Home / এম মোস্তাকিম বিল্লাহ্

এম মোস্তাকিম বিল্লাহ্

ছন্দে ছন্দে শামস্ রুবেল

বাঘবন্দি

বৃথায় কি আর ঝুইলা থাকি গগন শিরিষ ছাদে
আটকে গেছে মুখটি তোমার কোস্টারিকার চাঁদে।
এমন তো নেই পানসি কোথাও চান্দে ভেসে যাবো
তারচে’ ভালো নদীর দেশে মাছ হয়ে চাঁদ খাবো।
ডাকছি আমি ‘পাহারাদার’ রাতের আঁধার দিয়ে
টগবগিয়ে ভাতের হাঁড়ি কার বুকে কে নিয়ে!
এমন তো নয় পক্ষী আমি চান্দে উড়াল দেবো
তারচে’ ভালো মাকড়সাদের জাল বুনে আটকাবো।

দাগ

আমার আমি লোপাট হয়ে তোমার দিকে যাই
যাইতে গিয়ে মনের টানে পিছন ফিরে চাই।
মাথার উপর স্কন্দকাঁটা গৃহের নিচু ছাদ
ড্রাম-টাওয়ারে পিনিক ওঠে ধূসর অবসাদ।
শহরতলীর তিরিশ বছর সুদেমূলে ব্যয়
গাছের নিচে সবুজ হয়ে দাঁড়ানো অন্যায়।
সাঁতার শেখার আগে তোমার ছিল জলের ভয়
বিশালাক্ষী ডুইবা মরে জলের অবক্ষয়।
চোখের তারায় প্রস্ফুটিত উষ্ণ নীল নদ
ভাইসা গেছে পাতার খামে মুখের প্রচ্ছদ।
ঘরে ফেরার পথেও থাকে সৈন্যদলের ভয়
দু-এক ফোঁটা তোমার জন্য রুমালে সঞ্চয়।
পাখ-পাখালি উইঠা দাঁড়ায় থাইমা গেলে ঝড়
শক্ত করি রেশম গুটি আরেক জনম পর।
অবজ্ঞাতে হৃদয় ভাঙে অ-য-ত-নে ঝোপ
চিহ্নিত হই নিজের কাছে বসাও যখন কোপ।

ঘুটেকুড়ানির দেশ

ঘুমের থেকে উঠলো জেগে মড়া
খেলবে এবার শিঙ-ছাওয়ালের মতো
হল্লা দিয়ে দেখছি তারার ঝরা
জ্বেলে আগুন রইলো অবিক্ষত।
কালের চোয়াল বেষ্টনীতে ঘুষি
যে যাই বলে বলুক গে সব লোকে
জিন্দা রেখে আমার মড়া পুষি
ঝগড়া-কাকে টানছে নাড়ী শোকে।
বর্ষাজীবী শুকিয়ে কাঠ মাঠে
পান্থপথে বসলো মড়ার হাট
করাত-কলে মোদের রাত্রি কাটে
চোখ মেলেনা ধোঁয়ার মতো ঘাট।

দরজা

(আবিদ আজাদের খিড়কি কবিতা পড়ে)
দরজা ছিল বুকের ভেতর দরজা ডানে বামে
দরজা ছিল বন্ধ করার দরজা খোলার কামে।
দরজা ছিল চোখের ভেতর অবিশ্বাসের ঘাসে
দরজা ছিল দরজা দিয়ে আষাঢ় শ্রাবণ মাসে।
দরজা ছিল দশ-পনেরো ঘর ছিল না তাতে
দরজা ছিল টাটকা খড়ের দরজা প্রতিক্ষাতে।
দরজা ছিল প্র-তি-দি-নে-র কিটিমিটি দাঁতে
দরজা ছিল উদোম হয়ে ছিটকি টানা রাতে।

ক্ষয়

জামার থেকে পকেট তোমার বড়
পেছন দিকে সিলমোহরের ছাপ
জামার ভেতর তুমি জড়সড়
ক্ষুধার পকেট কার্যত উত্তাপ।
জলের নিচে ওয়ুত ছুরির আঁক
ছলকে ওঠে হঠাৎ মৃত চোখ
মাথার উপর আকাশ দুর্বিপাক
পকেট ভরা তোমার হরেক লোক।
বাউরি বাতাস ফুল ফোটালে রাত
হাঁটলে পায়ে যায় জড়িয়ে জাল
হোঁচট খেয়ে কতেক তারা কাত
লিঙ্গভেদে পকেট উন্মাতাল।

জন্মান্ধ

এক দুই করে খসে পড়ে সব তারা
একটি ভবন দঁাড়িয়ে খোলস ছাড়া।
ফ্যাল ফ্যাল করে তাকায় কেনিব্রাউন
তুমি যাকে দেখ অন্ধ দেখে দ্বি-গুন।
যূপকাষ্ঠে জমে থাকে ধুম্রজাল
আঁধারে স্খলিত বৃক্ষের কঙ্কাল
পোড়া মাটি থেকে শুধু উড়ে আসে নুন
ফলায় নিষ্ফলা বুক ‘কেনিব্রাউন।’

দূরাগত

তবু আছি একসাথে ঘুমে
মাঝখানে তুলে দাও আল
ধাপে ধাপে নেমে আসি নিচে
দুই ধারে খড়ের দজ্জাল।
বৃক্ষ তার খেয়ে নেয় ছায়া
এরুপ ভালোবাসা নিষ্পাপ?
এমনকি আকস্মিকভাবে
মহিষেরা ছড়ায় উত্তাপ।
অস্বচ্ছ আকাশের ওপর
ফুটে রয় তীর্থজল চোখ
যাই আফিম বৃক্ষের দিকে
জুনের গোলাপ ঝরা শোক।
ছায়ার পর প্রচ্ছায়া আসে
সাগরে নোনতা বালির ঝড়
আমরা বয়ে যাই পাশাপাশি
এতো কাছে তবু নিরুত্তর।

উদ্ধার

রাতের কাছে দিন মরে যায়
দিনের কাছে রাত
তোমার সাথে হয় না দেখা
আমার অকস্মাৎ।
মরুভূমির তঁাবুর নিচে
বেদূইনের দল
বালিয়াড়ি পায় না খঁুজে
নিরুত্তরের জল।
জানলা খুলে হাত বাড়িয়ে
দেশান্তরে মুখ
তাম্রলিপি শব্দ হারায়
পোকারা উৎসুক।
স্নায়ু গুলো নদীর মতো
চুলেরা উদ্ভিদ
হিসেব করে দেয় না হদিস
কোনও গণিতবিদ।
কে ধরেছে কবে বলো
ছঁাকনা দিয়ে জল
তোমার সাথে আজ ব্যবধান
আকাশ মাটি তল।
নয় অচেনা গাছের কাছে
অচিন কোনও গাছ
পাশাপাশি থেকেও মানুষ
আজানা উচ্ছ্বাস।
নদীর দিকে জ্বলছে বাতি
স্বয়ং মহাকাল
শাক্যমুনি ধাক্কা মারো
চোখেতে সক্কাল।

জলসা

সুজন তোমার রান্নাঘরে পচা
বাসোন-কোসন গন্ধে সমাজপতি
গঞ্জিকাতে টান মেরে চোখ র চা
ভাঙ্গা গালে নির্জলা দুর্গতি।
সুজন তোমার ভাইয়া ছত্রপতি
খিল-দরজায় ফুরায় আয়ুষ্কাল
চোখের জলে হয় না দুঃখের ক্ষতি
ওই বুঝি তার উঠলো নায়ে পাল।
সুজন তোমার উপর হুকুম জারি
সামনে মাসে খঁুজতে হবে বাসা
দাঁড়িপাল্লার ঝুলন ধরে ছাড়ি
আর কটাদিন বাঁচার উচ্চাশা।
সুজন তোমার চুলায় আগুন জ্বলে
দেখতে যেমন মুখের মায়া হাসি
গা ঢেকে যায় দুই জোড়া বল্কলে
ভাইয়া তোমার টানছে রাশি রাশি।
সুজন তারা একই মায়ের পুত
মাঝখানে ওই দাঁড়ায় সমাজপতি
পাল্লা দিয়ে উড়ছে যমের দূত
ছাড় দিও না এজলাসে একরতি।

উপাস্য

জড়তা কাটেনি মুখে চোখের আশ্রয়
ফসকে কথার ছুরি হবে নয়-ছয়।
কিছু না ছুঁয়েই জল, স্পেস-ছুট খুলে
অভিযান শেষে কেন মাটিতেই শুলে?
চাঁদেরও থাকে ধ্যান জোছনা আকাশ
প্রত্যুষ-প্রদোষে তুমি তার উপহাস !
মাটিতে জরির কাজ বুক পাটাতন
বিন্দুতে পৌঁছার আগে মধ্য-আকর্ষণ।
দুরত্ব ওড়াতে নয় ধুলো ধোঁয়া মনে
হৃদয়ে শিকল এঁটে ঘুরি বনে বনে।
আয়ত্ত করেছ কথা বলা রেডিমেট
কাপড়ে চোপড়ে নদী শ্মশানের গেট।
আবৃত শামুকে তুৃমি পিঠে চোখ খোলা
দেখেছ ভেতর থেকে বাহিরে অবলা।
আঁধারে হেসো না ভুলে বিগ্রহের ক্রুশ
আলো সব বলে দেয় বলে না কঞ্জুস।
যেখানে ঠেকেছে পিঠ ভাগ-বাটোয়ারা
জল্পনা কল্পনা থাকে প্রেমে মাতোয়ারা।
জড়তা কাটেনি মুখে অঝোর বিস্ময়
বেলেডে আগুন কেটে বরফের ক্ষয় !
59488684_1377954922397395_1709773012489732096_n

স্বাধীনতা পদক অর্জন করায় আরব আমিরাতে সংবর্ধনায় সিক্ত হলেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি।

স্বাধীনতা পদক অর্জন করায় আরব আমিরাতে সংবর্ধনায় সিক্ত হলেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি।

 59138241_300870277503857_913600450790424576_n
মোহাম্মদ মনির উদ্দিন মান্না:-
মহান মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্মাননা স্বাধীনতা পদক লাভ করায় মীরসরাই থেকে ৭ বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম সহযোদ্ধা, আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য,সাবেক মন্ত্রী
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি কে সংবর্ধিত করেছে মিরসরাই সমিতি, সংযুক্ত আরব আমিরাত।
 
গত ১লা মে, বুধবার, আজমান মহিন-৩, সন্ধ্যায় আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ছিলো কানায় কানায় পূর্ণ। স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করায় মিরসরাই সমিতির পক্ষ থেকে ও সংগঠনের দেয়া ক্রেষ্ট ও ফুলেল শুভেচ্চায় সিক্ত হয়েছেন মিরসরাইয়ের গণমানুষের নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।
 
স্বাধীনতা পদকে ভূষিত সংবর্ধিত মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মিরসরাই বাসী দলের নেতাকর্মীদের সম্মাননায় আবেগে আপ্লুত হন। তিনি স্মৃতিচারণ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনীতির দীর্ঘ গতিপথের মুহূর্ত। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সহকর্মী ও সহযোদ্ধাদের আন্তরিক ভূমিকার জন্য। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ খেতাব স্বাধীনতা পুরষ্কারে ভুষিত হওয়ায় আমি সম্মানিত বোধ করছি। ১৯৭১ সালে যারা স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন তারাও সম্মানিত হয়েছেন।আমাকে রাষ্ট্রের এই সর্বোচ্চ সম্মান প্রদান করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও এই সরকার পুরো মীরসরাইবাসীকে গর্বিত করলো। পুরো চট্টগ্রাম বাসীকে ধন্য করলো। আমি আমার এই অর্জন মীরসরাইবাসী সহ মহান মুক্তিযুদ্ধে সকল শহীদ ও সকল আত্মত্যাগকারীগনের জন্য উৎসর্গ করলাম। স্মৃতিচারন কালে তিনি বলেন বঙ্গবন্ধু যখন ৭ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষনা করেছিলেন। ঠিক তার কিছুদিন পর মীরসরাইয়ে ও যখন যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে তখম মীরসরাইয়ের এই আবুতোরাব বাজারে দাঁড়িয়ে আমি ও স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছিলাম। শুভপুর ব্রীজ এলাকা সহ বিভিন্ন এলাকায় আমার সক্রিয় অংশগ্রহনকালের অনেক সহকর্মী আজ বেঁচে নেই। তিনি সকলের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে অর্জিত স্বাধীনতাকে অর্থবহ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি অসাম্প্রদায়িক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ায় আত্মনিবেদিত থাকার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
 
ফখরুল ইসলাম খান সিআইপি তার বক্তব্যে বলেন,
মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনীতিতে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের কৃতিত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তুলে ধরেন দেশের বর্তমান রাজনীতির চিত্র। তিনি বলেন, অর্থনীতি ও উন্নয়নসহ বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, যার স্বীকৃতিও মিলেছে। পাকিস্তান এবং পাকিস্তানের বুদ্ধিজীবীরাও বাংলাদেশের সুনাম করেন। বাংলাদেশকে তারা উন্নয়নের রোল মডেল ভাবছেন।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন কে অনাবিল শুভেচ্ছা, অভিনন্দন জানান এবং দীর্ঘায়ু হয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনীতিতে ভূমিকা রেখে যাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরো বলেন আমরা দেশ থেকে দূরে আছি, দূরত্বে নয়। আঞ্চলিকতা ঘুচিয়ে এই দূর প্রবাসে আমরা সবাই বাংলাদেশি। আত্মীয়স্বজন ছেড়ে এসে প্রবাসের ব্যয়বহুল জীবিকা নির্বাহের জন্য চাকরির পাশাপাশি সমাজসেবার সংগঠন করে থাকি। আমাদের আন্তরিক চেষ্টা থাকবে মেধা, যোগ্যতা ও সততা দিয়ে image এখানে স্বতন্ত্র ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে। আমাদের কাজের মধ্য দিয়ে সুনাম, আস্থা, তথ্য প্রযুক্তি, মেধা ও জ্ঞান নির্ভর কমিউনিটি হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠুক বাঙালি জাতি। এটা সম্পূর্ণভাবে অরাজনৈতিক একটি সংগঠন। বিদেশ বিভুঁইয়ে আমরা সবাই সবার জন্য। ভিন্ন পরিবেশ, ভিন্ন সত্তা ও মতভিন্নতা নিয়ে বেড়ে ওঠা প্রতিটি মানুষই ভিন্ন মেজাজ মর্জির। তবে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ আমাদের ধর্ম-বিশ্বাস, দল বা মতাদর্শ যাই থাকুক না কেন আমরা পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও ভালোবাসায় আবদ্ধ।
 
মিরসরাই সমিতি,সংযুক্ত আরব আমিরাত এর সভাপতি, খাঁন সিটি সেন্টার, সুমাইয়া গ্রুপ, এফ, আই ,কে,প্রোপার্টিজ ডেভেলপমেন্ট লিঃএর চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট শিল্পপতি ফখরুল ইসলাম খান সি আই পির সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আজম
সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সংবর্ধিত অতিথি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি।
 
বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও ব্যাবসায়ী,মোহাম্মদ মীর আলম মাসুক,
মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগ এর সাংগঠনিক সম্পাদক, করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন,বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া সহ প্রমুখ।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপস্থিত ছিলেন।
মিরসরাই সমিতির প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ আবুল হাশেম ভূঁইয়া, প্রধান পৃষ্ঠাপোষক আলহাজ্ব মাজহার উল্ল্যাহ মিয়া, উপদেষ্টা মোহাম্মদ জাফর উল্ল্যাহ, উপদেষ্টা, জসিম উদ্দিন, উপদেষ্টা ইউসুফ শরীফ, উপদেষ্টা আবু ছায়েদ মোহাম্মদ ইউনুছ,উপদেষ্টা মোহাম্মদ আখতার উদ্দিন পারভেজ, সহসভাপতি সালা উদ্দিন হেলাল, নাজিম উদ্দীন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন আলতাফ,
কবি ও কথা সাহিত্যিক মুহাম্মদ মুসা, ব্যাংকার মোহাম্মদ জাফর উদ্দিন ভূঁইয়া, মিরসরাই সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শরিফুল ইসলাম খোকন,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিপক চন্দ্র দাস, সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, সহ সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম, সহ দপ্তর মো. ফজলুল করিম, সহ প্রচার সম্পাদক সরওয়ার উদ্দীন রনি, ক্রীড়া সম্পাদক মো. ওমর ফারুক প্রমুখ।
 
জাতীয় সংসদ সদস্য, আধুনিক উন্নত- সমৃদ্ধ মীরসরাইর স্বপ্নদ্রষ্টা ও রূপকার, বর্ষিয়ান জননেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, এমপি মহোদয়, মিরসরাই সমিতির প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ আবুল হাশেম ভূঁইয়া, মিরসরাই সমিতি, সংযুক্ত আরব আমিরাত এর সম্মানিত সভাপতি, আল সুমাইয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান,বিশিষ্ট শিল্পপতি, মানবতার কবি, ফখরুল ইসলাম খান সি আই পি, মিরসরাই উপজেলার ১নং করের হাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন নয়ন সহ অন্য অতিথিরা
“স্বপ্নের মীরসরাই” ম্যাগাজিনের মোড়ক উম্মোচন করেন।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন মিরসরাই সমিতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের কার্যকরী পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

বঙ্গবন্ধু’র ৯৯তম জন্মদিনে বাংলাদেশ কবি পরিষদ (বাকপ)-এর শুভেচ্ছা

যার হাতধরে আমরা স্বাধীনতা পেলাম,একটি অখণ্ড মাতৃভূমি পেলাম,এই ক্ষণজন্মা পুরুষ,যে দিয়ে গেলো হাজার বছর পরাধীন বাঙ্গালীর মুক্তি,একটি মানচিত্র, একটি লাল-সবুজের পতাকা উড়ার স্বাধীনতা,বাঙ্গালী জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজ ৯৯তম জন্মদিনে জাতীয় সাহিত্য ও সামাজিক সংগঠন বাংলাদেশ কবি পরিষদ (বাকপ), দৈনিক ধূমকেতু (অনলাইন নিউজ পোর্টাল) শাপলা( ত্রৈমাসিক পত্রিকা),কুসুমকলি (সেচ্ছাসেবী শিশু উন্নয়ন বিদ্যাপীঠ) ও বাকপ এর সকল অঙ্গসংগঠনের পক্ষথেকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা।
54517129_658129644603294_1643066247622950912_n
 
শেখ মুজিবুর রহমান (১৭ মার্চ ১৯২০ – ১৫ আগস্ট ১৯৭৫) বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও ভারতীয় উপমহাদেশের একজন অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যিনি বাঙালীর অধিকার রক্ষায় ব্রিটিশ ভারত থেকে ভারত বিভাজন আন্দোলন এবং পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নেতৃত্ব প্রদান করেন। প্রাচীন বাঙ্গালি সভ্যতার আধুনিক স্থপতি হিসাবে শেখ মুজিবুর রহমানকে বাংলাদেশের জাতির জনক বা জাতির পিতা বলা হয়ে থাকে। তিনি মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সভাপতি, বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং পরবর্তীতে এদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। জনসাধারণের কাছে তিনি শেখ মুজিব এবং শেখ সাহেব হিসাবে বেশি পরিচিত এবং তার উপাধি বঙ্গবন্ধু। তার কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বর্তমান সভানেত্রী এবং বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী।
 
১৯৪৭-এ ভারত বিভাগ পরবর্তী পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতির প্রাথমিক পর্যায়ে শেখ মুজিব ছিলেন তরুন ছাত্রনেতা।পরবর্তীতে তিনি মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সভাপতি হন । সমাজতন্ত্রের পক্ষসমর্থনকারী একজন অধিবক্তা হিসেবে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগোষ্ঠীর প্রতি সকল ধরণের বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। জনগণের স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি একসময় ছয় দফা স্বায়ত্ত্বশাসন পরিকল্পনা প্রস্তাব করেন যাকে পশ্চিম পাকিস্তানে একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী পরিকল্পনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। ছয় দফা দাবীর মধ্যে প্রধান ছিল বর্ধিত প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন যার কারণে তিনি আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের অন্যতম বিরোধী পক্ষে পরিণত হন। ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে ভারত সরকারের সাথে যোগসাজশ ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তার বিচার শুরু হয় এবং পরবর্তীতে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হন। ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ বিপুল বিজয় অর্জন করে। তথাপি তাকে সরকার গঠনের সুযোগ দেয়া হয় নি।
 
পাকিস্তানের নতুন সরকার গঠন বিষয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খান এবং পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনীতিবিদ জুলফিকার আলী ভুট্টোর সাথে শেখ মুজিবের আলোচনা বিফলে যাওয়ার পর ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে মার্চ ২৫ মধ্যরাত্রে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঢাকা শহরে গণহত্যা পরিচালনা করে। একই রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং পরবর্তীকালে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়।রহিমুদ্দিন খান সামরিক আদালতে তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে তবে তা কার্যকর করা হয় নি। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৯৭১-এর ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনীর কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নামে স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা হয়। ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ শেখ মুজিব পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন এবং বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। পরবর্তীকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে ভিত্তি করে সংবিধান প্রণয়ন এবং সে অনুযায়ী রাষ্ট্র চালনার চেষ্টা সত্ত্বেও তীব্র দারিদ্র্য, বেকারত্ব, সর্বব্যাপী অরাজকতা এবং সেই সাথে ব্যাপক দুর্নীতি মোকাবেলায় তিনি কঠিন সময় অতিবাহিত করেন। ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অস্থিরতা দমনের লক্ষ্যে ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে এক দলীয় রাজনীতি ঘোষণা করেন। এর সাত মাস পরে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তারিখে একদল সামরিক কর্মকর্তার হাতে তিনি সপরিবারে নিহত হন।
 
 
পরিচ্ছেদসমূহ
১ প্রাথমিক জীবন
১.১ জন্ম ও শিক্ষা
১.২ রাজনৈতিক জীবনের সূচনা
২ প্রাথমিক রাজনৈতিক তৎপরতা
২.১ রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
২.২ যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন
৩ পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান নেতা
৩.১ ছয় দফা দাবী
৩.২ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা
৩.৩ উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
৪ ১৯৭০’এর নির্বাচন ও স্বাধীনতা যুদ্ধ
৫ বাংলাদেশের শাসন
৬ বাকশাল
৭ হত্যাকাণ্ড
৮ সমালোচনা ও কৃতিত্ব
৯ আত্মজীবনী
১০ আরো দেখুন
১১ তথ্যসূত্র
১২ বহিঃসংযোগ
প্রাথমিক জীবন
 
১৯৪৯ সালের ছাত্রনেতা, শেখ মুজিব
জন্ম ও শিক্ষা
শেখ মুজিবুর রহমান তদানীন্তন ভারতীয় উপমহাদেশের বঙ্গ প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার পাটগাতি ইউনিয়নের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।[২] তার বাবা শেখ লুৎফর রহমান গোপালগঞ্জ দায়রা আদালতের সেরেস্তাদার (যিনি আদালতের হিসাব সংরক্ষণ করেন) ছিলেন এবং মা’র নাম সায়েরা খাতুন। চার কন্যা এবং দুই পুত্রের সংসারে তিনি ছিলেন তৃতীয় সন্তান। তার বড় বোন ফাতেমা বেগম, মেজ বোন আছিয়া বেগম, সেজ বোন হেলেন ও ছোট বোন লাইলী; তার ছোট ভাইয়ের নাম শেখ আবু নাসের। ১৯২৭ সালে শেখ মুজিব গিমাডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেন যখন তার বয়স সাত বছর। নয় বছর বয়সে তথা ১৯২৯ সালে গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুলে ভর্তি হন এবং এখানেই ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। ১৯৩৭ সালে গোপালগঞ্জে মাথুরানাথ ইনস্টিটিউট মিশন স্কুলে সপ্তম শ্রেনীতে ভর্তি হন। ১৯৩৪ থেকে চার বছর তিনি বিদ্যালয়ের পাঠ চালিয়ে যেতে পারেন নি। কারণ তার চোখে জটিল রোগের কারণে সার্জারি করাতে হয়েছিল এবং এ থেকে সম্পূর্ণ সেরে উঠতে বেশ সময় লেগেছিল। গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুল থেকে তিনি ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন। ১৯৩৮ সনে আঠারো বছর বয়সে তার সাথে ফজিলাতুন্নেসার বিয়ে হয়। এই দম্পতির ঘরে দুই কন্যা এবং তিন পুত্রের জন্ম হয়। কন্যারা হলেন শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা। আর পুত্রদের নাম শেখ কামাল, শেখ জামাল এবং শেখ রাসেল।[৩] তিনজন পুত্রই ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট রাতে আততায়ীর হাতে নিহত হন।
 
রাজনৈতিক জীবনের সূচনা
মুজিবের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল ১৯৩৯ সালে মিশনারি স্কুলে পড়ার সময় থেকেই। এ বছর স্কুল পরিদর্শনে এসেছিলেন তদানীন্তন বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি র মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং পরবর্তিতে বাংলার প্রধানমন্ত্রী এবং এমনকি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী। তিনি স্কুলের ছাদ সংস্কারের দাবীর উপর ভিত্তি করে একটি দল নিয়ে তাদের কাছে যান যার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি নিজেই। ১৯৪০ সালে নিখিল ভারত মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনে যোগ দেন। সেখানে তিনি এক বছর মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৪২ সনে এনট্র্যান্স পাশ করার পর কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে (বর্তমান নাম মাওলানা আজাদ কলেজ) আইন পড়ার জন্য ভর্তি হন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত এই কলেজটি তখন বেশ নামকরা ছিল। এই কলেজ থেকে সক্রিয়ভাবে ছাত্র রাজনীতি শুরু করেন। ১৯৪৩ সালে তিনি বেঙ্গল মুসলিম লীগে যোগ দেন এবং অগ্রণী কাশ্মিরী বংশদ্ভুত বাঙালি মুসলিম নেতা হুসেইন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সান্নিধ্যে আসেন।এখানে তার ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য বিষয় ছিল একটি পৃথক মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন। ১৯৪৩ সনে বঙ্গীয় মুসলিম লীগের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।
 
১৯৪৪ সনে বর্তমান বাংলাদেশের কুষ্টিয়ায় নিখিল বঙ্গ মুসলিম ছাত্র লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে শেখ মুজিব বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। তিনি কলকাতায় বসবাসকারী ফরিদপুরবাসীদের নিয়ে তৈরি “ফরিদপুর ডিস্ট্রিক্ট এসোসিয়েশনের” সেক্রেটারি মনোনীত হন। এর দুই বছর পর ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র ইউনিয়নের মহাসচিব নির্বাচিত হন। ১৯৪৭ সনে অর্থাৎ দেশবিভাগের বছর মুজিব কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইসলামিয়া কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রী লাভ করেন। ভারত ও পাকিস্তান পৃথক হওয়ার সময়ে কলকাতায় ভয়ানক হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা হয়। এসময় মুজিব মুসলিমদের রক্ষা এবং দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সোহরাওয়ার্দীর সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক তৎপরতায় শরিক হন।[৪]
 
পাকিস্তান-ভারত পৃথক হয়ে যাওয়ার পর শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তানে ফিরে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৪৮ সালের জানুয়ারি ৪ তারিখে প্রতিষ্ঠা করেন পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্র লীগ যার মাধ্যমে তিনি উক্ত প্রদেশের অন্যতম প্রধান ছাত্রনেতায় পরিণত হন। এ সময় সমাজতন্ত্রের দিকে ঝুঁকে পড়েন এবং দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও জীবনযাত্রার নিম্নমানের উন্নয়নের জন্য এটিকেই একমাত্র সমাধান হিসেবে মনে করতে থাকেন।
 
প্রাথমিক রাজনৈতিক তৎপরতা
 
১৯৫০ সালে শেখ মুজিব
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবী নিয়ে প্রতিষ্ঠিত আন্দোলনে অংশ নেয়ার মাধ্যমেই শেখ মুজিবের রাজনৈতিক তৎপরতার সূচনা ঘটে। ১৯৪৮ সনের ফেব্রুয়ারি ২৩ তারিখে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দিন গণ-পরিষদের অধিবেশনে বলেন যে, উর্দূই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। তার এই মন্তব্যে সমগ্র পূর্ব পাকিস্তনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। প্রতিবাদী শেখ মুজিব অবিলম্বে মুসলিম লীগের এই পূর্ব পরিকল্পিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরুর সিদ্ধান্ত নেন। এই বছরের ২ মার্চে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নীতিমালা নিয়ে আলোচনা করা হয় যাতে শেখ মুজিব একটি প্রস্তাব পেশ করেছিলেন। এখান থেকেই সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।[৫] এই পরিষদের আহ্বানে ১১ মার্চ ১৯৪৮ তারিখে ঢাকায় ধর্মঘট পালিত হয়। ধর্মঘট পালনকালে শেখ মুজিবসহ আরও কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মীকে সচিবালয় ভবনের সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু ছাত্রসমাজের তীব্র প্রতিবাদের মুখে ১৫ মার্চ শেখ মুজিব এবং অন্য ছাত্র নেতাদেরকে মুক্তি দেয়া হয়। এদের মুক্তি উপলক্ষে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় র‌্যালি হয় যাতে মুজিব সভাপতিত্ব করেন। পুলিশ এই র‌্যালি অবরোধ করেছিল। পুলিশী কার্যক্রমের প্রতিবাদে শেখ মুজিব অবিলম্বে ১৭ মার্চ ১৯৪৮ তারিখে দেশব্যাপী ছাত্র ধর্মঘটের ঘোষণা দেন। ১৯ মার্চ তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে একটি আন্দোলন পরিচালনা করেন। এতে ১১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৮ তারিখে তাকে আবার আটক করা হয় এবং বহিষ্কৃত হন। উল্লেখ্য যে ২০১০ সালের ১৪ আগস্ট তাঁর হৃত ছাত্রত্ব (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) ফিরিয়ে দেয়া হয়।
 
১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দের ২১ জানুয়ারি শেখ মুজিবকে জেল থেকে মুক্তি দেয়া হয়। জেল থেকে বেরিয়ে তিনি আবার চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের দাবী আদায়ের আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন যার জন্য তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জরিমানা করা হয়। কিন্তু তিনি এই জরিমানাকে অবৈধ ঘোষণা করে তা আদায় থেকে বিরত থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২৬ এপ্রিল মুসলিম লীগ বিরোধী প্রার্থী শামসুল হক টাঙ্গাইলে একটি উপ-নির্বাচনে বিজয় লাভ করেন। শেখ মুজিব তার সেই আন্দোলনের সফলতার জন্য উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অনশনের ধর্মঘট করেন যার জন্য তাকে আবার আটক করা হয়। এ সময়ই তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মাচারীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদান। ২৩ জুন সোহরাওয়ার্দী এবং মাওলানা ভাসানী পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন করার পর শেখ মুজিব মুসলিম লীগ ছেড়ে দিয়ে এই নতুন দলে যোগ দেন। তাঁকে দলের পূর্ব পাকিস্তান অংশের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। জুনের শেষ দিকে জেল থেকে ছাড়া পান। ছাড়া পাওয়ার পরই খাদ্য সংকটের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যোগ দেন। এ বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে সাময়িকভাবে আটক করে রাখা হলেও অচিরেই ছাড়া পেয়ে যান। এর পর মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সাথে মিলে লিয়াকত আলি খানের কাছে একটি প্রতিনিধিদল প্রেরণের চেষ্টা করায় ভাসানী এবং তাঁকে আটক করা হয়। এটি ছিল অক্টোবরের শেষদিকের কথা।
 
১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারি মাসের প্রথমদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি খানের পূর্ব পাকিস্তান আগমনকে উপলক্ষ করে আওয়ামী মুসলিম লীগ ঢাকায় দুর্ভিক্ষবিরোধী মিছিল বের করে। এই মিছিলের নেতৃত্ব দেয়ার কারণে এবারও শেখ মুজিব আটক হন। সেবার তার দুই বছর জেল হয়েছিল। ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দিন ঘোষণা করেন, উর্দুই পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হবে। এ ঘোষণার পর জেলে থাকা সত্ত্বেও মুজিব প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ আয়োজনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। জেল থেকে নির্দেশনা দেয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদকে পরিচালনায় তিনি ভূমিকা রাখেন। এরপরই ২১ ফেব্রুয়ারিকে রাষ্ট্রভাষার দাবী আদায়ের দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই সময়ে শেখ মুজিব জেলে থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে অনশন পালনের সিদ্ধান্ত নেন। তার এই অনশন ১৩ দিন কার্যকর ছিল। ২৬ ফেব্রুয়ারি তাকে জেল থেকে মুক্তি দেয়া হয়।
 
যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন
১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দের ৯ জুলাই তিনি পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনের শেষে দলের সেক্রেটারী জেনারেল (মহাসচিব) নির্বাচিত হন। একই বছরের ১৪ নভেম্বর সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য অন্যান্য দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১৯৫৪ সালের ১০ মার্চ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২৩৭ টি আসনের মধ্যে ২২৩ টিতে বিপুল ব্যবধানে বিজয় অর্জন করে যার মধ্যে ১৪৩ টি আসনই আওয়ামী লীগ লাভ করেছিল। শেখ মুজিব গোপালগঞ্জে আসনে ১৩,০০০ ভোটের ব্যবধানে বিজয় লাভ করেন। সেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল শক্তিশালী মুসলিম লীগ নেতা ওয়াহিদুজ্জামান। ১৫ মে তাকে কৃষি ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়। ২৯ মে কেন্দ্রীয় সরকার যুক্তফ্রন্ট ভেঙে দেয়। ৩০ মে করাচি থেকে ঢাকা ফেরার পর বিমান বন্দর থেকেই তাকে আটক করা হয়। ২৩ ডিসেম্বর মুক্তি লাভ করেন। ১৯৫৫ সালের ৫ জুন শেখ মুজিব আইন পরিষদের সদস্য মনোনীত হন। ১৭ জুন আওয়ামী লীগ পল্টন ময়দানে আয়োজিত এক সম্মেলনে ২১ দফা দাবী পেশ করে যার মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২৩ জুন দলের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত হয়, পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন অর্জিত না হলে আইন সভার সকল সদস্য পদত্যাগ করবেন। ২৫ আগস্ট পাকিস্তানের করাচিতে গণপরিষদের অধিবেশনে শেখ মুজিব বলেন:
 
(ইংরেজি)
« Sir [President of the Constituent Assembly],, you will see that they want to place the word ‘East Pakistan’ instead of ‘East Bengal’. We have demanded so many times that you should use Bengal instead of Pakistan. The word ‘Bengal’ has a history, has a tradition of its own. You can change it only after the people have been consulted. If you want to change it then we have to go back to Bengal and ask them whether they accept it. So far as the question of One-Unit is concerned it can come in the constitution. Why do you want it to be taken up just now? What about the state language, Bengali? What about joint electorate? What about Autonomy? The people of East Bengal will be prepared to consider One-Unit with all these things. So, I appeal to my friends on that side to allow the people to give their verdict in any way, in the form of referendum or in the form of plebiscite
 
(বাংলা)
« স্যার [গণপরিষদের প্রেসিডেন্ট], আপনি দেখবেন ওরা “পূর্ব বাংলা” নামের পরিবর্তে “পূর্ব পাকিস্তান” নাম রাখতে চায়। আমরা বহুবার দাবি জানিয়েছি যে; পাকিস্তানের পরিবর্তে আপনাদের বাংলা [বঙ্গ] ব্যবহার করতে হবে। “বাংলা” শব্দটার একটি নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য আছে। আপনারা এই নাম আমাদের জনগণের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে পরিবর্তন করতে পারেন। আপনারা যদি ঐ নাম পরিবর্তন করতে চান তাহলে আমাদের বাংলায় আবার যেতে হবে এবং সেখানকার জনগণের কাছে জিজ্ঞেস করতে হবে তারা নাম পরিবর্তনকে মেনে নেবে কিনা। এক ইউনিটের প্রশ্নটা গঠনতন্ত্রে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। আপনারা এটাকে এখনই কেন তুলতে চান? বাংলা ভাষাকে, রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গ্রহণ করার ব্যাপারে কি হবে? যুক্ত নির্বাচনী এলাকা গঠনের প্রশ্ননটাই কি সমাধান? আমাদের স্বায়ত্তশাসন সম্বন্ধে ভাবছেন? পূর্ব বাংলার জনগণ অন্যান্য প্রশ্নগুলোর সমাধানের সাথে এক ইউনিটের প্রশ্নটাকে বিবেচনা করতে প্রস্তুত। তাই আমি আমার ঐ অংশের বন্ধুদের কাছে আবেদন জানাবো তারা যেন আমাদের জনগণের ‘রেফারেন্ডাম’ অথবা গণভোটের মাধ্যমে দেয়া রায়কে মেনে নেন। »
 
২১ অক্টোবর বাংলাদেশ আওয়ামী মুসলিম লীগের বিশেষ অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে দলের নাম থেকে “মুসলিম” শব্দটি বাদ দেয়া হয়। শেখ মুজিব পুনরায় দলের মহাসচিব নির্বাচিত হন। ৩ ফেব্রয়ারি মুখ্য মন্ত্রীর সাথে আওয়ামী লীগের বৈঠকে দল থেকে খসড়া সংবিধানে স্বায়ত্ত্বশাসন অন্তর্ভুক্ত করার দাবী জানানো হয়। ১৪ জুলাই রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে একটি প্রস্তাব রাখা হয় যা তিনিই সরকারের কাছে পেশ করেন। সেপ্টেম্বর মাসের ৪ তারিখ তাঁর নেতৃত্বে একটি দুর্ভিক্ষ বিরোধী মিছিল বের হয়। ১৪৪ ধারা ভঙ্গের কারণে এই মিছিলে পুলিশ গুলিবর্ষণ করলে কমপক্ষে তিনজন নিহত হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর শেখ মুজিব কোয়ালিশন সরকারে যোগ দিয়ে একযোগে শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতিরোধ এবং গ্রামীণ সহায়তা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দলের জন্য সম্পূর্ণ সময় ব্যয় করার তাগিদে ১৯৫৭ সালে ৩০ মে মন্ত্রীপরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন। ৭ আগস্ট সরকারি সফরে চীন এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন গমন করেন। ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা এবং সেনাবাহিনী প্রধান আইয়ুব খান দেশে সামরিক আইন জারি করে সকল ধরণের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এই বছরেরই ১১ অক্টোবর তাঁকে আটক করা হয়। জেলে থাকা অবস্থায় তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়। ১৪ মাস একটানা আটক থাকার পর তাঁকে মুক্তি দেয়া হলেও জেলের ফটক থেকে পুনরায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
 
পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান নেতা
 
১৯৪৯ সালে হুসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে শেখ মুজিব
উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন দায়ের করার মাধ্যমে তিনি ১৯৬১ সালে জেল থেকে ছাড়া পান। এবার শুরু করেন গুপ্ত রাজনৈতিক তৎপরতা। অন্যান্য সাধারণ ছাত্রনেতাদের নিয়ে গোপনে স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন যার উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা আদায়ের লক্ষ্যে কাজ করা। ১৯৬২ সালের ৬ ফেব্রয়ারি জননিরাপত্তা আইনে তাকে আবার আটক করা হয়েছিল। জুনের ২ তারিখে চার বছরব্যাপী মার্শাল ল অপসারণের পর একই মাসের ১৮ তারিখে তাকে মুক্তি দেয়া হয়। ২৫ জুন অন্য রাজনৈতিক নেতাদের সাথে মিলে আইয়ুব খান আরোপিত বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুর বিরুদ্ধে সংগ্রামে নেমে পড়েন। ৫ জুন পল্টন ময়দানে আয়োজিত এক সম্মেলনে আইয়ুব খানের সমালোচনা করেন। ২৪ সেপ্টেম্বর লাহোর যান এবং সেখানে শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে মিলে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট গড়ে তোলেন। এটি মূলত বিরোধী দলসমূহের একটি সাধারণ কাঠামো হিসেবে কাজ করেছিল। পুরো অক্টোবর মাস জুড়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে মিলে বাংলার বিভিন্ন স্থান সফর করেন এই যুক্তফ্রন্টের সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে। ১৯৬৩ সালে সোহরাওয়ার্দীর সাথে আলোচনার উদ্দেশ্যে লন্ডন যান, সোহরাওয়ার্দী সেখানে চিকিৎসারত ছিলেন। এই বছরের ৫ ডিসেম্বর তিনি বৈরুতে মৃত্যুবরণ করেন।
 
সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুর পর ১৯৬৪ সালের ২৫ জানুয়ারি মুজিবের বাসায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আওয়ামী লীগকে পুনরায় সংহত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই বৈঠকের প্রস্তাবের ভিত্তিতে শেখ মুজিব তৎকালীন পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের মহাসচিব ও মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ১১ মার্চ ১৯৬৪ একটি সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় যার মাধ্যমে মুজিব সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রতিরোধকল্পে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। সেনাশাসক প্রেসিডেণ্ট আইয়ুব খানের সামরিক শাসন, রাজনীতির নামে মৌলিক গণতন্ত্র প্রচলন (বেসিক ডেমোক্রেসি) এবং পাকিস্তানের কাঠামোতে এক-ইউনিট পদ্ধতির বিরোধী নেতাদের মধ্যে অগ্রগামী ছিলেন শেখ মুজিব। এই পদ্ধতি অনুযায়ী ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার পরিকল্পনা করা হযয়েছিল এবং প্রদেশগুলোকে একত্রে জুড়ে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে কাজ করতে গিয়ে মুজিব আইয়ুব-বিরোধী সর্বদলীয় প্রার্থী ফাতিমা জিন্নাহকে সমর্থন করেন। যথারীতি নির্বাচনের দুই সপ্তাহ পূর্বে তাকে আটক করা হয়। তাকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা এবং আপত্তিকর প্রস্তাব পেশের অভিযোগে অভিযুক্ত করতঃ এক বছরের কারদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। অবশ্য উচ্চ আদালতের এক রায়ে তার আগেই তিনি মুক্তি পেয়ে যান। এ সময় সামরিক বাহিনীর গণহত্যা আর বাঙালিদের চাহিদা পূরণে সামরিক শাসকদের ঔদাসীন্য পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে ক্ষুব্ধ করে তোলে।
 
ছয় দফা দাবী
মূল নিবন্ধ: ছয় দফা আন্দোলন
১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলসমূহের একটি জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।[২] এ সম্মেলনেই শেখ মুজিব তার ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবী পেশ করেন যা ছিল কার্যতঃ পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের পরিপূর্ণ রূপরেখা। শেখ মুজিব এই দাবীকে “আমাদের বাঁচার দাবী” শিরোনামে প্রচার করেছিলেন। এই দাবীর মূল বিষয় ছিল একটি দুর্বল কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে পরিচালিত পাকিস্তানী ফেডারেশনে পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন। এই দাবী সম্মেলনের উদ্যোক্তারা প্রত্যাখান করেন এবং শেখ মুজিবকে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে চিহ্নিত করেন। এ কারণে তিনি উক্ত সম্মেলন বর্জন করে পূর্ব পাকিস্তানে ফিরে আসেন। ১৯৬৬’র মার্চ মাসের এক তারিখে শেখ মুজিব আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। এই নির্বাচনের পর তিনি ছয় দফার পক্ষে সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে দেশব্যাপী প্রচার কার্য পরিচালনা করেন। প্রায় পুরো দেশই ভ্রমণ করেন। এই ভ্রমণের সময় তিনি সিলেট, ময়মনসিংহ এবং ঢাকায় বেশ কয়েকবার পুলিশের হাতে বন্দী হন। বছরের প্রথম চতুর্থাংশেই তাকে আটবার আটক করা হয়েছিল। এই বছরের মে ৮ তারিখে নারায়ণগঞ্জে পাট কারখানার শ্রমিকদের এক র্যালিতে অংশগ্রহণের জন্য তাকে আবার গ্রেফতার করা হয়। তাঁর মুক্তির দাবীতে ৭ জুন দেশব্যাপী ধর্মঘট পালিত হয়। পুলিশ এই ধর্মঘট চলাকালে গুলিবর্ষণ করে যার কারণে ঢাকা এবং নারায়ণগঞ্জে আনুমানিক তিনজনের মৃত্যু হয়।
 
 
এই নিবন্ধটিতে কোনো উৎস বা তথ্যসূত্র উদ্ধৃত করা হয়নি। দয়া করে উপযুক্ত নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র থেকে উৎস প্রদান করে এই নিবন্ধটির মানোন্নয়নে সাহায্য করুন। তথসূত্রবিহীন বিষয়বস্তুসমূহ পরিবর্তন করা হতে পারে এবং অপসারণ করাও হতে পারে।
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা
মূল নিবন্ধ: আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা
সেনাবাহিনী কর্তৃক আটক হয়ে জেলে দুই বছর থাকার পর ১৯৬৮ সালের প্রথমদিকে পাকিস্তান সরকার শেখ মুজিব এবং আরও ৩৪ জন বাঙালি সামরিক ও সিএসপি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে যা ইতিহাসে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামে সুপরিচিত। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছিল শেখ মুজিবসহ এই কর্মকর্তারা ভারতের ত্রিপুরা অঙ্গরাজ্যের অন্তর্গত আগরতলা শহরে ভারত সরকারের সাথে এক বৈঠকে পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র করেছে।এতে শেখ মুজিবকে এক নম্বর আসামী করা হয় এবং পাকিস্তান বিভক্তিকরণের এই ষড়যন্ত্রের মূল হোতা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। অভিযুক্ত সকল আসামীকে ঢাকা সেনানিবাসে অন্তরীণ করে রাখা হয়। এর অব্যবহিত পরেই সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানব্যাপী প্রতিবাদের ঝড় উঠে। এই মামলাকে মিথ্যা আখ্যায়িত করে সর্বস্তরের মানুষ শেখ মুজিবসহ অভিযুক্ত সকলের মুক্তির দাবীতে রাজপথে নেমে আসে। একই বছরের ১৯ জুন ঢাকা সেনানিবাসের অভ্যন্তরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে অভিযুক্ত আসামীদের বিচারকার্য শুরু হয়।
 
উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
মূল নিবন্ধ: উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
বিচারকার্য চলাকালীন সময়ে ১৯৬৯ সালের জানুয়ারি ৫ তারিখে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ তাদের এগার দফা দাবী পেশ করে যার মধ্যে শেখ মুজিবের ছয় দফার সবগুলোই দফাই অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই পরিষদের সিদ্ধান্তক্রমে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে দেশব্যাপী ছাত্র আন্দোলনের প্রস্তুতি গৃহীত হয়। এই সংগ্রাম এক সময় গণ আন্দোলনে রূপ নেয়। এই গণ আন্দোলনই ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান নামে পরিচিত। মাসব্যাপী প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ আন্দোলন, ১৪৪ ধারা ভঙ্গ, কারফিউ, পুলিশের গুলিবর্ষণ এবং বেশ কিছু হতাহতের পর আন্দোলন চরম রূপ ধারণ করলে পাকিস্তান সরকার ছাড় দিতে বাধ্য হয়। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান রাজনৈতিক নেতাদের সাথে এক গোলটেবিল বৈঠকের পর এই মামলা প্রত্যাহার করে নেন। এর সাথে শেখ মুজিবসহ অভিযুক্ত সকলকে মুক্তি দেয়া হয়। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এই বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি তারিখে শেখ মুজিবের সম্মানে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক সভার আয়োজন করে। লাখো জনতার এই সম্মেলনে শেখ মুজিবকে “বঙ্গবন্ধু” উপাধি প্রদান করা হয়। উপাধি প্রদানের ঘোষণা দিয়েছিলেন তৎকালীন ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ। এই সভায় রাখা বক্তৃতায় শেখ মুজিব ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এগার দফা দাবীর পক্ষে তার পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন।
 
১৯৬৯ সালে আইয়ুব খানের আহ্বানে অনুষ্ঠিত একটি সর্বদলীয় সম্মেলনে মুজিব তাঁর ছয়-দফাসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের চাহিদাগুলো মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান এবং তা প্রত্যাখ্যাত হলে সম্মেলন থেকে বের হয়ে আসেন। ১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় মুজিব ঘোষণা করেন যে এখন থেকে পূর্ব পাকিস্তানকে “বাংলাদেশ” নামে অভিহিত করা হবে:
 
” একটা সময় ছিল যখন এই মাটি আর মানচিত্র থেকে “বাংলা” শব্দটি মুছে ফেলার সব ধরণের প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। “বাংলা” শব্দটির অস্তিত্ব শুধু বঙ্গোপসাগর ছাড়া আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যেত না। আমি পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আজ ঘোষণা করছি যে, এখন থেকে এই দেশকে ‘পূর্ব পাকিস্তানের’ বদলে ‘বাংলাদেশ’ ডাকা হবে”।
 
মুজিবের এই ঘোষণার ফলে সারা দেশে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। পশ্চিম পাকিস্তানি রাজনীতিবিদ এবং সামরিক কর্তারা তাঁকে একজন বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হিসেবে মূল্যায়ন করতে শুরু করেন। মুজিবের বাঙালি সংস্কৃতি ও জাতিগত আত্মপরিচয়ের বহিঃপ্রকাশ প্রাদেশিক স্বায়ত্বশাসনের বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করে। অনেক বুদ্ধিজীবী ব্যক্তিত্ব্যের মতে, বাঙালিদের আন্দোলন দ্বিজাতিতত্ত্বকে অস্বীকার করার নামান্তর। এই দ্বিজাতিতত্ত্বের মাধ্যমেই পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। বাঙালিদের জাতিগত ও সংস্কৃতিগত এই আত্মপরিচয় তাদেরকে একটি আলাদা জাতিসত্ত্বা প্রদান করে। মুজিব পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক জনমত গড়ে তুলতে সমর্থ হন এবং ১৯৭০ নাগাদ কার্যত ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন।
 
১৯৭০’এর নির্বাচন ও স্বাধীনতা যুদ্ধ
১৯৭০ সালের নির্বাচনে শেখ মুজিবের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ প্রাদেশিক আইনসভায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। পূর্ব পাকিস্তানের কোটার ২টি আসন ছাড়া বাকি সবগুলোতে জয়ী হওয়ার জন্য জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতাও অর্জন করে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনের ফলাফল পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে মেরুকরণ সৃষ্টি করে। পশ্চিম পাকিস্তানের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের নেতা জুলফিকার আলি ভুট্টো, মুজিবের স্বায়ত্বশাসনের নীতির প্রবল বিরোধিতা করেন। ভুট্টো এ্যাসেম্বলি বয়কট করার হুমকি দিয়ে ঘোষণা দেন যে, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান মুজিবকে সরকার গঠনের জন্য আহ্বান জানালে তিনি সে সরকারকে মেনে নেবেন না।
 
রাজনৈতিক অস্থিশীলতার মধ্যে ইয়াহিয়া খান সংসদ ডাকতে দেরি করছিলেন। বাঙালিরা এতে বুঝে ফেলে যে, মুজিবের দলকে সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও সরকার গঠন করতে দেয়া হবে না। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে এক জনসভায় শেখ মুজিব স্বাধীনতার ডাক দেন এবং জনগণকে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত করেন।
 
ইয়াহিয়া খান সামরিক আইন জারি করেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন এবং মুজিবসহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতাদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী রাজনৈতিক ও জনসাধারণের অসন্তোষ দমনে ২৫ মার্চ অপারেশন সার্চলাইট শুরু করে। সামরিক বাহিনীর অভিযান শুরু হলে মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।ধানমণ্ডির ৩২ নং বাড়ি থেকে ওয়্যারলেসের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। মূল ঘোষণার অনুবাদ নিম্নরূপ:
 
“এটাই হয়ত আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের মানুষকে আহ্বান জানাই, আপনারা যেখানেই থাকুন, আপনাদের সর্বস্ব দিয়ে দখলদার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যান। বাংলাদেশের মাটি থেকে সর্বশেষ পাকিস্তানি সৈন্যটিকে উৎখাত করা এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের আগ পর্যন্ত আপনাদের যুদ্ধ অব্যাহত থাকুক”।
 
মুজিবকে গ্রেফতার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ফয়সালাবাদের একটি জেলে কড়া নিরাপত্তায় রাখা হয়। পাকিস্তানি জেনারেল রহিমুদ্দিন খান মুজিবের মামলার পরিচালনা করেন। মামলার আসল কার্যপ্রণালী এবং রায় কখনোই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয় নি। এ মামলাটি “লায়ালপুর ট্রায়াল” হিসাবে অভিহিত।
 
১৯৭১ সালে ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপ্রধান ও সশস্ত্র বাহিনীসমূহের সর্বাধিনায়ক ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর অনুপস্থিতিতে উপরাষ্ট্রপ্রধান সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধান ও অস্থায়ী সশস্ত্র বাহিনীসমূহের সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
 
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পরিচালিত অভিযান অল্প সময়ের মধ্যেই হিংস্রতা ও তীব্র রক্তপাতে রূপ নেয়। রাজাকারদের সহায়তায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী বাঙালি বুদ্ধিজীবি, রাজনীতিবিদ ও ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ মানুষকে আক্রমণ করে। বাঙালি ও অবাঙালি হিন্দুদেরকে লক্ষ্য করে বিশেষ অভিযানের কারণে সারা বছরজুড়ে প্রচুর হিন্দু জনগোষ্ঠী সীমান্ত অতিক্রম করে পার্শ্ববর্তী পশ্চিম বঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরায় আশ্রয় গ্রহণ করে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে ও পুলিশ রেজিমেণ্টে কর্মরত পূর্ব বাংলার সদস্যবৃন্দ দ্রুত বিদ্রোহ ঘোষণা করে এবং লীগ সদস্যবৃন্দ কলকাতায় তাজউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্ব প্রবাসে বাংলাদেশ সরকার গঠন করে। পূর্ব পাকিস্তানে মুক্তি বাহিনীর নেতৃত্ব বড় রকমের বিদ্রোহ সংঘটিত হতে থাকে। আন্তর্জাতিক চাপ থাকা স্বত্ত্বেও পাকিস্তানি সরকার মুজিবকে ছেড়ে দিতে এবং তাঁর সাথে সমঝোতা করতে অস্বীকৃতি জানায়।
 
যুদ্ধবর্তী সময়ে মুজিবের পরিবারকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়। তাঁর সন্তান শেখ কামাল মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর এডিসি এবং একজন গুরুত্বপূর্ণ অফিসার ছিলেন। মুক্তিবাহিনী ও পাকিস্তান বাহিনীর ভিতরে সংঘটিত যুদ্ধটিই বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ নামে পরিচিত। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে ভারতীয় সরকারের অংশগ্রহণের পর, পাকিস্তানী সেনাবাহিনী মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর যৌথ দলের কাছে আত্মসমর্পণ করে এবং লীগ নেতৃবৃন্দ ঢাকায় ফিরে সরকার গঠন করেন। ২০ ডিসেম্বর ১৯৭১ পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান সামরিক প্রশাসক হিসাবে ক্ষমতা গ্রহণের পর জুলফিকার আলী ভুট্টো মুজিবকে ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি মুক্তি দেন। এরপর তিনি লণ্ডন হয়ে নতুন দিল্লিতে ফিরে আসেন এবং ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী’র সাথে সাক্ষাতের পর জনসমক্ষে “ভারতের জনগণ, আমার জনগণের শ্রেষ্ঠ বন্ধু” বলে তাঁকে সাধুবাদ জানান। তিনি ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি রেসকোর্স ময়দানে এসে তিনি সেদিন প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের সামনে বক্তৃতা দেন।
 
বাংলাদেশের শাসন
শেখ মুজিবর রহমান অল্পদিনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি ছিলেন এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭০-এ পূর্ব পাকিস্তান আইনসভার জন্য নির্বাচিত রাজনীতিবিদরা নতুন রাষ্ট্রের প্রথম সংসদ গঠন করেন। মুক্তিবাহিনী এবং অন্যান্য মিলিশিয়াদের নিয়ে নতুন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গঠিত হয়। তাঁরই অনুরোধক্রমে ১৭ মার্চ ১৯৭২ ভারতীয় বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের ভূ-খণ্ড ত্যাগ করে।
 
যুদ্ধ বিধ্বস্থ দেশের প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণ করেন। টাইম ম্যাগাজিন ইউএসএ ১৭ জানুয়ারি ১৯৭২ ভাষায়
 
গত মার্চে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পর বিশ্বব্যাংকের পরিদর্শকদের একটি বিশেষ টিম কিছু শহর প্রদক্ষিণ করে বলেছিলেন, ওগুলোকে দেখতে ভুতুড়ে নগরী মনে হয়। এরপর থেকে যুদ্ধ শেষ হওয়া পর্যন্ত এহেন ধ্বংসলীলার ক্ষান্তি নেই। ৬০ লাখ ঘরবাড়ি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ২৪ লাখ কৃষক পরিবারের কাছে জমি চাষের মতো গরু বা উপকরণও নেই। পরিবহনব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, পুল-কালভার্টের চিহ্নও নেই এবং অভ্যন্তরীণ নৌ-যোগাযোগেও অনেক বাধাবিঘ্ন। এক মাস আগে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণ পর্যন্ত দেশের ওপর নির্বিচার বলাৎকার চলেছে। যুদ্ধের শেষদিকে পাকিস্তানি মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো (কার্যত প্রতিটি ব্যবসা ক্ষেত্রই পাকিস্তানিদের দখলে ছিল) তাদের সব অর্থ-সম্পদ পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার করে দেয়। যুদ্ধ শেষে চট্টগ্রামে পাকিস্তান বিমানের অ্যাকাউন্টে মাত্র ১১৭ রুপি জমা পাওয়া গিয়েছিল। পাকিস্তান সেনাবাহিনী ব্যাংক নোট ও কয়েনগুলো ধ্বংস করে দেয়। ফলে সাধারণ মানুষ নগদ টাকার প্রকট সংকটে পড়ে। রাস্তা থেকে প্রাইভেটকারগুলো তুলে নেওয়া হয়, গাড়ির ডিলারদের কাছে থাকা গাড়িগুলো নিয়ে নেওয়া হয় এবং এগুলো নৌবন্দর বন্ধ হওয়ার আগমুহূর্তে পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার করে দেওয়া হয়।
 
বৃহৎ রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে স্বীকৃতি লাভের পর শেখ মুজিব পাকিস্তানের স্বীকৃতি এবং ওআইসি, জাতিসংঘ ও জোট-নিরপেক্ষ আন্দোলনে বাংলাদেশের সদস্যপদ নিশ্চিত করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশে ভ্রমণ করে বাংলাদেশের জন্য মানবীয় ও উন্নয়নকল্পের জন্য সহযোগিতা চান। তিনি ভারতের সাথে একটি ২৫ বছর মেয়াদী মিত্রতা চুক্তি স্বাক্ষর করেন যাতে অর্থনৈতিক ও মানব সম্পদ উন্নয়নে ব্যাপক সাহায্যের আশ্বাস দেয়া হয়। চুক্তিতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি কর্কমর্তাদের প্রশিক্ষণের শর্ত অন্তর্ভুত ছিল। [১৩] মুজিব ইন্দিরা গান্ধির সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখেন।[১৪] মুজিবের জীবদ্দশায় দুই সরকারের মধ্যে পারষ্পরিক সমঝোতা ছিল।
 
মুজিব তাঁর অন্তর্বর্তী সংসদকে একটি নতুন সংবিধান রচনার দায়িত্ব দেন এবং চারটি মূলনীতি হিসেবে “জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র” ঘোষণা করেন যা মুজিববাদ নামেও পরিচিত। মুজিব শতাধিক পরিত্যাক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কোম্পানি রাষ্ট্রীয়করণ করেন এবং ভূমি ও মূলধন বাজেয়াপ্ত করে ভূমি পূনর্বণ্টনের মাধ্যমে কৃষকদের সাহায্যের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধ কালে ভারতে আশ্রয়গ্রহণকারী প্রায় ১ কোটি শরণার্থীর পুনর্বাসনের জন্য বড় পদক্ষেপ নেয়া হয়। এর ফলে অর্থনৈতিক সঙ্কট অবসান হতে শুরু করে এবং সমূহ দুর্ভিক্ষ এড়ানো সম্ভব হয়।
 
১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ ডিসেম্বর থেকে নতুন সংবিধান কার্যকর করা হয় এবং ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে শেখ মুজিব ও তাঁর দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং তিনি বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত সরকার গঠন করেন। তিনি প্রাথমিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, খাদ্য, স্বাস্থ্য, পানি ও বিদ্যুত সরবরাহ নিশ্চিতকল্পে রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের বিস্তৃতি ঘটান। ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে প্রণীত বাংলাদেশের প্রথম পঞ্চ বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় কৃষি, গ্রামীণ অবকাঠামো ও কুটির শিল্প উন্নয়নে প্রাগ্রাধিকারমূলক সরকারি অর্থ বরাদ্দের নির্দেশ দেয়া হয়।
 
ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতি রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা থাকা স্বত্ত্বেও মুজিব ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইসলামি অনুশাসনের পথে অগ্রসর হন। তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে আঁতাতের অভিযোগে ১৯৭২ সালে নিষিদ্ধ ঘোষিত ইসলামিক একাডেমি পুনরায় চালু করেন। ইসলামিক গোত্রগুলোর জোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মদ তৈরি ও বিপণন এবং জুয়া খেলা নিষিদ্ধ করেন। তাঁরই সিদ্ধান্তক্রমে বাংলাদেশ অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কনফারেন্স ও ইসলামিক ডেভেলপমেণ্ট ব্যাংক-এর সদস্যপদ গ্রহণ করে। মুজিব ১৯৭৪ সালে পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত ওআইসি সম্মেলনে যোগ দিতে যান যা পাকিস্তানের সাথে কিছুমাত্রায় সম্পর্ক উন্নয়ন ও পাকিস্তানের স্বীকৃতি পেতে সহায়তা করে।জনসাধারণের সামনে উপস্থিতি ও ভাষণের সময় শেখ মুজিব ইসলামিক সম্ভাষণ ও শ্লোগান ব্যবহার বাড়িয়ে দেন এবং ইসলামিক আদর্শের উল্লেখ করতে থাকেন। শেষ বছরগুলোতে মুজিব তাঁর স্বভাবসুলভ “জয় বাংলা” অভিবাদনের বদলে ধার্মিক মুসলিমদের পছন্দনীয় “খোদা হাফেজ” বলতেন।
 
বাকশাল
স্বাধীনতা পর অচিরেই মুজিবের সরকারকে ক্রমশ বাড়তে থাকা অসন্তোষ সামাল দিতে হয়। তাঁর রাষ্ট্রীয়করণ ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল সমাজতন্ত্রের নীতি প্রশিক্ষিত জনবল, অদক্ষতা, মাত্রাতিরিক্ত দুর্নীতি আর দুর্বল নেতৃত্বের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মুজিব অতিমাত্রায় জাতীয় নীতিতে মনোনিবেশ করায় স্থানীয় সরকার প্রয়োজনীয় গুরুত্ব লাভে ব্যর্থ হয়। আওয়ামী লীগ ও কেন্দ্রীয় সরকার পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ করায় গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে। এ সময় তৃণমূল পর্যায়ে কোন নির্বাচনই অনুষ্ঠিত হয় নি। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মধ্যে কমিউনিস্ট এবং ইসলামি মৌলবাদীরা অন্তর্ভুক্ত ছিল। বাংলাদেশকে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র ঘোষণা করায় ইসলামিক গোত্রের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। এ ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ পদে আপনজনদের নিয়োগ দেয়ার জন্য মুজিবের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আনা হয়। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ খাদ্য সংকট আরো বাড়িয়ে দেয় এবং অর্থনীতির প্রধান উৎস কৃষিকে ধ্বংস করে ফেলে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের অভাব, দ্রব্যমূল্যের অসামঞ্জস্যতা, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানসমূহের ব্যর্থতার কারণে মুজিবকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।
 
রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সংঘাতের মাত্রা বাড়তে থাকায় মুজিবও তাঁর ক্ষমতা বাড়াতে থাকেন। ১৯৭৪ সালের ডিসেম্বর মুজিব জরুরি অবস্থা জারি করেন।
 
১৯৭৫ এ কয়েকটি দল মিলে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামের রাজনৈতিক দল গঠন করে যা সংক্ষেপে বাকশাল নামে পরিচিত। এই নতুন ব্যবস্থায় প্রেসিডেন্ট সরাসরি নির্বাচিত হবে, একটি নির্বাচিত সংসদ আইন পাস করতে পারে। মুজিব নিজেকে আমৃত্যু রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন।
 
বাকশাল বিরোধী রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। ৪টি বাদে সকল সংবাদপত্র নিষিদ্ধ করা হয়। দলটি প্রত্যন্ত জনসাধারণ, কৃষক ও শ্রমিকদের প্রতিনিধি হিসেবে নিজেদের বিবেচিত করে রাষ্ট্রযন্ত্রের কর্তৃত্ব গ্রহণ করে। দলটি বৃহৎ সমাজতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড গ্রহণ করে। সরকারি বাহিনীর সাথে সমর্থকদের নিয়ে গঠিত জাতীয় রক্ষী বাহিনীর সহায়তায় মুজিব বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার করেন এবং সারাদেশের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপর কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেন। রক্ষী বাহিনী এবং পুলিশের বিরুদ্ধে অত্যাচার ও রাজনৈতিক হত্যার অভিযোগ ওঠে। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারীরা মুজিবের উপর অসন্তুষ্ট হয়ে ওঠেন এবং তাঁর কর্মকাণ্ডকে গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকারবিরোধী বলে গণ্য করেন। মুজিবের বিরোধীরা অসন্তোষ ও সরকারের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে একত্রিত হয়ে ওঠে।কিন্তু তার এই নীতির ফলে অবস্থা কিছুটা নিয়ন্ত্রিত হয় এবং দুর্নীতি, কালোবাজারী এবং অবৈধ মজুদদারি অনেকাংশে বন্ধ হয়ে যায়।
 
হত্যাকাণ্ড
মূল নিবন্ধ: শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট প্রত্যূষে একদল সেনা কর্মকর্তা ট্যাঙ্ক দিয়ে রাষ্ট্রপতির ধানমণ্ডিস্থ বাসভবন ঘিরে ফেলে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর পরিবার এবং তাঁর ব্যক্তিগত কর্মচারীদের হত্যা করে। কেবল তাঁর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করার কারণে বেঁচে যান। তাদের বাংলাদেশে ফিরে আসার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। সেনা অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করেন বিক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগের সদস্য এবং সামরিক কর্মকর্তারা। এদের মধ্যে ছিলেন শেখ মুজিবের প্রাক্তন সহকর্মী খন্দকার মোশতাক আহমেদ, যিনি তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন।
 
২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭৫ তারিখে মুজিব হত্যাকাণ্ডের বিচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে খন্দকার মোশতাক সরকার ইমডেমনিটি (দায়মুক্তি) অধ্যাদেশ জারি করেন এবং জেনারেল জিয়াউর রহমান ও পাকিস্তানপন্থী প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমানের নেতৃত্বে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীতে তার বৈধতা দেয়া হয়। যা ১২ অগাস্ট ১৯৯৬ তারিখে সংসদে রহিত করা হয়।। সংবাদ মাধ্যমে এ হত্যাকাণ্ডের ইন্ধনদাতা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সেণ্ট্রাল ইণ্টেলিজেন্স এজেন্সি সিআইএ-কে দায়ী করা হয়।] বাংলাদেশে অবস্থিত তৎকালীন রাষ্ট্রদূত ইউজিন দিয়ে লরেন্স লিফসুল্জ সিআইএ-কে সামরিক অভ্যুত্থান ও গণহত্যার জন্য দোষারোপ করেন।[২৭] তাঁর মরদেহ তাঁর জন্মস্থান টুঙ্গিপাড়ায় হেলিকপ্টারে করে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সামরিক তত্ত্বাবধানে দাফন করা হয়। অন্যান্যদের ঢাকার বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
 
মুজিবের মৃত্যু বাংলাদেশকে বহু বছরের রাজনৈতিক সংঘাতের দিকে টেনে নেয়। সেনাঅভ্যুত্থানের নেতারা অল্পদিনের মধ্যেই উচ্ছেদ হয়ে যান এবং অভ্যুত্থান, পাল্টা অভ্যুত্থান আর রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে দেশ অচল হয়ে পড়ে এবং সেনাবাহিনীতে মারাত্মক অরাজকতা দেখা দেয়। ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর তৃতীয় সেনা অভ্যুত্থানের ফলশ্রতিতে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতা আসীন হয়। সেনাঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান নেতা কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমানসহ ১৪ জন সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়। বাকিরা বিদেশে পালিয়ে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০১০ সালে খুনি সৈয়দ ফারুক রহমানসহ বাকি আসামীদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়।
 
সমালোচনা ও কৃতিত্ব
 
বঙ্গবন্ধু স্কয়ার ভাস্কর্য
কিছু কিছু ঐতিহাসিকদের মতে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের ভিতরের সংঘাত ও বৈষম্যগুলোকে শেখ মুজিবও তাঁর দল অতিরঞ্জিত করেছিল এবং স্বাধীনতা বাংলাদেশকে শিল্প ও মানবসম্পদের ক্ষেত্রে ক্ষতির সম্মুখীন করে।[২৯] সৌদি আরব ও চীনা সরকার শেখ মুজিবের সমালোচনা করে এবং মুজিবের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অনেক দেশ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি।
 
অনেক ইতিহাসবিদ মুজিবকে বিদ্রোহে মদদদাতা নেতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং তাঁদের মতে তিনি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে প্ররোচিত করলেও রাষ্ট্র পরিচালনায় অদক্ষ হিসেবে উল্লেখ করেন। বাংলাদেশের নেতা হিসেবে শাসনকালে, মুসলিম ধর্মীয় নেতারা মুজিবের তীব্র সমালোচনা করেন তাঁর ধর্মনিরপেক্ষতার নীতির কারণে। ভারতীয় সরকারের কাছ থেকে ব্যাপক সহযোগিতা গ্রহণ এবং গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও পররাষ্ট্রনীতিতে ভারতের সাথে একাত্মতার কারণে অনেকে মুজিবের উপর অসন্তুষ্ট হয়ে ওঠেন। সমালোচকদের অনেকে আশঙ্কা করেন বাংলাদেশ ভারতের উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে একটি স্যাটেলাইট রাষ্ট্রে পরিণত হবে।[১৭] মুজিবের একদলের শাসন এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দমন জনগণের একটি বড় অংশের অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চাকে দীর্ঘসময়ের জন্য কক্ষচ্যুত করে।
 
১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ পুনরায় ক্ষমতায় যাওয়ার পূর্বে মুজিবের মৃত্যুর পরবর্তী সরকারগুলোর মুজিব বিরোধিতার কারণে তাঁর সম্পর্কে জনমনে নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়। তাঁর ভাবমূর্তি আবার ফিরে আসে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ নির্বাচিত হয়ে ফিরে আসার পর। ১৫ আগস্টকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালন করা হয়। তিনি এখনো আওয়ামী লীগের আদর্শগত প্রতীক হয়ে আছেন এবং দলটি মুজিবের সমাজতান্ত্রিক ভাবধারা ধারণ করে চলেছে। মুজিব বাংলাদেশ, ভারত ও বিশ্বের বাঙালি বুদ্ধিজীবিদের কাছে ব্যাপকভাবে সমাদৃত। পাকিস্তানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং পাকিস্তানের গোষ্ঠীগত বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও বাঙালিদের আন্দোলনকে স্বাধীনতার পথে ধাবিত করার জন্য তিনি ব্যাপকভাবে প্রশংসিত।
 
২০০৪ সালে বিবিসি’র বাংলা রেডিও সার্ভিসের পক্ষ থেকে সারা বিশ্বে যে জরিপ চালানো হয়, তাতে মুজিব সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসেবে বিবেচিত হন।
 
টাইম সাময়িকী ইউএসএ ভাষায় (১৫ আগষ্ট ১৯৭৫ মুজিব। স্থপতির মৃত্যু)
 
তাঁর প্রশংসনীয় উদ্যোগঃস্বাধীনতার পরের তিনবছরে ৬ হাজারের ও বেশি রাজনৈতিক হত্যাকান্ড ঘটে । সহিংসতা সারাদেশব্যাপি ছড়িয়ে পরার আশঙ্কা তৈরী হলে মুজিব রাষ্ট্রীয় জরুরী অবস্থা ঘোষনা করেন । চরমবাম ও চরম ডানপন্থী সংগঠনগুলো নিষিদ্ধ করা হয়, পত্রিকাগুলোকে নিয়ে আসা হয় সরকারী নিয়ন্ত্রনে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয় ।এ উদ্যোগগুলো বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে গৃহীত হলেও অনেকেই সমালোচনামুখর হয়ে উঠেন । সমালোচকদের উদ্দেশ্যে মুজিব তার স্বভাবসুলভ ভংগীতে বলেনঃ-‘ভুলে যেওনা আমি মাত্র তিনবছর সময় পেয়েছি । এই সময়ের মধ্যে তোমরা কোনো দৈব পরিবর্তন আশা করতে পারোনা’ ।যদি ও শেষ সময়ে তিনি নিজেই হতাশ ও বিরক্ত হয়ে কোন দৈব পরিবর্তন ঘটানোর জন্য অধৈর্য্য হয়ে পড়েছিলেন ।সন্দেহাতীতভাবেই মুজিবের উদ্দেশ্য ছিলো তার দেশ ও দেশের মানুষের উন্নয়ন ঘটানো । শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মুজিব একটা ‘সোনার বাংলা’ গড়তে চেয়েছিলেন, যে ‘সোনার বাংলা’র উপমা তিনি পেয়েছিলেন কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছ থেকে, ভালোবেসে মুজিব সেই ‘সোনার বাংলা’র স্বপ্নকে তার দেশের জাতীয় সংগীত নির্বাচন করেছিলেন।
 
১৯৯৯ সালে ঢাকার আই-পি-জি-এম-আর এর নামপরিবর্তন করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। শেখ মুজিব সড়ক নামে চট্টগ্রাম শহরের আগ্রাবাদের একটি প্রধান বাণিজ্যিক সড়কের নামকরণ করা হয়। ২০১৭ সালে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির একটি সড়কের নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মার্গ নামকরণ করা হয়। কনট প্লেসের নিকটবর্তী স্থানটি ইতোপূর্বে পার্ক স্ট্রিট নামে পরিচিত ছিল।

আঞ্জুমন আরা’র দু’টি ছড়া

আঞ্জুমন আরা’র দু’টি ছড়া

16807761_108883132969378_7659074573731222117_n

খুকুমনির বই মেলা।

 
বই মেলাতে যাবে খুকু
বায়না ধরেছে,
গোমরা মুখে বসে আছে
খায়না কিছু সে।
 
নতুন নতুন বই কিনবে সে
মনে মনে ভাবে,
রঙ বে রঙের ছবি দেখে
তারপরে সে খাবে।
 
কয়টা ছড়ার কয়টা ছবি
হিসেব কষে মনে,
গাল ফুলিয়ে চুপটি করে
রইলো ঘরের কোণে
 
মা বলেছে মেলায় তোমায়
কালকে নিয়ে যাবো,
ছড়া ছবির রঙিন বই যা
সবই কিনে দেবো

 

তোর খোকা।

ঝাজড়া বুকে চিৎকার করে
শহীদ খোকা বলে,
কাঁদিসনে মা তোর কোলেতে
ফিরবো সময় হলে।

সবুজ মাঠে ঘাসের পরে
সোনালী ধানের থোকা,
আলতো করে ছুঁয়ে দেখিস
ওটাই যে তোর খোকা।

ঘাস ফড়িংয়ের নাচন দেখে
কাঁদিসনে মা ভোরে,
আসবো তোকে দেখার ছলে
ছোট্ট ডানায় চড়ে।

গন্ধরাজের সুবাস পেলে
ঘরের কোনে বসে,
ভাববি তোকে ছুঁইলো খোকা
মিষ্টি হেসে হেসে।

বৌ কথা কও ডাকলে পাখি
উদাস দুপুর বেলা,
মনে করিস তোর খোকাই
করছে মাঠে খেলা।

শিউলি ফোটা শরৎ এলে
কাশফুলের দোল,
শিশির হয়ে ঝড়েছি আমি
ওটাই যে তোর কোল।

এমন শ্যমল সোনার বাংলা
পাবো কোথায় গেলে,
বল মা আমি ভুল করেছি
বুকের রক্ত ঢেলে?

আরব আমিরাতে জাতীয় কবিতা মঞ্চে ৩৫ টি নতুন বইয়ের মোড়ক উম্মোচন

আরব আমিরাতে জাতীয় কবিতা মঞ্চে ৩৫ টি নতুন বইয়ের মোড়ক উম্মোচন।

52599206_1071077409750572_12672979611680768_n
 
জাতীয় কবিতা মঞ্চ আরব আমিরাতের উদ্যোগে সোমবার আবুধাবীতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে আমিরাত দেশ ও প্রবাসী লেখকদের ৩৫ টি বইয়ের মোড়ক উম্মোচন করা হয়। পবাসে শত কর্মব্যস্ততার মাঝেও প্রবাসী লেখকরা যেভাবে বই প্রকাশ করে যাচ্ছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
বক্তারা বলেন, ভাষার জন্য রক্ত দিয়ে অর্জন করা হলেও এখনও পর্যন্ত অনেক ক্ষেত্রে ভাষার শুদ্ধ প্রচলন দেখা যায়না। তাই বাংলা ভাষার প্রতি যত্নশীল হওয়ার আহবান জানান বক্তারা।প্রবাসের কঠিন কর্ম ব্যস্ততার মাঝে সাহিত্য চর্চা খুবই কষ্টসাধ্য ও দুর্লভ। তারপরও এই কঠিন বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে যারা সাহিত্যকে বুকে ধারণ করে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করে যাচ্ছেন তারা সাহিত্যাঙ্গনে জাতির জন্য এক একটি নক্ষত্র।গত কাল
বৃহস্পতিবার তে আবুধাবীস্থ রজনীগন্ধা সি আই পি হল
রুমের জাতীয কবিতা মঞ্চ আরব আমিরাত কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও প্রকাশনা উৎসব’১৯ইং উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের বক্তারা এসব কথা বলেন।
51978509_396107597820744_2542316856195153920_n
 
আরো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও প্রকাশনা উৎসব -১৯ইং জাতীয় কবিতা মঞ্চের আয়োজিত একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলনের আলোকচিত্র প্রদর্শনী অয়োজন করা হয়। উদ্বোধক ছিলেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, বীর মুক্তিযোদ্ধা, জাতীয় কবিতা মঞ্চ, সংযুক্ত আরব আমিরাত কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মানিত উপদেষ্টা, কবি,লেখক জহির উদ্দিন।
 
জাতীয় কবিতা মঞ্চ আরব আমিরাতের সভাপতি কবি মোহাম্মদ মুসার সভাপতিত্বে ও লেখক মোহাম্মদ জাফর উদ্দিন ভূঁইয়া উপস্থাপনায় সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কবি মোহাম্মদ মনির উদ্দিন মান্না, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় কবিতা মঞ্চ, সংযুক্ত আরব আমিরাত কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মানিত প্রধান পৃষ্ঠপোষক, আল সুমাইয়া গ্রুপের সম্মানিত চেয়ারম্যান, মীরসরাই সমিতি, সংযুক্ত আরব আমিরাত এর সম্মানিত সভাপতি , একজন বিজনেস আইকন,বিশিষ্ট শিল্পপতি, মানবতার কবি প্রতিষ্ঠাতা ফখরুল ইসলাম সি আই পি, প্রধান বক্তা ছিলেন আবুধাবী শেখ খলিফা বিন জায়েদ বাংলাদেশ ইসলামিয়া স্কুল এন্ড কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল কাজী আবদুর রহিম, বিশেষ বক্তা ছিলেন জাতীয় কবিতা মঞ্চের প্রধান উপদেষ্টা,সমাজ সেবক, আলহাজ মাজহার উল্লাহ মিয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন মিরসরাই সমিতির প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ আবুল হাশেম ভূঁইয়া, মোহাম্মদ হানিফ, উপদেষ্টা জাফর উল্লাহ, সেন্ড মেরিন গ্রুপ অব কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাঈনুদ্দিন, ডা. শেখ শামসুর রহমান, কবি জানে আলম, কবি ও কলামিস্ট মোহাম্মদ সাইফুল আলম সাইফ, ভাইস
প্রেসিডেন্ট ফাষ্ট আবুধাবি ব্যাংকের মোহাম্মদ হাবিবুল মোস্তফা, লেখিকা শারমিন আক্তার জেলি, কবি আজমা বেগম, কবি জরিফা আক্তার, ইনাম হায়দার
দিলোয়ারা সুমি, মোঃ আশরাফ সিদ্দিকী, জাকিয়া সুলতানা, আশরাফ খান,বান্টি আশরাফ, মাহবুব আলম,হাবিবুল্লাহশাহেদা আক্তার পপি কবি সুফিয়া বেগম সহ প্রমুখ।
52441760_2318246525126531_8535776317117825024_n
 
অনুষ্ঠানে প্রবাসী কবি সাহিত্যিকদের কাব্য সঙ্কলন বিজয় থেকে বিজয়ে,শেষ বিদায়, রুপালী গাঁয়ের ফুটন্ত কলি, কবিতাকুঞ্জ, ফখরুল ইসলাম একজন আলোকিত মানুষের অবক্ত্য কথা, অর্ধেক প্রমিকা, টেলিভিশন সংবাদ ও উপস্থাপনা কৌশল, যৌথ জিবনের বিদ্যা,সপ্ত রঙ্গে পঞ্চ রসিক,স্বপ্নশব,শান্তির দর্পন, অমরাবতীর কথা, অসমান্ত অনুভূতি, বস্ততে তুমি এলে, তুমি আমি ও শরৎ, জল আর জিবনের গান, নদী ও গাছের গল্প, রঙধুন বিকেল, লাল সবুজের চিরকুট, নৈঃশব্দ্যোর দীর্ঘশাস, হৃদয়ে গহীনে,একুশ আমার বর্ণমালা, চেতনার রঙধনু, হৃদয়ে নিসর্গ,চিওবৃওি, যুবরাজের ছড়া, মনে পড়ে আবৃত্তি এ্যালবাম, সহ নতুন বইয়ে মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
 
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, কবি, সাহিত্যক সাংবাদিক, ছড়াকারসহ প্রবাসী বাংলাদেশীরা উপস্থিত ছিলেন।।

আরব আমিরাতে দৈনিক যুগান্তরের ২০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত।

আরব আমিরাতে দৈনিক যুগান্তরের ২০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত।

50299899_589956284750796_920428091581399040_n
মোহাম্মদ মনির উদ্দিন মান্না:-
সাহসী অভিযাত্রা দুই দশকে যুগান্তর’ স্লোগানকে ধারণ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে ব্যাপক আনন্দ উদ্দীপনায় উদযাপিত হয়েছে দৈনিক যুগান্তর ’ এর ২০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। শনিবার রাত ৯ টা, মানবতার কবি ফখরুল ইসলাম খান সি আই পির সম্মেলন মিলনায়তনে পত্রিকাটির দৈনিক যুগান্তর স্বজন সমাবেশ, আরব আমিরাতের আয়োজনে আনন্দ ঘন পরিবেশে কেক কাটা, কবিতার আসর, আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে এ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়।
 
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন- দৈনিক যুগান্তর স্বজন সমাবেশ, সংযুক্ত আরব আমিরাত এর প্রধানউপদেষ্টা, জাতীয় কবিতা মঞ্চ, সংযুক্ত আরব আমিরাত কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মানিত প্রধান পৃষ্ঠপোষক, মিরসরাই সমিতি সম্মানিত সভাপতি, আল সুমাইয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান,বিশিষ্ট সমাজ সেবক, শিল্পপতি ও মানবতার কবি ফখরুল ইসলাম খান সি আই পি ।
 
এ সময় তিনি বলেন, পত্রিকাকে পাঠকরা নেতিবাচক নয়, ইতিবাচক হিসাবে গ্রহণ করায় এভাবে সাড়া মিলেছে। এটি শুধু সংবাদ প্রকাশের মাধ্যম নয় দেশের উন্নয়নে পত্রিকার যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। বিভিন্ন উন্নয়ন মুলক সংবাদ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশিত হয় দৈনিক যুগান্তর এ। সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের চেয়ে আরো শক্তিশালী মাধ্যম হিসাবে কাজ করে। এই পত্রিকার কল্যাণে অনেক নির্যাতিত মহিলা সঠিক বিচার পেয়েছে। অনেকের ভেঙ্গে যাওয়া সংসার আবার জোড়া লেগেছে। যা দেশের এবং সমাজে কল্যাণ বয়ে আনতে সহায়তা করে। পাঠক চায় এ পত্রিকা ধাপে ধাপে আরো এগিয়ে যাক। জাতির কল্যাণে ও সমাজ সচেতনতা ভূমিকা রাখবে।এবং সকল প্রবাসীদের পাশে থাকবে।
তিনি আরো বলেন, গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী আর রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হচ্ছে গণমাধ্যম। সময়ের ব্যবধানে গণমাধ্যমে এসেছে নানা পরিবর্তন ও সংযোজন। এক সময় গণমাধ্যম বলতে সংবাদপত্রই ছিল মুখ্য। বর্তমান আধুনিক বিশ্বের গণমাধ্যম বিল্লবে বাংলাদেশেরও মিডিয়ার জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
 
আরব আমিরাত এর দৈনিক যুগান্তর স্বজন সমাবেশ সভাপতি, প্রবাসী সাংবাদিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক, জাতীয় কবিতা মঞ্চের সম্মানিত সভাপতি, বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক মুহাম্মদ মুসার সভাপতিত্বে ও দৈনিক যুগান্তর স্বজন সমাবেশের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা, লেখক ও সাংবাদিক মোহাম্মদ জাফর উদ্দিন ভূঁইয়া র সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন- দৈনিক যুগান্তর স্বজন সমাবেশ এর সম্মানিত সাধারণ সম্পাদক, কবি ও সাংবাদিক মোহাম্মদ মনির উদ্দিন মান্না, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন – বিশিষ্ট কবি ও কলামিস্ট মোহাম্মদ জানে আলম, বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা মোহাম্মদ তারেকুল ইসলাম চৌধুরী রুবেল।
 
অনুষ্ঠান শুভ উদ্বোধন করেন, দৈনিক যুগান্তর স্বজন সমাবেশ এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান
বীর মুক্তিযোদ্ধা, কবি ও লেখক জহির উদ্দিন, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবুধাবি শেখ খলিফা বাংলাদেশ ইসলামিয়া স্কুল এন্ড কলেজ এর ভাইস প্রেন্সিপাল কাজি আব্দুর রহিম, কবি ও অধ্যাপিকা জেবুন নাহার,বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী মোহাম্মদ হানিফ,, দৈনিক যুগান্তর স্বজন সমাবেশ এর সহ সভাপতি কবি ও লেখক মির্জা মোহাম্মদ আলী,প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ আরাফাতুর ইসলাম চৌধুরী, কবি ও লেখক আজিম উদ্দিন, লেখক মোহাম্মদ সেলিম, কবি শারমিন আক্তার, আল আমিন জয়, বাবু দীপক চন্দ্র দাস সহ প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের জন্য দৈনিক যুগান্তরের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও রাষ্ট্রের কল্যাণে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য আহ্বান জানান।
 
এ সময় দৈনিক যুগান্তর স্বজন সমাবেশএর সাধারণ সম্পাদক, কবি ও সাংবাদিক মোহাম্মদ মনির উদ্দিন মান্না পত্রিকাটির প্রকাশক, সম্পাদক ও যুগান্তর স্বজন সমাবেশের পক্ষ থেকে সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে দৈনিক যুগান্তর দেশব্যাপী তথ্য সমৃদ্ধ, নির্ভুল ও জনকল্যাণমুলক সংবাদ পরিবেশন করে আসছে। আজকের এই আয়োজনে আপনাদের উপস্থিতি জন্য দৈনিক যুগান্তর স্বজন সমাবেশের পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের জন্য রইল শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ।
 
এ সময় তিনি আগামীতেও পত্রিকাটির এ ধারা অব্যাহত রাখতে ও আরব আমিরাত এর কল্যাণে কাজ করতে সকলের সহযোগিতা চাইলেন।

বাংলাদেশ কবি পরিষদ (বাকপ)-এর সাক্ষাতকার পর্ব-১৩ কবি দীলিপ দাশ

আজকের কবিঃ কবি দীলিপ দাশ, সাক্ষাতকার গ্রহণেঃকবি সাজিব চৌধুরী । 

 

আজকের কবিঃ কবি দীলিপ দাশ,
সভাপতি, ভারত বাংলাসাহিত্য বাকপ পরিবার।
সাবেক আন্তর্জাতিক কবি পরিষদ থেকে কাব্যসারথি খেতাবপ্রাপ্ত কবি।
সাক্ষাতকার গ্রহণেঃ সাজিব চৌধুরী,
স্থায়ী/আজীবন সদস্য, বাংলাদেশ কবি পরিষদ(গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত)।
প্রধান সমন্বয়ক, ভারত বাংলাসাহিত্য বাকপ পরিবার।

কবি পরিচিতিঃ

কবি দীলিপ দাশ ১৯৫৫ সালের ৩১ আগষ্ট বুধবার সদ্যযৌবনা রাতে এক শুভ মুহুর্তে এই সুন্দর পৃথিবীর আলো বাতাসে আগমন।
পিতা স্বর্গীয় চিত্তরঞ্জন দাশ এবং মাতা মহামায়া দাশের স্নেহপরশে শৈশব, কৈশোর অতিক্রম করেন,যৌবনের সাথে পরিচয়ের আগেই তাঁর পিতৃবিয়োগ ঘটে।নানা প্রতিকুল পরিস্থিতির সঙ্গে যুদ্ধ করে মা মহামায়া দাশ দুই ভাই ও এক বোনকে লালন পালন করে মানুষ করেছেন। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি পড়ালেখা চালিয়ে গেছেন। স্নাতক পর্যন্তই তাঁর একাডেমিক শিক্ষা।বাংলার ছাত্র হিসাবে বাংলা কবিতার প্রতি রয়েছে অফুরান প্রেম। তিনি বলেন, “অভাবের তাড়নায় চাকুরীতে যোগদান।যদিও পরে সম্মান জনক পদে সম্মানের সহিত বহাল ছিলাম।এখন অবসর নিয়েছি মাস ছয়েক হবে। দারাপুত্র পরিবার নিয়ে আমি সুখী,
এখন একমাত্র কাজ কাব্য সাধনা।”
কবি দিলীপ দাশকে আমরা সনেট-কবি হিসাবেই বেশি চিনি যদিও তিনি বিভিন্ন ছন্দে অসংখ্য কবিতা লিখেছেন। তিনি বিভিন্ন সাহিত্য সংগঠন থেকে অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন।

বাকপঃ লেখালেখি কখন থেকে শুরু?

দীলিপ দাশঃ আমার লেখালেখি শুরু ছাত্রজীবন থেকেই যদিও মূল্যায়ন পাইনি।স্কুল ,কলেজের ম্যাগাজিনে কিছু কবিতা প্রকাশিত হয়েছিল।

বাকপঃ লেখালেখির প্রেরণা কোথায় থেকে পেয়েছেন? 

দীলিপ দাশঃ
আমি মায়ের কাছ থেকে প্রেরণা পেয়েছি।আমাদের বাড়িতে শ্রাবণ মাসে মা মনসামঙ্গল পাঠ করতেন ,তখন কাছে বসে শুনতাম, তখন থেকেই ছন্দময়তার উপর আমার আকর্ষণ ছিল। মা সুর করে পয়ার , ত্রিপদী, লাছাড়ী পড়তেন আর আমি মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনতাম। তার পর মায়ের সাথে সহযোগ করা শুরু হলো, আমিও গাইতে শুরু করি।এই পদ্মপূরাণ থেকেই আমার ছন্দময় আকর্ষণ, আর ছন্দ থেকে পদ্য লেখার উৎসাহ।

বাকপঃ আপনার প্রথম লেখা সম্পর্কে বলুন।

দীলিপ দাশঃ
আমার জীবন প্রখম লেখার সাহস করি যখন ক্লাস সেভেনে পড়ি।তখন আমার স্কুলে রজতজয়ন্তী উপলক্ষে স্মরণিকা বের হয়। সাহস করে একখানা পদ্য লিখে জমা দিয়েছিলাম।তা প্রকাশিত দেখে যা আনন্দ হয়েছিল ভাষা নেই ব্যক্ত করার মত।তারপর অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা শুরু করি, কোনটা প্রকাশিত হতো, কোনোটা হত না।লিখা কিন্তু বন্ধ করিনি আমি। ভুল শুদ্ধ যাহোক প্রবণতা বেড়ে গেলো। চলছে এখনো।

বাকপঃ আপনার প্রিয় কবি/লেখক কারা?

দীলিপ দাশঃ
অন্তরে তো রবীন্দ্র, নজরুল, সুকান্ত, আর প্রিয়কবি বলতে গেলে মাইকেল মধুসুদন,জীবনানন্দ প্রমুখ।

বাকপঃ কবিতা সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?

দীলিপ দাশঃ
কবিতা সম্বন্ধে আমার অভিমত
কবিমননের প্রতিবিম্বের প্রতিফলনে যে চিত্র অঙ্কিত হবে কবির ক্যানভাসে তাহাই কবিতা।কবিতা শেখার কোনো ইউনিভার্সিটি নেই, কবিতা নির্মাণ ঈশ্বর প্রদত্ত বলে আমার বিশ্বস।
আজকাল মানুষের জীবনশৈলীর যেমন বিবর্তন হয়েছে কবিতার ক্ষেত্রেও রুচিবোধের বিবর্তন ঘটেছে ফলে রবীন্দ্রযুগ থেকে ক্রমবর্ধমান আধূনিক নির্মাণশৈলীর প্রবর্তনে কবিতার পরিবর্তনশৈলী লক্ষ্যনীয়।তবুও আমি ছন্দময়তার উপর গুরুত্ব আরোপে বিশ্বাসী।
কবিতা পাঠে পাঠক হৃদয়ে ছন্দময়তার দোলা যদি অনুভূত না হয় সেটাকে কাব্যগুণে ধনী কবিতা আমি মনে করি না।
যদিও আধূনিক কবিতা আজ বিশ্বমানের মহিমায় সুপ্রতিষ্ঠিত।

বাকপঃ আপনার ভাললাগা বা মন্দলাগা বিষয় সম্পর্কে কি একটু বলবেন?

দীলিপ দাশঃ
দিনে চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে সিংহভাগ সময় যদি কাব্যসাধনায় অতিবাহিত হয় তখন অবশ্যই বলবো কবিতা নির্মাণ আমার সব চেয়ে ভালো লাগে।
আর সব চেয়ে ঘৃণা করি পরনিন্দা, পরচর্চা, ঈর্ষা, আর তুষ্টিকরণ। এই আমার ভালো মন্দের এপিট ওপিট।

বাকপঃ গ্রুপ সাহিত্য নিয়ে আপনার ধারণা কী?

দীলিপ দাশঃ
গ্রুপ সাহিত্য তো ঈশ্বরের অনন্য বরদান মনে করি আমি।
তুষ্টিকরণের বদান্যতায় অনেক ভাল লেখকও ডাষ্টবিন দেখে।
অনলাইন গ্রুপ সাহিত্য অনেক কবি লেখক আবিস্কারে যে অবদান রেখেছে তা ঈর্শনীয়।নিন্দুকেরা যে যা বলুক
গ্রুপের বদান্যতায় এখন অনেক কবি স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত। বিশ্বমানের কাব্যচর্চার পথ প্রসস্থ করে সাহিত্য আকাশের পরিধি প্রসারিত করার লক্ষ্যে ব্রতী এই গ্রুপ সাহিত্যচর্চা, তা অস্বীকার করার কথা নয়।

বাকপঃ আপনি তো ভারত বাংলাসাহিত্য বাকপ পরিবারের সম্মানিত সভাপতি। এই সাহিত্যসংগঠন আপনার কাছে কেমন লাগে?

দীলিপ দাশঃ
ভারত বাংলাসাহিত্য বাকপ পরিবারের সভাপতি হিসেবে আমি অত্যন্ত গর্বিত।
এই সংগঠন আমার অন্তরে প্রতিষ্ঠিত সে বিষয়ে দ্বিমত থাকার কথা নয়। এটি অন্য যেকোন সংগঠন থেকে ভিন্ন।

বাকপঃ সাহিত্য নিয়ে আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী?

দীলিপ দাশঃ
বাংলা সাহিত্যে প্রচার ও প্রসারে মনোনিবেশ করাই লক্ষ্য।পাশাপাশি আমি এখন সনেট সাধনায় মগ্ন, আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো ১০০ সনেটের অর্ঘ্য সাজিয়ে সনেট শতক,, কাব্যগ্রন্থ উন্মোচন করা এবং এটাই একমাত্র লক্ষ্য।

বাকপঃ বর্তমান প্রজন্মের উদ্দেশ্যে আপনার কি কিছু বলার আছে, প্রিয় কবি?

দীলিপ দাশঃ
আমি বর্তমান প্রজন্মের উদ্দ্যেশ্যে একটি কথাই বলবো, তারা যেন যে কোন পরিস্থিতিতে নিজের মাতৃভাষার প্রতি দায়বদ্ধতা ভুলে না যায়।কেন না রক্তের বিনিময়ে এসেছে আমাদের কাঙ্ক্ষিত মাতৃভাষা।
তাই মাতৃভাষার প্রচার ও প্রসারের নৈতিক দায়িত্বও আমাদেরই, সে কথা ভুলে গেলে চলবে না।

বাকপঃ আপনার মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

দীলিপ দাশঃ বাকপ পরিবারের সকলের প্রতি অনিঃশেষ ভালোবাসা।
————————-
তারিখঃ ২৯/০১/১৯ ইং।

গঠিত হলো বাংলাদেশ কবি পরিষদ(বাকপ ) ঢাকা মহানগর কমিটি

গত (২৫/০১/২০১৯ইং) বাংলাদেশ কবি পরিষদ(বাকপ) আয়োজিত সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্র ঢাকা’য় অনুষ্ঠিত হলো সাহিত্য আলোচনা,কবিতা পাঠ, কবি ফয়জুর রহমানের “পদ্মপাতায় চাঁদ”কবি মাহাবুবা লাকির ” অপেক্ষার প্রহর” কবি কায়সার উদ্দিন জালালের ” কালের স্রোত”কবি সেলিম মিয়ার “কুমার নদীর বাঁকে” কবি সজীব চৌধুরীর “চাঁদ মুখে চাঁদ হাসি ও বাংলাদেশ কবি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা কবি এম মোস্তাকিম বিল্লাহ্’র ” লাল সবুজের চিরকুট” কাব্যগ্রন্থের পাঠ-উন্মোচন,সংবর্ধনা ও সাংগঠনিক সম্মাননা ২০১৮ইং ও বাংলাদেশ কবি পরিষদের ঢাকা মহানগর কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন বাংলাদেশ কবি পরিষদের সম্মানিত সিনিয়র পরিচালক কবি মাহাবুবা লাকি ,নিম্নে তাদের নাম দেয়া হলো ।
 
বাংলাদেশ কবি পরিষদ
ঢাকা মহানগর কমিটি :
’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’’
উপদেষ্টা পর্ষদ :
—————————–
কবি সাজেদুর রহমান ( অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ঢাকা )
জাকির হোসেন (যুগ্ম-সচিব, রোডস এন্ড হাই )
আফসারুল হক(অবসরপ্রাপ্ত সচিব)
এটি এম ফারুখ (এডিশনাল ডিআইজি)
 
’কবি আতিক হেলাল
কবি লুৎফর চৌধুরী
কবি ফাতিমা মোমতাজ
তজিমুল হক
,
আলহাজ্ব: ফখরুল আলম
,
মোঃ হাবিবুল বসার
 
পরিচালনা পর্ষদ :
——————-
 
সভাপতি: ওয়েসুর রহমান
সহ-সভাপতি: নাসরিন লুনা,
সহ-সভাপতি :মকবুল হোসেন,
সহ-সভাপতি:তাহামিনা বেগম,
সহ-সভাপতি:কবি জাকির হোসেন,
সহ-সভাপতি হামিদ সরকার,
সাধারণ সম্পাদক: -মুহাম্মদ মিজানুর রহমান
সহ-সাঃ এস এম আনোয়ার হোসেন,
সহ-সাঃ আখতারুজ জামান
সাংগঠনিক সম্পাদক :ফাতেমা ইসরাত রেখা,
সহ-সাঃ দেলোয়ার হোসেন ,
সহ-সাঃসাজ্জাদ হোসেন,
মহিলা বিষয়ক সম্পাদকঃ আইরিন এস ইসলাম
,
সহ- মহিলা বিষয়ক সম্পাদকঃতাবাসসুম বিনতে আরোহী
আবৃতি বিষয়ক সম্পাদকঃসৈয়দ ইকতেদার,
আন্তর্জাতিক সম্পাদকঃ কুরবান আলী বিশ্বাস
,
ত্রাণ ও দুর্যোগ সম্পাদক: আশফাকুর রহমান,
সহ- ত্রাণ ও দুর্যোগ সম্পাদকঃ দেওয়ান ইকবাল,
সাংস্কৃতি সম্পাদক: আহমেদ জুয়েল,
সহ-সাংস্কৃতি সম্পাদক: এস এইচ সুজয়
,
সাহিত্য সম্পাক: শামীম আরা সীমা,
সহ-সাহিত্য সম্পাদক:আহমেদ কায়েস
সহ-সাঃ সঃ ইলা ইনাম
কার্যনিবার্হী সদস্য:
——————————
গাজী ইকবাল,
সোহেল আরিয়ানা,
সালেহ আহমেদ ফয়সাল,
মাহাবুল্লাহ বাসিত,
রাকিবুল ইসলাম।
 
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দেশবরেণ্য কবি কবি নির্মলেন্দু গুণ,কবি অসীম সাহা,কবি বিমল গুহ, কবি মাসুদ পথিক,উপ-পুলিশ সুপার কবি সাজেদুর রহমান,কবি তপন বাগচি,বাংলাদেশ কবি পরিষদের সম্মানিত উপদেষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক কবি ফয়জুর রহমান কবি কায়সার উদ্দিন জালাল,কবি আতিক হেলাল,কবি সেলিম মিয়া (ওসি নারায়ণগঞ্জ,রূপগঞ্জ সোনারগাঁও থানা) কবি সাজীব চৌধুরী,কবি সুলতা আদিত্য,কবি শিলু জামান, কবি রীনা পারভীন,ও কবি শাহ্ নিয়ামত উল্লাহ্’র হাতে, এছাড়াও উপস্থিত থাকেন বাংলাদেশ কবি পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মানিত পরিচালকবৃন্দ ও দেশবরেণ্য কবি সাহিত্যিক সাংবাদিক ও অতিথিবৃন্দ ।
 
সকলকে বাংলাদেশ কবি পরিষদ (বাকপ ) কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষথেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান কবি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা কবি এম মোস্তাকিম বিল্লাহ্ তিনি আশা ব্যক্ত করেন এ কমিটি সাহিত্য ও সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন ।

হোসেনপুর শাহ্ মাহবুবুল হককে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসাবে পেতে চায় এলাকার সাধারণ জনগণ।

হোসেনপুরের জনমানুষের নেতা শাহ্ মাহবুবুল হককে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসাবে পেতে চায় এলাকার সাধারণ জনগণ। সাধারণ মানুষদের কাছে এতো জনপ্রিয় হওয়ার কারন। 
50770345_315842922386200_2846373602717073408_n
তিনিছাত্রজীবনের শুরু থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৭৮ সালে তিনি হোসেনপুর উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮৪ সালে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি রাজনৈতিক নেতা নয়, জননেতা হিসাবে হোসেনপুরের মানুষের মনে জায়গা করে নেন। ১৯৯১ সালে শাহেদল ইউনিয়নের সাধারন জনগণ উনাকে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন করতে বলায় তিনি রাজি না হলে ইউনিয়ের জনগণ তাঁর বাড়িতেই অনশন শুরু করে। তারপর তিনি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সেই বছরেই তিনি হোসেনপুর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের মাঝে সর্বোচ্চসংখ্যক ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা এই জননেতা ১৯৯৬ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন, যা এখনো চলমান । জনগণের কাছে নিজের সততার এবং গণমানুষের নেতা হবার কারণে। ১৯৯৬ সালে দ্বিতীয়বার চেয়ারম্যান হিসেবে প্রথমবারের চেয়ে বারের চেয়ে ৩গুন ভোট বেশি পেয়ে আবারও চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন এবং বিএনপি-জামাত জোটের নির্মম অত্যাচার ও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সাহসিকতার সাথে মোকাবেলা করে ২০০৩ সালে আবারো তিনি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালে চতুর্থবারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে। কিশোরগঞ্জ জেলা ও উপজেলা নির্বাচনের সব রেকর্ড ভেঙে দেন। দায়িত্ববোধ ও সততার কারণে কিশোরগঞ্জ জেলা চেয়ারম্যান এসোসিয়েসনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে সততা ও নিষ্ঠার সাথে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। তিনি শুধুমাত্র জননেতাই নন! একজন জনপ্রিয় ফুটবল খেলোয়াড় হিসাবেও হোসেনপুর উপজেলার মানুষের কাছে পরিচিত। সেজন্য তিনি উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন যাবত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সাংস্কৃতিক জগতেও সমানভাবে বিচরণ, অভিনয় করেছেন ৫০ টিরও বেশি মঞ্চ নাটকে। জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য হিসাবে তিনি দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি বিভিন্ন স্কুল কলেজ এবং মসজিদ কমিটির সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি একাধারে খেলোয়ার এবং ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে ব্যাপক সুনামের অধিকারী। সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও আছে ব্যাপক সুনাম। সবকিছু বিবেচনা করে হোসেনপুরের সাধারণ জনগণ এবার উপজেলা চেয়ারম্যান হিসাবে পেতে চায় তাদের প্রিয় মাহবুব ভাইকে।

দিনব্যাপী আয়োজনে বা.ক.প .নাঃগঞ্জ জেলা কমিটি অভিষেক ও কাব্যগ্রন্থের পাঠ-উন্মোচন

আজ সোনারগাঁ রয়েল রিসোর্টে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ কবি পরিষদ(বাকপ)-এর আয়োজনে দিনব্যাপী সাহিত্য আলোচনা, বনভোজন, কবি সেলিম মিয়ার কুমার নদীর বাকে ও বাংলাদেশ কবি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা এম মোস্তাকিম বিল্লাহর লাল সবুজের চিরকুট কাব্যগ্রন্থের পাঠ- উন্মোচন ও বাকপ নারায়ণগঞ্জ শাখা কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠান ।

50810093_2004994202953922_7740830376603418624_n

প্রথম অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সম্মানিত সাংসদ সদস্য জনাব মোঃলিয়াকত হোসেন খোকা,প্রধান আকর্ষণ হিসাবে উপস্থিত থাকেন দেশ বরেণ্য কবি হেলাল হাফিজ, অধিবেশনটি উদ্বোধক করেন জনাব শাহীনুর ইসলাম(উপজেলা নির্বাহী অফিসার) বিশেষ আলোচক থাকেন জনাব এ বি এম রুহুল আমিন রিমন(সহকারী কমিশন,ভূমি অধিদপ্তর) জনাব মোর্শেদ আলম পি.পি.এম অফিসার ইনচার্জ,সোনারগাঁও থানা।অনুষ্ঠানটি সভাপতি আসন অলংকৃত করেন সভাপতি: জনাব মীর আব্দুল আলীম,( সভাপতি রূপগঞ্জ প্রেসক্লাব) জনাব এন আলম অন্ত,জনাব,আল আমিন তুষার,জনাব শাহীদুল্লাহ গাজী এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি পরিচালনা হয় অতিথিদের বক্তব্য ও সভাপতির বক্তব্যের মাধ্যমে প্রথম অধিবেশনটি সমাপ্ত ঘোষণা করা হয় ।
এছাড়াও উপস্থিত থাকেনন সোনারগাঁও উপজেলাধীন সকল ইউপি(পৌর)চেয়ারম্যান,গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, কবি,সাহিত্যিক,সাংবাদিক ও বিশিষ্টজনেরা।

মধ্যাহ্ন ভোজন ও বিরতির পরবর্তী শুরু হয় দ্বিতীয় অধিবেশন—-

প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকেন শুদ্ধতার কবি : কবি অসীম সাহাসম্মানিত অতিথির আসন গ্রহণ করেন : কবি ও গবেষক ড. নূহ-উল-আলম লেনিন ( সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য বাংলাদেশ আঃলীগ ) বিশেষ অতিথি উপস্থিত থাকেন কবি আসলাম সানী,
কবি ও চলচিত্র নির্মাতা ড.মাসুদ পথিক,কবি অঞ্জনা সাহা,,
কবি আতিক হেলাল সুজন হাজং,জনাব মীর আব্দুল আলীম,(গবেষক, কলামিস্ট ও সভাপতি রূপগঞ্জ প্রেসকাব)
জনাব এ বি এম রুহুল আমিন রিমন(সহকারী কমিশন,ভূমি অধিদপ্তর) জনাব মোর্শেদ আলম পি.পি.এম অফিসার ইনচার্জ,সোনারগাঁও থানা।স্বাগত ভাষণ দেন :কবি সেলিম মিয়া ( প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক,বা.ক.প.)বাচিকশিল্পী হিসাবে উপস্থিত থাকেন: সৈয়দ ইখতেদার,এন আলম অন্ত,কবি মিজানুর রহমান,এস এস সুজয় ও অন্যান্যরা বাংলাদেশ কবি পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি,ঢাকা কমিটির সম্মানিত পরিচালক ও সদস্যবৃন্দ সম্মানিত বক্তারা বাংলাদেশ কবিপরিষদের তৃন্যমূল পর্যায়ে সাহিত্য ও সামাজিক উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন, এছাড়াও উপস্থিত থাকেনন সোনারগাঁও উপজেলাধীন সকল ইউপি(পৌর)চেয়ারম্যান,গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, কবি,সাহিত্যিক,সাংবাদিক,ও বিশিষ্টজনেরা,বাংলাদেশ কবি পরিষদের সম্মানিত সিনিয়র পরিচালক কবি মাহাবুবা লাকীর সভাপতিত্বে বাংলাদেশ কবি পরিষদের সাংগঠনিক কার্যক্রমের নানানদিক তুলে ধরেন অবশেষে বাংলাদেশ কবি পরিষদের নারায়ণগঞ্জ শাখা কমিটির উপদেষ্টা মীর আব্দুল আলিম(বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক, সভাপতি রূপগঞ্জ প্রেসক্লাব ) সভাপতি-কবি রণজিৎ মোদক ও সাধারণ সম্পাদক কবি সেলিম মিয়া সহ ১৯ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করে ,দিকনির্দেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সমাপ্তি করা হয় । সেই সাথে বাংলাদেশ কবি পরিষদের সম্মানিত প্রতিষ্ঠাতা কবি এম মোস্তাকিম বিল্লাহর শুভেচ্ছা বার্তায় উপস্থিত সকল সম্মানিত অতিথি কবি- লেখক সাংবাদিকদের শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ।

50515070_2004994806287195_2353437465966018560_n