভেসে যাবো
তারচে’ ভালো নদীর দেশে মাছ হয়ে চাঁদ খাবো।
ডাকছি আমি ‘পাহারাদার’ রাতের আঁধার দিয়ে
টগবগিয়ে ভাতের হাঁড়ি কার বুকে কে নিয়ে!
এমন তো নয় পক্ষী আমি চান্দে উড়াল দেবো
তারচে’ ভালো মাকড়সাদের জাল বুনে আটকাবো।

দাগ

আমার আমি লোপাট হয়ে তোমার দিকে যাই
যাইতে গিয়ে মনের টানে পিছন ফিরে চাই।
মাথার উপর স্কন্দকাঁটা গৃহের নিচু ছাদ
ড্রাম-টাওয়ারে পিনিক ওঠে ধূসর অবসাদ।
শহরতলীর তিরিশ বছর সুদেমূলে ব্যয়
গাছের নিচে সবুজ হয়ে দাঁড়ানো অন্যায়।
সাঁতার শেখার আগে তোমার ছিল জলের ভয়
বিশালাক্ষী ডুইবা মরে জলের অবক্ষয়।
চোখের তারায় প্রস্ফুটিত উষ্ণ নীল নদ
ভাইসা গেছে পাতার খামে মুখের প্রচ্ছদ।
ঘরে ফেরার পথেও থাকে সৈন্যদলের ভয়
দু-এক ফোঁটা তোমার জন্য রুমালে সঞ্চয়।
পাখ-পাখালি উইঠা দাঁড়ায় থাইমা গেলে ঝড়
শক্ত করি রেশম গুটি আরেক জনম পর।
অবজ্ঞাতে হৃদয় ভাঙে অ-য-ত-নে ঝোপ
চিহ্নিত হই নিজের কাছে বসাও যখন কোপ।

ঘুটেকুড়ানির দেশ

ঘুমের থেকে উঠলো জেগে মড়া
খেলবে এবার শিঙ-ছাওয়ালের মতো
হল্লা দিয়ে দেখছি তারার ঝরা
জ্বেলে আগুন রইলো অবিক্ষত।
কালের চোয়াল বেষ্টনীতে ঘুষি
যে যাই বলে বলুক গে সব লোকে
জিন্দা রেখে আমার মড়া পুষি
ঝগড়া-কাকে টানছে নাড়ী শোকে।
বর্ষাজীবী শুকিয়ে কাঠ মাঠে
পান্থপথে বসলো মড়ার হাট
করাত-কলে মোদের রাত্রি কাটে
চোখ মেলেনা ধোঁয়ার মতো ঘাট।

দরজা

(আবিদ আজাদের খিড়কি কবিতা পড়ে)
দরজা ছিল বুকের ভেতর দরজা ডানে বামে
দরজা ছিল বন্ধ করার দরজা খোলার কামে।
দরজা ছিল চোখের ভেতর অবিশ্বাসের ঘাসে
দরজা ছিল দরজা দিয়ে আষাঢ় শ্রাবণ মাসে।
দরজা ছিল দশ-পনেরো ঘর ছিল না তাতে
দরজা ছিল টাটকা খড়ের দরজা প্রতিক্ষাতে।
দরজা ছিল প্র-তি-দি-নে-র কিটিমিটি দাঁতে
দরজা ছিল উদোম হয়ে ছিটকি টানা রাতে।

ক্ষয়

জামার থেকে পকেট তোমার বড়
পেছন দিকে সিলমোহরের ছাপ
জামার ভেতর তুমি জড়সড়
ক্ষুধার পকেট কার্যত উত্তাপ।
জলের নিচে ওয়ুত ছুরির আঁক
ছলকে ওঠে হঠাৎ মৃত চোখ
মাথার উপর আকাশ দুর্বিপাক
পকেট ভরা তোমার হরেক লোক।
বাউরি বাতাস ফুল ফোটালে রাত
হাঁটলে পায়ে যায় জড়িয়ে জাল
হোঁচট খেয়ে কতেক তারা কাত
লিঙ্গভেদে পকেট উন্মাতাল।

জন্মান্ধ

এক দুই করে খসে পড়ে সব তারা
একটি ভবন দঁাড়িয়ে খোলস ছাড়া।
ফ্যাল ফ্যাল করে তাকায় কেনিব্রাউন
তুমি যাকে দেখ অন্ধ দেখে দ্বি-গুন।
যূপকাষ্ঠে জমে থাকে ধুম্রজাল
আঁধারে স্খলিত বৃক্ষের কঙ্কাল
পোড়া মাটি থেকে শুধু উড়ে আসে নুন
ফলায় নিষ্ফলা বুক ‘কেনিব্রাউন।’

দূরাগত

তবু আছি একসাথে ঘুমে
মাঝখানে তুলে দাও আল
ধাপে ধাপে নেমে আসি নিচে
দুই ধারে খড়ের দজ্জাল।
বৃক্ষ তার খেয়ে নেয় ছায়া
এরুপ ভালোবাসা নিষ্পাপ?
এমনকি আকস্মিকভাবে
মহিষেরা ছড়ায় উত্তাপ।
অস্বচ্ছ আকাশের ওপর
ফুটে রয় তীর্থজল চোখ
যাই আফিম বৃক্ষের দিকে
জুনের গোলাপ ঝরা শোক।
ছায়ার পর প্রচ্ছায়া আসে
সাগরে নোনতা বালির ঝড়
আমরা বয়ে যাই পাশাপাশি
এতো কাছে তবু নিরুত্তর।

উদ্ধার

রাতের কাছে দিন মরে যায়
দিনের কাছে রাত
তোমার সাথে হয় না দেখা
আমার অকস্মাৎ।
মরুভূমির তঁাবুর নিচে
বেদূইনের দল
বালিয়াড়ি পায় না খঁুজে
নিরুত্তরের জল।
জানলা খুলে হাত বাড়িয়ে
দেশান্তরে মুখ
তাম্রলিপি শব্দ হারায়
পোকারা উৎসুক।
স্নায়ু গুলো নদীর মতো
চুলেরা উদ্ভিদ
হিসেব করে দেয় না হদিস
কোনও গণিতবিদ।
কে ধরেছে কবে বলো
ছঁাকনা দিয়ে জল
তোমার সাথে আজ ব্যবধান
আকাশ মাটি তল।
নয় অচেনা গাছের কাছে
অচিন কোনও গাছ
পাশাপাশি থেকেও মানুষ
আজানা উচ্ছ্বাস।
নদীর দিকে জ্বলছে বাতি
স্বয়ং মহাকাল
শাক্যমুনি ধাক্কা মারো
চোখেতে সক্কাল।

জলসা

সুজন তোমার রান্নাঘরে পচা
বাসোন-কোসন গন্ধে সমাজপতি
গঞ্জিকাতে টান মেরে চোখ র চা
ভাঙ্গা গালে নির্জলা দুর্গতি।
সুজন তোমার ভাইয়া ছত্রপতি
খিল-দরজায় ফুরায় আয়ুষ্কাল
চোখের জলে হয় না দুঃখের ক্ষতি
ওই বুঝি তার উঠলো নায়ে পাল।
সুজন তোমার উপর হুকুম জারি
সামনে মাসে খঁুজতে হবে বাসা
দাঁড়িপাল্লার ঝুলন ধরে ছাড়ি
আর কটাদিন বাঁচার উচ্চাশা।
সুজন তোমার চুলায় আগুন জ্বলে
দেখতে যেমন মুখের মায়া হাসি
গা ঢেকে যায় দুই জোড়া বল্কলে
ভাইয়া তোমার টানছে রাশি রাশি।
সুজন তারা একই মায়ের পুত
মাঝখানে ওই দাঁড়ায় সমাজপতি
পাল্লা দিয়ে উড়ছে যমের দূত
ছাড় দিও না এজলাসে একরতি।

উপাস্য

জড়তা কাটেনি মুখে চোখের আশ্রয়
ফসকে কথার ছুরি হবে নয়-ছয়।
কিছু না ছুঁয়েই জল, স্পেস-ছুট খুলে
অভিযান শেষে কেন মাটিতেই শুলে?
চাঁদেরও থাকে ধ্যান জোছনা আকাশ
প্রত্যুষ-প্রদোষে তুমি তার উপহাস !
মাটিতে জরির কাজ বুক পাটাতন
বিন্দুতে পৌঁছার আগে মধ্য-আকর্ষণ।
দুরত্ব ওড়াতে নয় ধুলো ধোঁয়া মনে
হৃদয়ে শিকল এঁটে ঘুরি বনে বনে।
আয়ত্ত করেছ কথা বলা রেডিমেট
কাপড়ে চোপড়ে নদী শ্মশানের গেট।
আবৃত শামুকে তুৃমি পিঠে চোখ খোলা
দেখেছ ভেতর থেকে বাহিরে অবলা।
আঁধারে হেসো না ভুলে বিগ্রহের ক্রুশ
আলো সব বলে দেয় বলে না কঞ্জুস।
যেখানে ঠেকেছে পিঠ ভাগ-বাটোয়ারা
জল্পনা কল্পনা থাকে প্রেমে মাতোয়ারা।
জড়তা কাটেনি মুখে অঝোর বিস্ময়
বেলেডে আগুন কেটে বরফের ক্ষয় !
59488684_1377954922397395_1709773012489732096_n

About এম মোস্তাকিম বিল্লাহ্

আরও দেখুন

49759140_1758787040894535_2883649842922389504_n

গঠিত হলো বাংলাদেশ কবি পরিষদ(বাকপ ) ঢাকা মহানগর কমিটি

গত (২৫/০১/২০১৯ইং) বাংলাদেশ কবি পরিষদ(বাকপ) আয়োজিত সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্র ঢাকা’য় অনুষ্ঠিত হলো সাহিত্য আলোচনা,কবিতা পাঠ, …

Leave a Reply